টাঙ্গাইলে জিপিএ-৫ পাওয়া ৮৫০ শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিলেন প্রতিমন্ত্রী টুকু
- আপডেট সময় : ০৩:১৯:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫২৮ বার পড়া হয়েছে
টাঙ্গাইল সদর উপজেলার এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় জিপিএ-৫ পাওয়া ৮৫০ কৃতী শিক্ষার্থীকে সংবর্ধনা দিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় টাঙ্গাইলের বিন্দুবাসিনী সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ে ‘কৃতী শিক্ষার্থী সংবর্ধনা ২০২৬’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। প্রতিমন্ত্রীর ব্যক্তিগত উদ্যোগে অনুষ্ঠানটি অনুষ্ঠিত হয়।
বড় স্বপ্ন দেখার আহ্বান
অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, গত বছরের মতো এবারও সদর উপজেলার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতেও এ ধারা অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, কৃতী শিক্ষার্থীদের সাফল্য অন্যদের অনুপ্রাণিত করবে। তাই সবাইকে বড় স্বপ্ন দেখতে হবে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে মনোযোগী হওয়ার পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।
প্রতিমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের মাদক, সন্ত্রাস ও কিশোর গ্যাং থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে মাদকমুক্ত ও সন্ত্রাসমুক্ত নিরাপদ সমাজ গঠনে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
ভালো ফলাফলের পাশাপাশি মানবিক মূল্যবোধ
সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, শুধু ভালো ফলাফল করলেই হবে না। জ্ঞান, দক্ষতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেমের সমন্বয়ে নিজেদের যোগ্য নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।
তার ভাষ্য, আজকের মেধাবী শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনে দেশ ও সমাজের নেতৃত্ব দেবে। এজন্য লেখাপড়ার পাশাপাশি নিজেদের দক্ষতা ও নৈতিক গুণাবলি বিকাশ করতে হবে।
শিক্ষা ব্যবস্থার মান বাড়ানোর উদ্যোগ
পরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে কথা বলেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, টাঙ্গাইলকে একসময় শিক্ষা নগরী বলা হতো। তবে বিগত সরকারের সময়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও গতিশীল করতে কাজ করছে। একই সঙ্গে শিক্ষার মান বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছেন। লেখাপড়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা, সংস্কৃতি ও অন্যান্য সহশিক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
৮৫০ শিক্ষার্থীর হাতে সনদ ও ক্রেস্ট
অনুষ্ঠানের শুরুতে কৃতী শিক্ষার্থীদের গোলাপ ও রজনীগন্ধা ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। পরে ৮৫০ শিক্ষার্থীর প্রত্যেকের হাতে সনদ ও ক্রেস্ট তুলে দেন প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু।
এ সময় শিক্ষার্থীদের কলেজ ব্যাগ, চাবির রিংসহ বিভিন্ন উপহারসামগ্রী দেওয়া হয়।
অনুষ্ঠানে ফাহাদ’স টিউটোরিয়ালের প্রতিষ্ঠাতা ও অনলাইন শিক্ষক মো. ফাহাদ হোসেন শিক্ষার্থীদের একাডেমিক প্রস্তুতি, লক্ষ্য নির্ধারণ ও ক্যারিয়ার নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন।
এ ছাড়া বুয়েট ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারী মেফতাউল আলম সিয়াম এবং মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষায় প্রথম স্থান অধিকারী জাহাঙ্গীর আলম শান্ত নিজেদের সফলতার কৌশল ও ভবিষ্যৎ ক্যারিয়ার নিয়ে বক্তব্য দেন।
প্রেসিডেন্সী ইউনিভার্সিটির ডিপার্টমেন্ট অব বিজনেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের বিভাগীয় প্রধান প্রফেসর ড. জে আলী স্বাগত বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠান শেষে র্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে টাঙ্গাইল জেলার পুলিশ সুপার মো. শামসুল আলম সরকার, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মাহমুদুল হক সানু, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এইচ এম মাহবুব রিজুয়ান সিদ্দিকীসহ সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, শিক্ষক, অভিভাবক, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানটির সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ডা. জোবায়দুর রহমান জনি।

























