০৪:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

জামায়াত একাত্তরের ভূমিকা মেনে নিয়েছে : আইনমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ০৩:০৮:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৪৬ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, সংসদে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন সংশোধনের সময় ‘না’ ভোট না দেওয়ার মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী ১৯৭১ সালে তাদের ভূমিকা পরোক্ষভাবে মেনে নিয়েছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর লেকশোর গ্র্যান্ডে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের লেখা ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী : এর ইতিহাস ও রাজনীতি’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বইটি প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)।

জামায়াতের নাম বাদ দেওয়ার দাবি

আইনমন্ত্রী বলেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন সংশোধনের সময় জামায়াতে ইসলামী তাদের নাম মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছিল। তবে ঐতিহাসিক সত্য অস্বীকার করা সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, সংশোধিত আইনে ১৯৭১ সালের প্রেক্ষাপটে ‘তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী’, ‘তৎকালীন মুসলিম লীগ’ ও ‘তৎকালীন নেজামে ইসলাম’ উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আইনটি সংসদে পাস হয়।

আসাদুজ্জামান বলেন, সংসদে কোনো বিল বা আইন পাসের সময় সদস্যরা ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দিতে পারেন। কিন্তু ওই আইন পাসের সময় জামায়াতে ইসলামীর কোনো সদস্য ‘না’ ভোট দেননি। বিষয়টি সংসদের রেকর্ডেও রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

আব্দুর রাজ্জাকের অবস্থানের প্রসঙ্গ

আইনমন্ত্রী বলেন, জামায়াতের সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক ২০১৬ সালে দলটিকে ১৯৭১ সালের ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার মতে, সে সময় জামায়াত ওই অবস্থান গ্রহণ করলে দলটিকে ঘিরে অনেক প্রশ্নের সমাধান হয়ে যেত।

তিনি বলেন, রাজ্জাক সাহেব যে রাজনৈতিক দর্শন ও নীতির ভিত্তিতে একটি বক্তব্যের খসড়া করেছিলেন, সেখানে একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকার বিষয়টি জাতির সামনে তুলে ধরার চেষ্টা ছিল। সংসদীয় প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে ‘না’ ভোট না দেওয়ার মাধ্যমে জামায়াত সেই ভূমিকা পরোক্ষভাবে মেনে নিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

বই নিয়ে আইনমন্ত্রীর মন্তব্য

বইটি সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি তার কাছে প্রচলিত অর্থে সাহিত্য বা গবেষণাধর্মী বই মনে হয়নি। বরং লেখকের দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা ও সমাজ পর্যবেক্ষণের প্রতিফলন হিসেবে তিনি বইটিকে দেখেছেন।

তিনি আরও বলেন, বইটিতে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মত নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। গণতান্ত্রিক সমাজে এসব সমালোচনা গ্রহণের মানসিকতা থাকা প্রয়োজন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ভিন্নমত থাকলেও আলোচনা ও সমালোচনার সুযোগ তৈরি করতে হবে। গণতন্ত্রের জন্য এই সংস্কৃতি গুরুত্বপূর্ণ।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

জামায়াত একাত্তরের ভূমিকা মেনে নিয়েছে : আইনমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৩:০৮:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, সংসদে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন সংশোধনের সময় ‘না’ ভোট না দেওয়ার মাধ্যমে জামায়াতে ইসলামী ১৯৭১ সালে তাদের ভূমিকা পরোক্ষভাবে মেনে নিয়েছে।

শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর লেকশোর গ্র্যান্ডে ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাকের লেখা ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী : এর ইতিহাস ও রাজনীতি’ বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। বইটি প্রকাশ করেছে ইউনিভার্সিটি প্রেস লিমিটেড (ইউপিএল)।

জামায়াতের নাম বাদ দেওয়ার দাবি

আইনমন্ত্রী বলেন, জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল আইন সংশোধনের সময় জামায়াতে ইসলামী তাদের নাম মুক্তিযোদ্ধার সংজ্ঞা থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছিল। তবে ঐতিহাসিক সত্য অস্বীকার করা সম্ভব নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, সংশোধিত আইনে ১৯৭১ সালের প্রেক্ষাপটে ‘তৎকালীন জামায়াতে ইসলামী’, ‘তৎকালীন মুসলিম লীগ’ ও ‘তৎকালীন নেজামে ইসলাম’ উল্লেখ করা হয়েছে। পরে আইনটি সংসদে পাস হয়।

আসাদুজ্জামান বলেন, সংসদে কোনো বিল বা আইন পাসের সময় সদস্যরা ‘হ্যাঁ’ অথবা ‘না’ ভোট দিতে পারেন। কিন্তু ওই আইন পাসের সময় জামায়াতে ইসলামীর কোনো সদস্য ‘না’ ভোট দেননি। বিষয়টি সংসদের রেকর্ডেও রয়েছে বলে তিনি দাবি করেন।

আব্দুর রাজ্জাকের অবস্থানের প্রসঙ্গ

আইনমন্ত্রী বলেন, জামায়াতের সাবেক সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ব্যারিস্টার আব্দুর রাজ্জাক ২০১৬ সালে দলটিকে ১৯৭১ সালের ভূমিকার জন্য জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার আহ্বান জানিয়েছিলেন। তার মতে, সে সময় জামায়াত ওই অবস্থান গ্রহণ করলে দলটিকে ঘিরে অনেক প্রশ্নের সমাধান হয়ে যেত।

তিনি বলেন, রাজ্জাক সাহেব যে রাজনৈতিক দর্শন ও নীতির ভিত্তিতে একটি বক্তব্যের খসড়া করেছিলেন, সেখানে একাত্তরে জামায়াতের ভূমিকার বিষয়টি জাতির সামনে তুলে ধরার চেষ্টা ছিল। সংসদীয় প্রক্রিয়ায় অংশ নিয়ে ‘না’ ভোট না দেওয়ার মাধ্যমে জামায়াত সেই ভূমিকা পরোক্ষভাবে মেনে নিয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

বই নিয়ে আইনমন্ত্রীর মন্তব্য

বইটি সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, এটি তার কাছে প্রচলিত অর্থে সাহিত্য বা গবেষণাধর্মী বই মনে হয়নি। বরং লেখকের দীর্ঘ জীবনের অভিজ্ঞতা ও সমাজ পর্যবেক্ষণের প্রতিফলন হিসেবে তিনি বইটিকে দেখেছেন।

তিনি আরও বলেন, বইটিতে বিএনপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মত নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। গণতান্ত্রিক সমাজে এসব সমালোচনা গ্রহণের মানসিকতা থাকা প্রয়োজন।

আইনমন্ত্রী বলেন, ভিন্নমত থাকলেও আলোচনা ও সমালোচনার সুযোগ তৈরি করতে হবে। গণতন্ত্রের জন্য এই সংস্কৃতি গুরুত্বপূর্ণ।