‘মক্কা চুক্তি’ কার্যকরের সময় এসেছে: পাকিস্তান
- আপডেট সময় : ১২:৪৯:০৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৩৪ বার পড়া হয়েছে
পবিত্র মক্কা নগরীর কাছে ড্রোন হামলার চেষ্টার পর ‘মক্কা চুক্তি’ কার্যকরের সময় এসেছে বলে মন্তব্য করেছেন পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ। তিনি বলেছেন, সৌদি আরবের সঙ্গে করা চুক্তির আওতায় পাকিস্তান নিজেদের দায়িত্ব পালন করবে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) জিও নিউজের ‘আজ শাহজেব খানজাদা কে সাথ’ অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন খাজা আসিফ। তিনি জানান, মক্কা চুক্তি পাকিস্তানের জন্য প্রযোজ্য। তবে চুক্তিটির বিস্তারিত প্রকাশ্যে জানানো সম্ভব নয়।
পবিত্র স্থান রক্ষায় আলাদা চুক্তির প্রয়োজন নেই
খাজা আসিফ বলেন, পবিত্র মক্কাসহ ইসলামের পবিত্র স্থানগুলো রক্ষার জন্য আলাদা কোনো চুক্তির প্রয়োজন নেই। মক্কা চুক্তি না থাকলেও এসব স্থান রক্ষা করা পাকিস্তানের দায়িত্ব।
তিনি বলেন, মক্কায় হামলা হলে সেটি প্রতিহত করতে কোনো চুক্তির প্রয়োজন নেই। পাকিস্তান এ বিষয়ে নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন।
মক্কায় ড্রোন হামলার চেষ্টা
এর আগে সৌদি আরব জানিয়েছিল, মক্কার আকাশসীমার নিষিদ্ধ এলাকায় প্রবেশের আগেই একটি ড্রোন শনাক্ত করে ধ্বংস করেছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।
সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোটের এক মুখপাত্রের দাবি, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়। মক্কাকে লক্ষ্য করে এটি হুতিদের দ্বিতীয় হামলার চেষ্টা বলেও দাবি করা হয়।
তবে মক্কাকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইরান-সমর্থিত হুতিরা। গোষ্ঠীটির মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, তাদের অভিযান সৌদি আরবের তেল স্থাপনা ও সামরিক ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে। এসব স্থাপনা পবিত্র স্থানগুলো থেকে অনেক দূরে বলেও দাবি করেন তিনি।
সৌদি আরবের পাশে থাকার বার্তা পাকিস্তানের
মক্কায় হামলার চেষ্টার অভিযোগের মধ্যেই সৌদি আরবের প্রতি পূর্ণ সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ। তিনি বলেন, ইসলামাবাদ রিয়াদের সঙ্গে ‘কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে’ রয়েছে।
মক্কা আল-মুকাররমাকে লক্ষ্য করে ড্রোন হামলার চেষ্টাকে নিন্দা জানান শেহবাজ। একই সঙ্গে তিনি সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম দেখানোর আহ্বান জানান।
তিন দেশের প্রতিরক্ষা চুক্তি
খাজা আসিফ জানান, পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত মক্কা চুক্তিতে পারস্পরিক প্রতিরক্ষার ব্যবস্থা রয়েছে। তিন দেশের যেকোনো একটির ভৌগোলিক অখণ্ডতা বা সীমানা লঙ্ঘিত হলে চুক্তিটি প্রযোজ্য হবে বলে জানান তিনি।
তার ভাষ্য, চুক্তিটি কখন কার্যকর হবে, সে বিষয়ে কোনো অস্পষ্টতা নেই। তবে পাকিস্তান কোনো সামরিক কৌশল বা প্রতিরক্ষা পরিকল্পনার বিস্তারিত প্রকাশ্যে আলোচনা করবে না।
এদিকে হুতিদের হামলা নিয়ে সৌদি আরবের উদ্বেগের মধ্যে রিয়াদের একটি বার্তা ইরানের কাছে পৌঁছে দিয়েছে পাকিস্তান। খাজা আসিফ বলেন, রাষ্ট্র হিসেবে ইরান এমনভাবে হুতিদের সমর্থন করবে বলে তিনি মনে করেন না, যাতে অঞ্চলে নতুন সংঘাতের সৃষ্টি হয়।
তিনি আরও বলেন, সংঘাত যাতে নতুন কোনো অঞ্চলে ছড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য পাকিস্তান কূটনৈতিকভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাবে।




















