আসিফের বিরুদ্ধে অভিযোগ মনগড়া নয়: দুদক
- আপডেট সময় : ০৪:৪৭:৩৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৩১ বার পড়া হয়েছে
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ মনগড়া নয় বলে জানিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোতে তথ্য চেয়ে চিঠি পাঠানো হবে বলে জানিয়েছেন দুদক সচিব সাইদুর রহমান খান।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুসন্ধানের তথ্যের ভিত্তিতেই কার্যক্রম
দুদক সচিব বলেন, অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরবর্তী ধাপে কার্যক্রম শুরু হয়েছে। অনুসন্ধান ও তদন্ত এখনো চলমান। তাই তদন্তে যে তথ্য পাওয়া যাবে, তার ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, দুদকের মনমতো কাজ করার কোনো সুযোগ নেই। অনুসন্ধান শেষে প্রতিবেদন পাওয়ার পর কমিশন পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আলোচনা হচ্ছে উল্লেখ করে সাইদুর রহমান খান বলেন, দুদক কী করছে, তা সবাই পর্যবেক্ষণ করলেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে। অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতেই পরবর্তী কার্যক্রম নেওয়া হয়েছে।
বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ যাচাই
আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর কাছে তথ্য চাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দুদক সচিব।
তিনি বলেন, আইনের আওতায় বিদেশে এমএলআর (Mutual Legal Assistance Request) পাঠানোর প্রয়োজন হলে দুদক তা করবে। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে সারবত্তা পাওয়া গেলে পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হবে কমিশন।
যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নথি তলব
এর আগে আসিফ মাহমুদের দায়িত্ব পালনের সময় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলি সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি তলব করে দুদক। গত ৩ সেপ্টেম্বর নথি চাওয়ার পর মন্ত্রণালয় থেকে এসব কাগজপত্র দুদকে পাঠানো হয়েছে।
গত ২ সেপ্টেম্বর নিয়োগ, বদলি ও কেনাকাটাসহ বিভিন্ন কাজে অনিয়মের অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরু করে দুদক। এ জন্য উপপরিচালক মো. জাহিদ কালামের নেতৃত্বে বিশেষ টিম গঠন করা হয়।
১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ
সম্প্রতি আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে নতুন করে ঘুষ, নিয়োগ-বদলি বাণিজ্য ও অর্থ পাচারের অভিযোগে অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। অভিযোগে বিশ্বের পাঁচ দেশে প্রায় ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের কথা বলা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, সিঙ্গাপুরে ৩ হাজার কোটি টাকা, অস্ট্রেলিয়ায় ২ হাজার কোটি টাকা এবং সুইজারল্যান্ডে দেড় হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ রয়েছে। পাশাপাশি পর্তুগালে অর্থ দিয়ে জমি কেনার অভিযোগও করা হয়েছে।
এ ছাড়া ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসক নিয়োগ, বিভিন্ন জেলায় ডিসি পদায়ন, সিটি করপোরেশনের টেন্ডার এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ আনা হয়েছে।
অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আসিফ
দুদকের অনুসন্ধান নিয়ে আসিফ মাহমুদ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে কখনো ১ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা, কখনো ১১ হাজার কোটি টাকা এবং আবার ২ কোটি ৭৬ লাখ টাকার অভিযোগের কথা বলা হয়েছে। অভিযোগের অঙ্ক নিয়ে সরকারের সংশ্লিষ্টদের আগে নিজেদের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, দুদকের অনুসন্ধান রাজনৈতিক হয়রানির অংশ হতে পারে। তার দাবি, অতীতে যে কারণে দুদককে ব্যবহার করা হয়েছিল, ভবিষ্যতেও একইভাবে সংস্থাটিকে ব্যবহারের চেষ্টা করা হতে পারে।
দুদক জানিয়েছে, অনুসন্ধান ও তদন্তের ফলাফলের ভিত্তিতেই আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে পরবর্তী কার্যক্রম নির্ধারণ করা হবে।
























