১২:১৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৩ অক্টোবর ২০২৬

বিক্ষোভের মুখে পিছু হটল ফ্রান্স সরকার, তবু উত্তাল হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:২৫:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬
  • / ১৫৪১ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে দুই বছর মেয়াদি বিটিএস ও প্রেপা কোর্সের বার্ষিক ফি বাতিল করেছে দেশটির সরকার। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের পরও থামেনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। বরং দেশটির এক হাজারের বেশি হাই স্কুলে বিক্ষোভ, ধর্মঘট ও অবরোধ অব্যাহত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফরে বিটিএস ও প্রেপা কোর্সের বার্ষিক ফি বাতিলের ঘোষণা দেন। এর আগে ব্যাকালোরিয়া বা বিএসি পাসের পর এসব কোর্সে ভর্তি হতে শিক্ষার্থীদের বছরে প্রায় ২৭০ ইউরো ফি দেওয়ার কথা ছিল। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে কোর্স দুটি বিনা ফিতে করার সুযোগ পাবেন শিক্ষার্থীরা।

এক হাজারের বেশি হাই স্কুলে বিক্ষোভ

ফ্রান্সের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দেশটির এক হাজার ২০টিরও বেশি হাই স্কুল শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যোগ দিয়েছে। এর মধ্যে ২২২টি স্কুল পুরোপুরি অবরুদ্ধ রয়েছে।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর অবরুদ্ধ স্কুলের সংখ্যা ছিল ১৮০টি। কয়েক দিনের ব্যবধানে এই সংখ্যা আরও বেড়েছে। অর্থাৎ, দেশটির প্রায় প্রতি চারটি হাই স্কুলের একটিতে কোনো না কোনোভাবে আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে।

প্যারিসের শহরতলি ক্রেতেইয়ের সাঁ-দেকজুপেরি হাই স্কুলে প্রায় ১০ দিন আগে এই বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। পরে তা ধীরে ধীরে রাজধানী প্যারিসসহ ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষ ও সহিংসতা বাড়ছে

আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনাও বেড়েছে। কয়েকটি শহরে শিক্ষার্থী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কোথাও কোথাও আন্দোলনকারীরা ডাস্টবিনে আগুন ধরিয়ে দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও ছবিতে কয়েকটি এলাকায় ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।

বিক্ষোভের কারণে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছে।

প্রায় ১ হাজার ৯৫০ জন গ্রেপ্তার

উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পক্ষ থেকে আন্দোলনকে নগরভিত্তিক সহিংসতার দিকে মোড় নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শুধু বৃহস্পতিবারই প্রায় এক হাজার ৯৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফরে জানিয়েছেন, আন্দোলন শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৬৫ জন স্কুল স্টাফ ও ১৭০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, আন্দোলনটি চরম সহিংস গোষ্ঠীগুলোর হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে।

দাবির সঙ্গে একমত, ভাঙচুরের বিরোধিতা

স্কুল প্রধানদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়নের প্রধান ব্রুনো ববকিয়েভিচ আন্দোলনকারীদের কিছু দাবির সঙ্গে একমত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি ভাঙচুরের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু তরুণ শিক্ষার্থীদের দাবির পরিবর্তে স্কুলের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুরে জড়াচ্ছে। এতে আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সরকার একটি বড় দাবি মেনে নেওয়ার পরও ফ্রান্সের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্দোলন অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত। বিক্ষোভের বিস্তার এবং সংঘর্ষের ঘটনায় দেশটির শিক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বিক্ষোভের মুখে পিছু হটল ফ্রান্স সরকার, তবু উত্তাল হাজারের বেশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

আপডেট সময় : ১১:২৫:১১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২ অক্টোবর ২০২৬

ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক বিক্ষোভের মুখে দুই বছর মেয়াদি বিটিএস ও প্রেপা কোর্সের বার্ষিক ফি বাতিল করেছে দেশটির সরকার। তবে সরকারের এই সিদ্ধান্তের পরও থামেনি শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। বরং দেশটির এক হাজারের বেশি হাই স্কুলে বিক্ষোভ, ধর্মঘট ও অবরোধ অব্যাহত রয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) ফ্রান্সের শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফরে বিটিএস ও প্রেপা কোর্সের বার্ষিক ফি বাতিলের ঘোষণা দেন। এর আগে ব্যাকালোরিয়া বা বিএসি পাসের পর এসব কোর্সে ভর্তি হতে শিক্ষার্থীদের বছরে প্রায় ২৭০ ইউরো ফি দেওয়ার কথা ছিল। নতুন সিদ্ধান্তের ফলে এখন থেকে কোর্স দুটি বিনা ফিতে করার সুযোগ পাবেন শিক্ষার্থীরা।

এক হাজারের বেশি হাই স্কুলে বিক্ষোভ

ফ্রান্সের শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দেশটির এক হাজার ২০টিরও বেশি হাই স্কুল শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যোগ দিয়েছে। এর মধ্যে ২২২টি স্কুল পুরোপুরি অবরুদ্ধ রয়েছে।

গত ২৮ সেপ্টেম্বর অবরুদ্ধ স্কুলের সংখ্যা ছিল ১৮০টি। কয়েক দিনের ব্যবধানে এই সংখ্যা আরও বেড়েছে। অর্থাৎ, দেশটির প্রায় প্রতি চারটি হাই স্কুলের একটিতে কোনো না কোনোভাবে আন্দোলনের প্রভাব পড়েছে।

প্যারিসের শহরতলি ক্রেতেইয়ের সাঁ-দেকজুপেরি হাই স্কুলে প্রায় ১০ দিন আগে এই বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল। পরে তা ধীরে ধীরে রাজধানী প্যারিসসহ ফ্রান্সের বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।

সংঘর্ষ ও সহিংসতা বাড়ছে

আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় উত্তেজনাও বেড়েছে। কয়েকটি শহরে শিক্ষার্থী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। কোথাও কোথাও আন্দোলনকারীরা ডাস্টবিনে আগুন ধরিয়ে দেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিও ও ছবিতে কয়েকটি এলাকায় ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।

বিক্ষোভের কারণে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। স্কুল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানানো হয়েছে।

প্রায় ১ হাজার ৯৫০ জন গ্রেপ্তার

উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের পক্ষ থেকে আন্দোলনকে নগরভিত্তিক সহিংসতার দিকে মোড় নেওয়ার কথা জানানো হয়েছে। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, শুধু বৃহস্পতিবারই প্রায় এক হাজার ৯৫০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শিক্ষামন্ত্রী এদুয়ার জেফরে জানিয়েছেন, আন্দোলন শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ৬৫ জন স্কুল স্টাফ ও ১৭০ জন শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, আন্দোলনটি চরম সহিংস গোষ্ঠীগুলোর হাতে জিম্মি হয়ে পড়েছে।

দাবির সঙ্গে একমত, ভাঙচুরের বিরোধিতা

স্কুল প্রধানদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়নের প্রধান ব্রুনো ববকিয়েভিচ আন্দোলনকারীদের কিছু দাবির সঙ্গে একমত হওয়ার কথা জানিয়েছেন। তবে একই সঙ্গে তিনি ভাঙচুরের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তার বক্তব্য অনুযায়ী, কিছু তরুণ শিক্ষার্থীদের দাবির পরিবর্তে স্কুলের বিভিন্ন জিনিসপত্র ভাঙচুরে জড়াচ্ছে। এতে আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হচ্ছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সরকার একটি বড় দাবি মেনে নেওয়ার পরও ফ্রান্সের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্দোলন অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি এখনও উত্তপ্ত। বিক্ষোভের বিস্তার এবং সংঘর্ষের ঘটনায় দেশটির শিক্ষা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।