‘ডোরি মাছ’ নামে পাঙাশ, ডিএনএ পরীক্ষায় মিলল প্রমাণ
- আপডেট সময় : ০১:৫৩:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫২৯ বার পড়া হয়েছে
ঢাকা, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীর বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় ‘ডোরি মাছ’ নামে পরিবেশন করা খাবারের নমুনায় পাঙাশের জিনগত বৈশিষ্ট্য পাওয়া গেছে। নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (নোবিপ্রবি) ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রাকেব-উল-ইসলামের অনুসন্ধানী পরীক্ষায় এ তথ্য উঠে এসেছে।
তিন জেলার নয় রেস্তোরাঁয় নমুনা সংগ্রহ
গবেষকের তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীর মোট নয়টি রেস্তোরাঁ থেকে ‘ডোরি মাছ’ নামে পরিবেশন করা খাবারের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। প্রতিটি জেলা থেকে অন্তত তিনটি করে নমুনা নেওয়া হয়েছিল।
পরে এসব নমুনা থেকে ডিএনএ সংগ্রহ করা হয়। এরপর পিসিআর পরীক্ষা ও ডিএনএ সিকোয়েন্সিংয়ের মাধ্যমে মাছের প্রজাতি শনাক্তের চেষ্টা করা হয়।
ডিএনএ পরীক্ষায় পাঙাশের সঙ্গে মিল
পরীক্ষায় সংগৃহীত নমুনাগুলোর জিনগত বৈশিষ্ট্য Pangasianodon hypophthalmus প্রজাতির সঙ্গে মিলে যায়। বাংলাদেশে এই প্রজাতির মাছ সাধারণত চাষের পাঙাশ বা থাই পাঙাশ নামে পরিচিত।
গবেষক ড. রাকেব-উল-ইসলাম জানান, মাছের প্রজাতি শনাক্তকরণ, পপুলেশন জেনেটিক্স, ফিশ ইকোলজি, জলজ জীববৈচিত্র্য ও মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণ নিয়ে তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন।
তিনি বলেন, প্রায় ছয় মাস আগে দেশে ডোরি মাছ আমদানি নিয়ে একটি প্রতিবেদন দেখার পর বিষয়টি বৈজ্ঞানিকভাবে যাচাই করার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর বিভিন্ন এলাকা থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা চালানো হয়।
গবেষণার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট রেস্তোরাঁগুলোর নাম প্রকাশ করা হয়নি।
ফিলে হলে মাছ চেনা কঠিন
ড. রাকেব-উল-ইসলামের মতে, মাছ ফিলে বা প্রক্রিয়াজাত অবস্থায় পরিবেশন করা হলে সাধারণ ক্রেতার পক্ষে সেটি কোন প্রজাতির মাছ, তা শুধু দেখে শনাক্ত করা প্রায় অসম্ভব।
কারণ ফিলে অবস্থায় মাছের চামড়া, মাথা, কাঁটা কিংবা প্রজাতি শনাক্তের অন্যান্য বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য থাকে না। ফলে এক প্রজাতির মাছ অন্য নামে পরিবেশন করা হলে ক্রেতার পক্ষে তা বোঝার সুযোগ কমে যায়।
গবেষক মনে করেন, এভাবে মাছের প্রকৃত পরিচয় গোপন করে অন্য নামে পরিবেশন করা হলে তা ভোক্তাকে বিভ্রান্ত করতে পারে। এ বিষয়ে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর আরও সক্রিয় নজরদারি প্রয়োজন।
‘ডোরি’ নামেও রয়েছে বিভিন্ন মাছ
আন্তর্জাতিক বাজারে ‘ডোরি’ নামে পরিচিত মাছের মধ্যে ‘জন ডোরি’ অন্যতম। চ্যাপ্টা দেহ ও শরীরে বিশেষ গোলাকার দাগের কারণে আস্ত অবস্থায় মাছটি তুলনামূলক সহজে শনাক্ত করা যায়।
তবে ফিলে আকারে বিক্রি বা পরিবেশন করা হলে মাছটির বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য আর দেখা যায় না। ফলে ক্রেতার পক্ষে মাছের প্রকৃত প্রজাতি শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
টেংরা মাছের নামেও পাঙাশ
গবেষক আরও জানান, তার অনুসন্ধানে কিছু ক্ষেত্রে নদীর টেংরা মাছ হিসেবে ছোট আকারের পাঙাশ পরিবেশনের তথ্যও পাওয়া গেছে।
তার মতে, মাছের প্রকৃত প্রজাতি গোপন রেখে ভিন্ন নামে বিক্রি করলে ক্রেতার আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি খাবারের সঠিক পরিচয় জানার অধিকারও ক্ষুণ্ন হয়।
এ কারণে বাজার ও রেস্তোরাঁয় মাছের প্রকৃত পরিচয় নিশ্চিত করতে নিয়মিত নমুনা পরীক্ষা এবং বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণ বাড়ানোর প্রয়োজন রয়েছে।




















