ডিএসসিসিতে দুদকের অভিযান
- আপডেট সময় : ০১:৩৪:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৩৭ বার পড়া হয়েছে
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) মশা নিধনে ভেজাল কীটনাশকের বদলে কেরোসিন সরবরাহ, বর্জ্য সংগ্রহে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং অবৈধ দখলদারিত্বের অভিযোগ তদন্তে অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুদকের পাঁচ সদস্যের একটি এনফোর্সমেন্ট টিম ডিএসসিসিতে অভিযান পরিচালনা করে। দুদকের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. আকতারুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
৪৮ কোটি টাকার কীটনাশক সরবরাহের অভিযোগ
দুদক সূত্রে জানা গেছে, মশা নিধনের জন্য ভেজাল কীটনাশক সরবরাহের অভিযোগে একটি প্রতিষ্ঠানকে ২০১১ ও ২০১৯ সালে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) কালো তালিকাভুক্ত করেছিল।
অভিযোগ রয়েছে, ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা পরে নাম ও প্রতিষ্ঠানের কাঠামো পরিবর্তন করে ‘ফরোয়ার্ড ইন্টারন্যাশনাল’ নামে নতুন প্রতিষ্ঠান গঠন করেন। এরপর গত দুই বছরে ডিএসসিসি থেকে তিনটি কার্যাদেশের মাধ্যমে প্রায় ৪৮ কোটি টাকার কীটনাশক সরবরাহের কাজ দেওয়া হয়।
অভিযোগ অনুযায়ী, পরীক্ষার সময় মানসম্মত কীটনাশক দেখানো হলেও মাঠপর্যায়ে ফগিংয়ের সময় কেরোসিন ব্যবহার করা হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে।
এ ঘটনায় ডিএসসিসির মশক নিবারণী দপ্তরের স্টোরকিপার ও অ্যাকাউন্টস শাখার কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগও রয়েছে।
বর্জ্য সংগ্রহে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ
এদিকে বাসাবাড়ির বর্জ্য সংগ্রহ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ পেয়েছে দুদক। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রতি ফ্ল্যাট থেকে সর্বোচ্চ ১০০ টাকা ফি নেওয়ার নিয়ম থাকলেও বিভিন্ন এলাকায় এর চেয়ে বেশি অর্থ আদায় করা হচ্ছে।
ধানমন্ডি, আজিমপুর, কাঁঠালবাগান, কায়েতটুলী ও যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় বাসিন্দাদের কাছ থেকে ১২০ থেকে ২৫০ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকেও এক হাজার টাকা পর্যন্ত আদায়ের অভিযোগ করা হয়েছে।
রাজনৈতিক প্রভাবে কাজ দখলের অভিযোগ
বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বৈধভাবে দরপত্রের মাধ্যমে কাজ পাওয়া ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখানো এবং মারধরের অভিযোগও রয়েছে। রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তাদের কাছ থেকে কাজ ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
দুদকের কাছে দেওয়া অভিযোগে বলা হয়েছে, প্রতি বছর বর্জ্য সংগ্রহের নামে কোটি কোটি টাকার অবৈধ বাণিজ্য হচ্ছে।
দুদকের সহকারী পরিচালক মেহেদী মুসা জেবিন ও উপ-সহকারী পরিচালক হাবিবুর রহমানের সমন্বয়ে পাঁচ সদস্যের দলটি অভিযান পরিচালনা করছে। অভিযান শেষে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে বলে জানিয়েছে দুদক।




















