বাকস্বাধীনতা ও সম্মানহানি বিবেচনায় সাইবার আইন সংশোধন: আইনমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ১২:২০:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫২৭ বার পড়া হয়েছে
বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ব্যক্তির সম্মানহানি ঠেকানোর বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট হলে আয়োজিত ইউএস কনস্টিটিউশন ডে সেলিব্রেশন অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
আইনমন্ত্রী বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের কাজ এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সংশোধিত আইনে নাগরিকের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, ব্যক্তির মর্যাদা এবং অনলাইনে তথ্য প্রচারের বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হবে।
খসড়া পর্যায়ে রয়েছে সংশোধনী
আইনমন্ত্রী জানান, সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের কাজ বর্তমানে খসড়া পর্যায়ে রয়েছে। আইনটি চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
তিনি বলেন, জনগণ যে ধরনের আইন চায়, সরকার সে ধরনের আইনই প্রণয়ন করবে। এ জন্য এর আগে আইনটি নিয়ে গণমাধ্যমের সম্পাদকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত নেওয়া হয়েছে।
আইনমন্ত্রী আরও জানান, সংশোধনী তৈরির সময় বিভিন্ন পক্ষের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। এতে আইনের প্রয়োজনীয়তা, বাস্তব প্রয়োগ এবং নাগরিক অধিকার—সবকিছুই পর্যালোচনা করা হবে।
বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব
সাইবার সুরক্ষা আইন সংশোধনের ক্ষেত্রে মানুষের বাকস্বাধীনতা নিশ্চিত করাকে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছেন আইনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, একজন নাগরিক যেন তার মতামত প্রকাশ করতে পারেন, সেটি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সেই স্বাধীনতার অপব্যবহার করে অন্য ব্যক্তির অধিকার বা মর্যাদা ক্ষুণ্ন করা যাবে না।
আইনমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন আইনে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও ব্যক্তির সম্মান রক্ষার মধ্যে একটি ভারসাম্য রাখার চেষ্টা করা হবে।
সম্মানহানি ঠেকাতেও থাকবে বিধান
অনলাইনে কোনো বক্তব্য, পোস্ট বা কর্মকাণ্ডের কারণে যেন কারও সম্মানহানি না হয়, সেদিকেও নজর দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বাকস্বাধীনতার অধিকার যেমন রক্ষা করতে হবে, তেমনি একজন ব্যক্তির সম্মান ও মর্যাদার বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। সংশোধিত আইনে এ দুই দিক সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় বিধান রাখা হবে।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, সাইবার জগতে মানুষের ব্যক্তিগত অধিকার ও সামাজিক মর্যাদা রক্ষার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। তাই আইন সংশোধনের সময় এ বিষয়ে যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া হবে।
অপতথ্য ছড়ানো ঠেকানোর বিষয়ও বিবেচনায়
নতুন সাইবার সুরক্ষা আইনে অনলাইনে অপতথ্য ছড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পাবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সাংবাদিকতার নামে যেন কেউ অনলাইনে অপতথ্য ছড়াতে না পারে, সেটিও নতুন আইনে বিবেচনায় রাখা হবে।
তবে একই সঙ্গে সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার বিষয়টিও বিবেচনায় থাকবে বলে জানান তিনি। অর্থাৎ অনলাইনে তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে স্বাধীনতা এবং দায়িত্বশীলতার মধ্যে সমন্বয় করার বিষয়টি সংশোধিত আইনে গুরুত্ব পাবে।
অংশীজনের মতামত নিয়ে চূড়ান্ত হবে আইন
আইনমন্ত্রী বলেন, সাইবার সুরক্ষা আইন একটি গুরুত্বপূর্ণ আইন। তাই এটি চূড়ান্ত করার আগে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পক্ষের মতামত নেওয়া হবে।
গণমাধ্যমকর্মী, সম্পাদকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামত এরই মধ্যে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। পরবর্তী ধাপেও প্রয়োজন অনুযায়ী অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
তিনি বলেন, মানুষের অধিকার সুরক্ষার পাশাপাশি সাইবার মাধ্যমে অপতথ্য বা অন্যের সম্মানহানির মতো বিষয়গুলো মোকাবিলায় কার্যকর ব্যবস্থা থাকতে হবে। এ লক্ষ্যেই সংশোধিত আইন তৈরির কাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
আইনমন্ত্রী আরও জানান, খসড়া প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সংশ্লিষ্টদের মতামত ও পরামর্শ বিবেচনা করে আইনটি চূড়ান্ত করা হবে।


























