জাতীয় সংসদের এলডি হলে প্রথমবারের মতো মডেল ইউএন সম্মেলন, অংশ নেবে ৫০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান
- আপডেট সময় : ০৫:৪৮:৪১ অপরাহ্ন, রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৫৩ বার পড়া হয়েছে
তরুণদের নেতৃত্ব, কূটনীতি ও নীতিনির্ধারণের দক্ষতা বিকাশে দেশে প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দুই দিনব্যাপী যুব মডেল জাতিসংঘ সম্মেলন। ‘বাংলাদেশ ইয়ুথ মডেল ইউনাইটেড নেশনস ২০২৬’ (বিওয়াইএমইউএন ২০২৬) শীর্ষক এ সম্মেলন আগামী ১৬ ও ১৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, সম্মেলনে দেশের ৬৪ জেলার প্রায় ৫০০ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও যুব সংগঠনকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন যুব সংগঠনের ১৬ থেকে ২৬ বছর বয়সী তরুণেরা এতে প্রতিনিধি হিসেবে অংশ নেবেন।
মডেল ইউএন মূলত জাতিসংঘের বিভিন্ন বৈঠক ও কূটনৈতিক কার্যক্রমের অনুকরণে আয়োজিত একটি শিক্ষামূলক কর্মসূচি। এতে অংশগ্রহণকারীরা নির্দিষ্ট কোনো দেশ, প্রতিষ্ঠান বা সংস্থার প্রতিনিধিত্ব করেন। তাঁরা বিভিন্ন বৈশ্বিক ও জাতীয় ইস্যু নিয়ে বক্তব্য দেন, যুক্তি উপস্থাপন করেন, অন্য প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা ও দর-কষাকষিতে অংশ নেন এবং শেষ পর্যন্ত সম্মিলিতভাবে বিভিন্ন প্রস্তাব গ্রহণের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খোঁজেন।
থাকছে ছয়টি বিশেষায়িত কমিটি
বিওয়াইএমইউএন ২০২৬-এ মোট ছয়টি বিশেষায়িত কমিটি থাকছে। এর ফ্ল্যাগশিপ কমিটি হিসেবে থাকছে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ। পাশাপাশি থাকছে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও), জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি), জাতিসংঘ অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) এবং জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)।
এ ছাড়া সম্মেলনে থাকছে ‘ইন্টারন্যাশনাল প্রেস’ কমিটি। এ কমিটির প্রতিনিধিরা সাংবাদিকের ভূমিকায় সম্মেলনের বিভিন্ন কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ ও কাভার করবেন। তাঁরা সম্মেলনে চলমান আলোচনা, বিতর্ক ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো সংবাদ আকারে তুলে ধরবেন।
‘নীতি ও তারুণ্যের সংযোগ’
বিওয়াইএমইউএন ২০২৬-এর মূল মোটো ‘নীতি ও তারুণ্যের সংযোগ’। তরুণদের মধ্যে নেতৃত্ব, কূটনৈতিক চিন্তাভাবনা, যুক্তি উপস্থাপন, দলগতভাবে কাজ করা এবং নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়া সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা তৈরি করাই এ আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে সম্মেলনের আহ্বান হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে তিনটি শব্দ—‘বলো। শোনো। গড়ো।’ এর মাধ্যমে তরুণদের নিজেদের মতামত প্রকাশের পাশাপাশি অন্যের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং পারস্পরিক আলোচনা ও সহযোগিতার মাধ্যমে ভবিষ্যৎ নির্মাণে ভূমিকা রাখার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
তরুণদের নেতৃত্বের অনুশীলনের সুযোগ
সম্মেলনটির অন্যতম আয়োজক ফিউচার বাংলাদেশের প্রেসিডেন্ট রেদোয়ান আহমেদ বলেন, “বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ তার তরুণেরা। কিন্তু নেতৃত্ব বক্তৃতায় তৈরি হয় না, তৈরি হয় দায়িত্ব নেওয়ার অনুশীলনে।”
তিনি বলেন, “বিওয়াইএমইউএন ২০২৬ সেই অনুশীলনের জায়গা, যেখানে একজন তরুণ শিখবে কীভাবে শুনতে হয়, যুক্তি দিতে হয় এবং সবাইকে নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হয়।”
আয়োজকেরা মনে করছেন, জাতীয় সংসদ ভবনের এলডি হলে এ ধরনের একটি আয়োজন তরুণদের নীতিনির্ধারণী প্রক্রিয়া সম্পর্কে বাস্তবধর্মী ধারণা দেওয়ার পাশাপাশি নেতৃত্ব বিকাশে নতুন সুযোগ তৈরি করবে।
যৌথ আয়োজনে তিন সংগঠন
ফিউচার বাংলাদেশ, বেঙ্গলবাইট ও বাংলাদেশ ইয়ুথ ডিপ্লোম্যাটস ফেডারেশন (বিওয়াইডিএফ) যৌথভাবে বিওয়াইএমইউএন ২০২৬-এর আয়োজন করছে।
আয়োজকদের প্রত্যাশা, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের তরুণদের এক প্ল্যাটফর্মে এনে এই সম্মেলন পারস্পরিক মতবিনিময়, কূটনৈতিক দক্ষতা ও নেতৃত্বের চর্চার সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে তরুণদের চিন্তা, বিশ্লেষণ ও নীতিগত অবস্থান তুলে ধরার একটি কার্যকর ক্ষেত্র হিসেবে গড়ে উঠবে বিওয়াইএমইউএন ২০২৬।





















