থাইল্যান্ডের স্কুলে শিক্ষার্থী বন্দুকধারীর গুলিতে শিক্ষকসহ সাতজন নিহত
- আপডেট সময় : ০২:১৯:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৩৩ বার পড়া হয়েছে
থাইল্যান্ডের একটি স্কুলে শিক্ষার্থী বন্দুকধারীর গুলিতে শিক্ষকসহ সাতজন নিহত হয়েছেন। আজ শুক্রবার সকালে দেশটির মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশ ননথাবুরির বাং কুরাই জেলায় এ ঘটনা ঘটে। হামলার সময় স্কুলটির দৈনন্দিন কার্যক্রম চলছিল। স্থানীয় সময় শুক্রবার সকাল ১০টার পরপরই রাজধানী ব্যাংককের উপকণ্ঠের দেবসিরিন স্কুলের নোনথাবুরি শাখায় গুলি চালানোর খবর পাওয়া যায়।
ঘটনাস্থলের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, নিরাপত্তাকর্মীরা শিক্ষার্থীদের দ্রুত শ্রেণিকক্ষ থেকে বের করে নিয়ে যাচ্ছেন। পুলিশ কর্মকর্তারা বন্দুকধারীকে খুঁজে বের করার চেষ্টা করছেন।
পুলিশের তথ্যমতে, বন্দুকধারী ওই স্কুলেরই ১৪ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী। সে শিক্ষক ও সহপাঠীদের ওপর গুলি চালানোর পর আত্মহত্যা করে। হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগে আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
এক প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকদের জানান, শিক্ষার্থীরা একটি শ্রেণিকক্ষের ভেতরে লুকিয়ে ছিল। তারা অন্য একটি ভবন থেকে গুলির শব্দ শুনতে পায়। পরে পুলিশ কর্মকর্তারা শ্রেণিকক্ষের দরজায় কড়া নেড়ে শিক্ষার্থীদের বেরিয়ে যাওয়ার জন্য পথ পরিষ্কার করে দেন।
জেলা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ শিক্ষাবর্ষে স্কুলটিতে প্রায় ৩ হাজার ১০০ শিক্ষার্থী এবং ১৪৭ জন শিক্ষক ছিলেন। ডেবসিরিন ননথাবুরি স্কুলটি ডেবসিরিন মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর একটি নেটওয়ার্কের অংশ। এসব স্কুল থাইল্যান্ডের রাজপরিবারের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই স্কুলগুলোর সাবেক শিক্ষার্থীদের মধ্যে দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষাবিদ ও লেখকরাও রয়েছেন।
হঠাৎ গুলির শব্দে স্কুলজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ১৮ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী রয়টার্সকে জানান, প্রথমে তিনি গুলির শব্দ বুঝতে পারেননি। তার মনে হয়েছিল, হয়তো কেউ আতশবাজি ফোটাচ্ছে অথবা কোনো জিনিসে আঘাত করছে। ওই শিক্ষার্থী বলেন, ‘প্রথমে আমি ভাবতেই পারিনি যে এটা বন্দুকের গুলির শব্দ। অনেকগুলো গুলি চলেছিল—ঠাস ঠাস ঠাস। এরপর কিছুক্ষণ নীরবতা ছিল। তারপর আবার শুরু হলো।’
ঘটনার পর শিক্ষার্থীরা দ্রুত স্কুল থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করে। জরুরি উদ্ধারকর্মীদের ছড়িয়ে দেওয়া ছবিতে ব্যাংককের উত্তর-পশ্চিম উপকণ্ঠে অবস্থিত দেবসিরিন ননথাবুরি স্কুল থেকে শিক্ষার্থীদের বেরিয়ে আসতে দেখা যায়। একই সঙ্গে স্কুলের বাইরে একাধিক অ্যাম্বুলেন্স অবস্থান করছিল।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ছবিতে অ্যাম্বুলেন্সের বাইরে স্ট্রেচারে একজনকে শুয়ে থাকতে দেখা যায়। আরেকজন আহত ব্যক্তির পাশে একজন চিকিৎসাকর্মীকে চিকিৎসা দিতে দেখা যায়।
প্রসঙ্গত, গত ফেব্রুয়ারি মাসে দক্ষিণ থাইল্যান্ডের একটি স্কুলে গোলাগুলির ঘটনার পর এবার এ ঘটনা ঘটল। আগের ঘটনাটি থাইল্যান্ডে সহজে বন্দুক পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিল—যে প্রশ্নগুলো এখন নিশ্চিতভাবেই আবারও উঠবে।
সূত্র: বিবিসি, সিএনএন, গার্ডিয়ান






















