১২:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আসিফ আমলের নিয়োগ-পদোন্নতির নথি দুদকে

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১১:১১:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৩৪ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে হওয়া নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলির নথি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হয়েছে।

গত ৩ সেপ্টেম্বর এসব নথি তলব করে দুদক। এরপর মন্ত্রণালয় থেকে অধিকাংশ নথি পাঠানো হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নথি যাচাই করবে দুদক

দুদকের ওই কর্মকর্তা জানান, অনুসন্ধানের স্বার্থে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে নথি চাওয়া হয়েছিল। অধিকাংশ নথি ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে। এসব নথি যাচাই-বাছাই করা হবে।

নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলির ক্ষেত্রে আইন ও বিধি মানা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে দুদক। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক লেনদেনও যাচাই করা হতে পারে।

চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান

গত ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও কেনাকাটাসহ বিভিন্ন কাজে অনিয়মের অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

অভিযোগ অনুসন্ধানে উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে বিশেষ টিম গঠন করা হয়। পরদিন ওই টিম মন্ত্রণালয়ের কাছে চার ধরনের নথি চেয়ে চিঠি দেয়।

এর মধ্যে আসিফ মাহমুদের দায়িত্ব পালনের সময়ের সব নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলির নথি রয়েছে। পাশাপাশি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট স্মারকের মাধ্যমে হওয়া বদলির নথিও চাওয়া হয়।

নতুন অভিযোগেও অনুসন্ধান

এদিকে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে নতুন কয়েকটি অভিযোগ নিয়েও অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ঘুষ, নিয়োগ-পদায়ন বাণিজ্য, টেন্ডার কমিশন এবং অর্থ পাচার।

দুদকের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ জানান, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে আগের অনুসন্ধান চলমান। নতুন অভিযোগগুলোও যাচাই শেষে আগের অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত করে তদন্ত করা হবে।

অভিযোগে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিয়োগ, বিভিন্ন জেলায় ডিসি পদায়ন এবং কয়েকটি সিটি করপোরেশনের টেন্ডার নিয়ে অনিয়মের কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া বিদেশে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিযোগে পাঁচ দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের কথা বলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো প্রমাণিত নয়। দুদক এগুলো যাচাই করছে।

আসিফ মাহমুদের বক্তব্য

দুদকের অনুসন্ধান নিয়ে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ অস্বীকার করেন আসিফ মাহমুদ।

তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগে কখনো ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, আবার কখনো ১১ হাজার কোটি টাকার কথা বলা হচ্ছে। অভিযোগের অঙ্ক নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টদের আগে নিজেদের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আসিফ মাহমুদ আরও অভিযোগ করেন, অতীতে দুদককে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও একইভাবে সংস্থাটিকে ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে দুদকের অনুসন্ধানে আসিফ মাহমুদ ছাড়াও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন এবং উপসচিবমাসুম আহমেদসহ কয়েকজন কর্মকর্তার নাম রয়েছে।

দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান ৯ সেপ্টেম্বর জানিয়েছিলেন, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী অনুসন্ধান চলছে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আসিফ আমলের নিয়োগ-পদোন্নতির নথি দুদকে

আপডেট সময় : ১১:১১:৫৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে হওয়া নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলির নথি দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) পাঠানো হয়েছে।

গত ৩ সেপ্টেম্বর এসব নথি তলব করে দুদক। এরপর মন্ত্রণালয় থেকে অধিকাংশ নথি পাঠানো হয়েছে। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুদকের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

নথি যাচাই করবে দুদক

দুদকের ওই কর্মকর্তা জানান, অনুসন্ধানের স্বার্থে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের কাছে নথি চাওয়া হয়েছিল। অধিকাংশ নথি ইতোমধ্যে পাওয়া গেছে। এসব নথি যাচাই-বাছাই করা হবে।

নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলির ক্ষেত্রে আইন ও বিধি মানা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখবে দুদক। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ব্যাংক হিসাব ও আর্থিক লেনদেনও যাচাই করা হতে পারে।

চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান

গত ২ সেপ্টেম্বর যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ, বদলি ও কেনাকাটাসহ বিভিন্ন কাজে অনিয়মের অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক।

অভিযোগ অনুসন্ধানে উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে বিশেষ টিম গঠন করা হয়। পরদিন ওই টিম মন্ত্রণালয়ের কাছে চার ধরনের নথি চেয়ে চিঠি দেয়।

এর মধ্যে আসিফ মাহমুদের দায়িত্ব পালনের সময়ের সব নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলির নথি রয়েছে। পাশাপাশি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দিষ্ট স্মারকের মাধ্যমে হওয়া বদলির নথিও চাওয়া হয়।

নতুন অভিযোগেও অনুসন্ধান

এদিকে আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে নতুন কয়েকটি অভিযোগ নিয়েও অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুদক। এসব অভিযোগের মধ্যে রয়েছে ঘুষ, নিয়োগ-পদায়ন বাণিজ্য, টেন্ডার কমিশন এবং অর্থ পাচার।

দুদকের সহকারী পরিচালক তানজির আহমেদ জানান, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে আগের অনুসন্ধান চলমান। নতুন অভিযোগগুলোও যাচাই শেষে আগের অনুসন্ধানের সঙ্গে যুক্ত করে তদন্ত করা হবে।

অভিযোগে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিয়োগ, বিভিন্ন জেলায় ডিসি পদায়ন এবং কয়েকটি সিটি করপোরেশনের টেন্ডার নিয়ে অনিয়মের কথা বলা হয়েছে।

এছাড়া বিদেশে বিপুল অর্থ পাচারের অভিযোগও আনা হয়েছে। অভিযোগে পাঁচ দেশে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের কথা বলা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো প্রমাণিত নয়। দুদক এগুলো যাচাই করছে।

আসিফ মাহমুদের বক্তব্য

দুদকের অনুসন্ধান নিয়ে রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ অস্বীকার করেন আসিফ মাহমুদ।

তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে অভিযোগে কখনো ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকা, আবার কখনো ১১ হাজার কোটি টাকার কথা বলা হচ্ছে। অভিযোগের অঙ্ক নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টদের আগে নিজেদের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

আসিফ মাহমুদ আরও অভিযোগ করেন, অতীতে দুদককে রাজনৈতিকভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। ভবিষ্যতেও একইভাবে সংস্থাটিকে ব্যবহারের আশঙ্কা রয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

এদিকে দুদকের অনুসন্ধানে আসিফ মাহমুদ ছাড়াও যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্ম সচিব ড. শেখ মোহাম্মদ জুবায়েদ হোসেন এবং উপসচিবমাসুম আহমেদসহ কয়েকজন কর্মকর্তার নাম রয়েছে।

দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান ৯ সেপ্টেম্বর জানিয়েছিলেন, আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে আইন ও বিধি অনুযায়ী অনুসন্ধান চলছে।