০৪:৫০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আসিফ মাহমুদের লেনদেনের তথ্য চেয়েছে দুদক

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:০৮:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৫৩ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগের অনুসন্ধানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ব্যাংক হিসাবসহ দেশ-বিদেশের সব ধরনের আর্থিক লেনদেনের তথ্য চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ জন্য বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি।

দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. জাহেদ কালামের সই করা চিঠিতে এসব তথ্য ও নথিপত্র চাওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুদকের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

যেসব তথ্য চেয়েছে দুদক

দুদক সূত্র জানিয়েছে, আসিফ মাহমুদের নামে থাকা ব্যাংক হিসাব, দেশ-বিদেশে আর্থিক লেনদেন এবং সম্পদ অর্জনসংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ডে সম্পদ ক্রয় এবং অর্থপাচারের অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান জানিয়েছিলেন, অভিযোগে যেসব দেশে অর্থপাচারের কথা বলা হয়েছে, প্রয়োজন হলে সেসব দেশের কাছ থেকেও তথ্য চাওয়া হবে।

তিনি বলেন, অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী ধাপে যাওয়া হয়েছে। অনুসন্ধান ও তদন্ত শেষে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রয়োজন হলে বিদেশেও তথ্য চাওয়া হবে

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগের বিষয়ে দুদক সচিব বলেন, আইনের আওতায় প্রয়োজন হলে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলআর) পাঠানো হবে।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সারবত্তা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে অনুসন্ধান বা তদন্তের আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই বলে উল্লেখ করেন দুদক সচিব।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নথিও দুদকের হাতে

এদিকে আসিফ মাহমুদ দায়িত্বে থাকার সময়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলিসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ নথি সংগ্রহ করেছে দুদক।

গত ৩ সেপ্টেম্বর এসব নথি চেয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায় দুদক। পরে মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র দুদকে পাঠানো হয়।

এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি, কেনাকাটাসহ বিভিন্ন কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনুসন্ধানের জন্য উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে বিশেষ টিম গঠন করা হয়।

নতুন অভিযোগও অনুসন্ধানে

গত ১৩ সেপ্টেম্বর আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ, বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসক পদায়ন, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং বিদেশে অর্থপাচারসহ আরও কয়েকটি অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।

দুদকের কাছে জমা পড়া অভিযোগে পাঁচ দেশে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের কথা বলা হয়েছে। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে বিপুল অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে। পর্তুগালে জমি কেনার অভিযোগও রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ এখনো অনুসন্ধানাধীন। অভিযোগগুলোর সত্যতা চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।

নিয়োগ ও টেন্ডার নিয়েও অভিযোগ

দুদকের কাছে জমা পড়া অভিযোগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ, বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসক পদায়ন এবং বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সেতু নির্মাণ এবং ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্প নিয়ে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রেও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের নথিপত্র ও আর্থিক লেনদেন যাচাই করছে দুদক।

দুদকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনুসন্ধান ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর কমিশন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আসিফ মাহমুদের লেনদেনের তথ্য চেয়েছে দুদক

আপডেট সময় : ০৩:০৮:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগের অনুসন্ধানে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার ব্যাংক হিসাবসহ দেশ-বিদেশের সব ধরনের আর্থিক লেনদেনের তথ্য চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ জন্য বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কাছে চিঠি পাঠিয়েছে সংস্থাটি।

দুদক প্রধান কার্যালয়ের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. জাহেদ কালামের সই করা চিঠিতে এসব তথ্য ও নথিপত্র চাওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুদকের ঊর্ধ্বতন একজন কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

যেসব তথ্য চেয়েছে দুদক

দুদক সূত্র জানিয়েছে, আসিফ মাহমুদের নামে থাকা ব্যাংক হিসাব, দেশ-বিদেশে আর্থিক লেনদেন এবং সম্পদ অর্জনসংক্রান্ত তথ্য চাওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পর্তুগাল, অস্ট্রেলিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই, সিঙ্গাপুর ও সুইজারল্যান্ডে সম্পদ ক্রয় এবং অর্থপাচারের অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান জানিয়েছিলেন, অভিযোগে যেসব দেশে অর্থপাচারের কথা বলা হয়েছে, প্রয়োজন হলে সেসব দেশের কাছ থেকেও তথ্য চাওয়া হবে।

তিনি বলেন, অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী ধাপে যাওয়া হয়েছে। অনুসন্ধান ও তদন্ত শেষে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রয়োজন হলে বিদেশেও তথ্য চাওয়া হবে

আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগের বিষয়ে দুদক সচিব বলেন, আইনের আওতায় প্রয়োজন হলে মিউচুয়াল লিগ্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স রিকোয়েস্ট (এমএলআর) পাঠানো হবে।

অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সারবত্তা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হবে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে অনুসন্ধান বা তদন্তের আগে কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই বলে উল্লেখ করেন দুদক সচিব।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নথিও দুদকের হাতে

এদিকে আসিফ মাহমুদ দায়িত্বে থাকার সময়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলিসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ নথি সংগ্রহ করেছে দুদক।

গত ৩ সেপ্টেম্বর এসব নথি চেয়ে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায় দুদক। পরে মন্ত্রণালয় থেকে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র দুদকে পাঠানো হয়।

এর আগে গত ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি, কেনাকাটাসহ বিভিন্ন কাজে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। অনুসন্ধানের জন্য উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে বিশেষ টিম গঠন করা হয়।

নতুন অভিযোগও অনুসন্ধানে

গত ১৩ সেপ্টেম্বর আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ, বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসক পদায়ন, টেন্ডার নিয়ন্ত্রণ এবং বিদেশে অর্থপাচারসহ আরও কয়েকটি অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক।

দুদকের কাছে জমা পড়া অভিযোগে পাঁচ দেশে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের কথা বলা হয়েছে। অভিযোগে দাবি করা হয়েছে, দুবাই, সিঙ্গাপুর, অস্ট্রেলিয়া ও সুইজারল্যান্ডে বিপুল অর্থ স্থানান্তর করা হয়েছে। পর্তুগালে জমি কেনার অভিযোগও রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ এখনো অনুসন্ধানাধীন। অভিযোগগুলোর সত্যতা চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি।

নিয়োগ ও টেন্ডার নিয়েও অভিযোগ

দুদকের কাছে জমা পড়া অভিযোগে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ, বিভিন্ন জেলায় জেলা প্রশাসক পদায়ন এবং বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের টেন্ডার নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে।

এ ছাড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন, সেতু নির্মাণ এবং ঢাকা ওয়াসার সায়েদাবাদ পানি শোধনাগার প্রকল্প নিয়ে অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে।

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, বদলি ও পদোন্নতির ক্ষেত্রেও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ করা হয়েছে। এসব অভিযোগের নথিপত্র ও আর্থিক লেনদেন যাচাই করছে দুদক।

দুদকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অনুসন্ধান ও তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। চূড়ান্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর কমিশন এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে।