মনি ও কন্যা রাথিকে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে আবেগঘন পোস্ট
- আপডেট সময় : ০৬:০৪:৩৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৬৯ বার পড়া হয়েছে
ফেনীর সোনাগাজীর নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় খালাস পাওয়া কামরুন নাহার মনি ও তার কন্যা মোবাশ্বেরা খানম রাথিকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা আবেগঘন পোস্ট ছড়িয়ে পড়েছে। মনির দীর্ঘ কারাজীবন, কারাগারে সন্তানের জন্ম এবং পরবর্তী সময়ে তার দাম্পত্য জীবনের নানা ঘটনা নিয়ে অনেকে সহানুভূতি প্রকাশ করছেন।
কেউ কেউ মনির প্রতি রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। আবার কেউ মনি ও তার শিশুকন্যার পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মনির সাবেক স্বামী রাশেদুল আলম খানকেও নিয়ে আলোচনা চলছে।
কারাগারেই জন্ম রাথির
সোনাগাজী পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মো. মোস্তফা মিয়া ও তার স্ত্রী কামরুন নাহার মনি ছোটবেলা থেকেই তাকে দত্তক নিয়ে লালন-পালন করেন। তাদের ঘরে নয়ন নামে এক ছেলে সন্তানও রয়েছে।
মনি চতুর্থ শ্রেণি থেকে সোনাগাজীর ওই মাদরাসায় পড়াশোনা করেন। ২০১৯ সালে নুসরাত জাহান রাফির সঙ্গে তিনি আলিম পরীক্ষায় অংশ নেন।
নুসরাত হত্যা মামলায় ২০১৯ সালে সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় মনি গ্রেপ্তার হন। এরপর কারাগারে থাকা অবস্থায় তার কন্যাসন্তানের জন্ম হয়। শিশুটির নাম রাখা হয় মোবাশ্বেরা খানম রাথি।
জন্মের পর রাথির শৈশবের বড় একটি সময় কেটেছে কারাগারের পরিবেশে। এ বিষয়টিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের আবেগের অন্যতম কারণ হয়ে উঠেছে।
স্বামীকে নিয়েও চলছে আলোচনা
মনির স্বামী রাশেদুল আলম খান দীর্ঘদিন স্ত্রীর মুক্তির জন্য চেষ্টা করেন বলে জানা গেছে। পরে তিনি মনি ও তার সন্তানকে ছেড়ে অন্যত্র বিয়ে করেন।
তবে গত ১৫ সেপ্টেম্বর কারাগার থেকে মনি ও তার কন্যা মুক্তি পাওয়ার পর রাশেদ তাদের ফুল দিয়ে বরণ করেন। এরপর মনিকে তালাক দেওয়ার বিষয়টি সামনে এলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে নিয়ে নানা ধরনের মন্তব্য দেখা যায়।
কেউ কেউ রাশেদের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছেন। আবার রাশেদ নিজেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন পোস্ট দিয়ে জানিয়েছেন, তিনি তার সন্তানের পাশে আছেন।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে মনি ও রাথিকে গণমাধ্যমের অতিরিক্ত প্রচার থেকে দূরে রাখার পরামর্শও দিয়েছেন।
নুসরাত হত্যা মামলা
২০১৯ সালের ২৭ মার্চ নুসরাতের মা শিরিন আক্তার সোনাগাজী ইসলামিয়া কামিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলার বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগে মামলা করেন।
মামলা তুলে নিতে রাজি না হওয়ায় ৬ এপ্রিল নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় তাকে ঢাকার বার্ন ইউনিটে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল নুসরাত মারা যান।
এর আগে ৮ এপ্রিল নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান সোনাগাজী থানায় হত্যা মামলা করেন।
আদালতের রায়ে খালাস মনি
২০১৯ সালের ২৪ অক্টোবর ফেনীর তৎকালীন জেলা ও দায়রা জজ মামুনুর রশীদের আদালত কামরুন নাহার মনি-সহ ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
পরে আসামিপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করে। গত ২৪ আগস্ট হাইকোর্টের রায়ে ১০ আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অধ্যক্ষ সিরাজ উদ-দৌলা ও শামিমের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা হয় এবং আরও চারজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়।
মনির খালাস ও কারামুক্তির পর তার জীবনের নানা ঘটনা সামনে আসায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাকে ও তার কন্যা রাথিকে নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।






















