হুতিদের বিরুদ্ধে ১ লাখ ইয়েমেনি সেনা নিয়ে অভিযানের পরিকল্পনা সৌদির
- আপডেট সময় : ০১:০২:২৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫২৮ বার পড়া হয়েছে
হুতিদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামরিক অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করছে সৌদি আরব। সম্ভাব্য এ অভিযানে এক লাখের বেশি ইয়েমেনি সেনা মোতায়েন করা হতে পারে। সৌদি আরবের নেতৃত্বে অভিযানে যুক্তরাষ্ট্র গোয়েন্দা সহায়তা দিতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে রয়টার্স।
পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে অভিযান শুরু হতে পারে। তবে সুনির্দিষ্ট সময় এখনো চূড়ান্ত হয়নি। অভিযানে স্থলভাগে নেতৃত্ব দেবেন ইয়েমেনি সেনারা। তাদের তদারকি করবে সৌদি আরব। পাশাপাশি সৌদি বিমান হামলার মাধ্যমে তাদের সহায়তা করা হতে পারে।
দুটি বিকল্প বিবেচনায়
সৌদি আরবের পরিকল্পনায় দুটি সম্ভাব্য সামরিক বিকল্প রয়েছে বলে জানিয়েছেন উপসাগরীয় ও ইয়েমেনি কর্মকর্তারা। প্রথম বিকল্প হিসেবে বাব আল-মানদেব প্রণালির আশপাশের এলাকায় সীমিত পরিসরে অভিযান চালানোর কথা বিবেচনা করা হচ্ছে।
দ্বিতীয় বিকল্পটি আরও বিস্তৃত। এ ক্ষেত্রে ইয়েমেনের একাধিক এলাকায় একযোগে সমন্বিত হামলা চালানো হতে পারে। সম্ভাব্য এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে আল-বায়দা, মারিব, তাইজ ও আল-জাওফ প্রদেশ।
কর্মকর্তাদের মতে, অভিযানের পরিধির ওপর নির্ভর করে এক লাখের বেশি ইয়েমেনি সেনা এতে অংশ নিতে পারেন।
বাব আল-মানদেব ঘিরে গুরুত্ব
সৌদি আরবের পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য হলো লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ বাব আল-মানদেবের আশপাশের নিয়ন্ত্রণ পুনরুদ্ধার করা। গত মাসে হুতিরা লোহিত সাগরের উপকূল ধরে অগ্রসর হয়ে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ অঞ্চলে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
বাব আল-মানদেব লোহিত সাগরের দক্ষিণ প্রান্তের প্রবেশপথ। ইউরোপ ও এশিয়ার মধ্যে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ। হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতার কারণে বর্তমানে বাব আল-মানদেবের কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সহায়তার দাবি
নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট বিষয়ে অবগত কয়েকজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, সৌদি আরবের সম্ভাব্য অভিযানকে সহায়তা করতে যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে গোয়েন্দা তথ্য দিচ্ছে।
এ ছাড়া আঞ্চলিক ও ইউরোপের কয়েকটি দেশ সৌদি আরবকে মূলত প্রতিরক্ষামূলক সামরিক সহায়তা দিচ্ছে। তবে এসব দেশ সরাসরি যুদ্ধে অংশ নেবে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
সৌদি ও ইয়েমেন সরকার, হুতি গোষ্ঠী এবং মার্কিন সামরিক বাহিনীর মুখপাত্রদের কাছে এ পরিকল্পনা সম্পর্কে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তাৎক্ষণিক কোনো জবাব পাওয়া যায়নি।
২০১৫ সালের পর নতুন সামরিক উদ্যোগ
২০১৫ সালে ইয়েমেনের গৃহযুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়ে সৌদি আরব। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারকে সমর্থন দিতে দেশটি তখন একটি আরব জোটের নেতৃত্বে সামরিক অভিযান শুরু করে। এর আগে হুতিরা রাজধানী সানা থেকে ওই সরকারকে উৎখাত করেছিল।
২০২২ সালে সংঘাতরত পক্ষগুলোর মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠিত হয় এবং কয়েক বছর তা মোটামুটি বজায় ছিল। তবে সাম্প্রতিক আঞ্চলিক সংঘাতের প্রভাব ইয়েমেনে ছড়িয়ে পড়ার পর পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে। হুতিরা সৌদি আরবের জাহাজ ও তেল অবকাঠামো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
শান্তি আলোচনা নিয়েও অনিশ্চয়তা
পশ্চিমা কূটনীতিক ও উপসাগরীয় অঞ্চলের এক কর্মকর্তার মতে, বাব আল-মানদেবের নিয়ন্ত্রণ হুতিদের হাতে থাকলে তাদের সঙ্গে নতুন করে শান্তি আলোচনা শুরু করা কঠিন হতে পারে বলে সৌদি নেতারা মনে করছেন। প্রণালিটির নিয়ন্ত্রণ হুতিদের আন্তর্জাতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তারের সুযোগ দিচ্ছে বলেও ওই কর্মকর্তা মন্তব্য করেছেন।
সৌদি আরবে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত মাইকেল র্যাটনি মনে করেন, সম্ভাব্য অভিযান নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। তাঁর মতে, ২০১৫ সালে হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি নেতৃত্বাধীন অভিযানের তুলনায় এবারের অভিযান ছোট পরিসরের হতে পারে।
তবে সৌদি সামরিক প্রস্তুতি সম্পর্কে অবগত ছয় ব্যক্তি অভিযানের সুনির্দিষ্ট সময় জানাতে পারেননি। তাঁদের কেউ কেউ ধারণা করছেন, এক সপ্তাহের মধ্যেই অভিযান শুরু হতে পারে। আবার যুক্তরাষ্ট্রের নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরও অভিযান শুরু হতে পারে বলে তাঁদের ধারণা।
হুতিদের বিরুদ্ধে নতুন করে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক অভিযান শুরু হলে তা ইয়েমেনের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতকে আবারও বড় ধরনের আঞ্চলিক উত্তেজনার দিকে নিয়ে যেতে পারে।




















