ভালো অর্জনের স্বীকৃতি দেবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ১২:২৯:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৩০ বার পড়া হয়েছে
দেশের সন্তানরা মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে ভালো কিছু অর্জন করলে সরকার রাষ্ট্রীয়ভাবে তার স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত ৪৬তম কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক পবিত্র কোরআন প্রতিযোগিতায় পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশের হাফেজদের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
মেধাবীদের উৎসাহিত করার নীতি সরকারের
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অর্জিত সাফল্য শুধু ব্যক্তির নয়। এর সঙ্গে দেশের সম্মানও জড়িত। তাই মেধাবীদের উৎসাহ দেওয়া এবং তাদের অর্জনের সঠিক মূল্যায়ন করা জরুরি।
তিনি বলেন, দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সন্তানরা মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে ভালো কিছু অর্জন করলে সরকার তা রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে স্বীকৃতি দেওয়ার চেষ্টা করবে। এর সুফল ভবিষ্যৎ প্রজন্ম ও দেশ পাবে।
সরকার গঠনের পর থেকেই মেধাবী ও যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের উৎসাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। এর অংশ হিসেবেই আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে।
হাফেজদের সমস্যার সমাধানের আশ্বাস
অনুষ্ঠানে পুরস্কার বিজয়ী মাদ্রাসার শিক্ষকরা তাদের বিভিন্ন সমস্যার কথা প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরেন। বিষয়গুলো সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করার আশ্বাস দেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমস্যাগুলোর সমাধানে সরকারের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব, তা করার চেষ্টা করা হবে।
এ ছাড়া ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে সরকারের সহযোগিতা প্রয়োজন হলে নিয়ম অনুযায়ী জানাতে বলেন তিনি। সম্ভব হলে সরকারের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেন।
আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সাফল্য
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের ছেলেমেয়েরা আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে নিজেদের পাশাপাশি দেশের জন্যও সম্মান ও গৌরব বয়ে আনুক—এটাই সরকারের প্রত্যাশা।
সৌদি আরবে অনুষ্ঠিত এবারের প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৩৩টি দেশের প্রতিযোগীরা অংশ নেন। এতে বাংলাদেশের হাফেজ মোহাম্মদ জাকারিয়া ১৫ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেন।
হাফেজ শেখ মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান আশরাফী ৩০ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় হন। একইভাবে হাফেজা রাবেতা বিনতে রমজান ১৫ পারা এবং হাফেজা মুসফিরা বিনতে মাহমুদ ৩০ পারা হিফজ, তাজবীদ ও সুন্দর তিলাওয়াত বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করেন।
শান্তি ও পরিবর্তনে একসঙ্গে কাজের আহ্বান
দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা ও পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, কাজের ধরন ভিন্ন হতে পারে। তবে দেশের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠাই সবার লক্ষ্য হওয়া উচিত। মানুষ যাতে শান্তিতে ও মর্যাদার সঙ্গে বাঁচতে পারে, সেই লক্ষ্যেই সরকার কাজ করতে চায়।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বিজয়ী হাফেজদের বই উপহার দেন। এর আগে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় যে সূরা তিলাওয়াত করে তারা পুরস্কার পেয়েছেন, সেই সূরার আয়াত তাদের কণ্ঠে শোনেন তিনি।
অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন কায়কোবাদ, প্রতিমন্ত্রী শামীম কায়সার, মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি এবং প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তারসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।




















