প্রথমবার চীনা জে-১০সি যুদ্ধবিমান পেল উজবেকিস্তান
- আপডেট সময় : ১২:০৩:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৬৪ বার পড়া হয়েছে
উজবেকিস্তানের বিমান ও আকাশ প্রতিরক্ষা বাহিনীতে প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছে চীনের তৈরি জে-১০সি যুদ্ধবিমান। দেশটির পাইলট ও রক্ষণাবেক্ষণকর্মীদের চীনে প্রশিক্ষণের খবরের পর এবার যুদ্ধবিমান সরবরাহের তথ্য সামনে এসেছে।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সামরিক বিষয়ক সাময়িকী ‘মিলিটারি ওয়াচ ম্যাগাজিন’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, উজবেকিস্তান জে-১০সি পরিচালনাকারী বিশ্বের তৃতীয় দেশ হতে যাচ্ছে। এর আগে চীনের পিপলস লিবারেশন আর্মি এয়ার ফোর্স ও পাকিস্তান বিমানবাহিনী এই যুদ্ধবিমান ব্যবহার করছে।
তবে উজবেকিস্তান ঠিক কতটি জে-১০সি যুদ্ধবিমান কিনেছে, তা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দেশটি ২৪টি যুদ্ধবিমান কেনার আদেশ দিয়েছে। তবে সরবরাহ করা বিমানের সংখ্যা ও চুক্তির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
চীনের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বাড়ছে
জে-১০সি কেনার মাধ্যমে চীনের প্রতিরক্ষা শিল্পের সঙ্গে উজবেকিস্তানের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বেইজিংয়ের সঙ্গে অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত ও সামরিক সহযোগিতা বাড়িয়েছে মধ্য এশিয়ার দেশটি।
এর আগে উজবেকিস্তান চীনের তৈরি বিভিন্ন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাও সংগ্রহ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে এইচকিউ-৯বি, এফএম-৯০ ও কেএস-১সি। আধুনিক যুদ্ধবিমান ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি যুক্ত হওয়ায় দেশটির সামরিক সক্ষমতায় বড় পরিবর্তন আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
একই সঙ্গে দীর্ঘদিনের সোভিয়েত ও রুশ সামরিক সরঞ্জামের ওপর নির্ভরতা কমানোর পথেও এগোচ্ছে উজবেকিস্তান।
রাশিয়া ও ফ্রান্সের যুদ্ধবিমানও আলোচনায় ছিল
এর আগে উজবেকিস্তান রাশিয়ার সু-৩০এসএম এবং ফ্রান্সের রাফায়েল যুদ্ধবিমান কেনার বিষয়েও আলোচনা করেছিল। এছাড়া চীনের জে-এফ-১৭ ব্লক-৩ ও পঞ্চম প্রজন্মের জে-৩৫ যুদ্ধবিমান নিয়েও আগ্রহের কথা শোনা গিয়েছিল।
তবে শেষ পর্যন্ত চীনের জে-১০সি বেছে নিয়েছে দেশটি। আধুনিক অ্যাভিওনিকস, উন্নত অস্ত্রব্যবস্থা ও তুলনামূলক কম পরিচালন ব্যয়ের কারণে যুদ্ধবিমানটি উজবেকিস্তানের জন্য আকর্ষণীয় হয়ে উঠেছে।
পুরোনো মিগ-২৯ বিদায় নিতে পারে
সোভিয়েত আমলের সু-২৭ যুদ্ধবিমান ইতোমধ্যে উজবেকিস্তানের বহর থেকে অবসরে গেছে। বর্তমানে দেশটির মিগ-২৯ যুদ্ধবিমানগুলোও ধীরে ধীরে সরিয়ে নেওয়া হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, জে-১০সি যুক্ত হলে উজবেকিস্তানের বিমান সক্ষমতায় বড় ধরনের আধুনিকায়ন ঘটবে এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা কাঠামোয় দেশটির সামরিক অবস্থান আরও শক্তিশালী হতে পারে।


























