ইমরান খানের শর্তসাপেক্ষ মুক্তির ইঙ্গিত, পরিবারের দাবি
- আপডেট সময় : ০৫:১৮:১৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৩৩ বার পড়া হয়েছে
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে স্বাস্থ্যগত কারণ দেখিয়ে কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। তবে বিষয়টি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় তৃতীয় পক্ষের মধ্যস্থতায় প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনা চলছে বলে জানিয়েছে সামরিক বাহিনীর ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা।
সূত্রগুলোর দাবি, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অচলাবস্থা পাকিস্তানের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠেছে। এ পরিস্থিতির অবসান ঘটাতে ইমরান খানের মুক্তির বিষয়টি বিবেচনায় আনা হচ্ছে।
২০২৩ সালে দুর্নীতির মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে বন্দী রয়েছেন পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান। তাঁর সমর্থকদের দাবি, দুর্নীতির অভিযোগ নয়, বরং সামরিক বাহিনীর সঙ্গে দ্বন্দ্বের জেরেই তাঁকে কারাগারে রাখা হয়েছে।
পরিবারের অভিযোগ, কয়েক মাস ধরে ইমরান খানের সঙ্গে স্বজনদের দেখা করতে দেওয়া হচ্ছে না। দীর্ঘদিন যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। তাঁর দুই ছেলে সুলায়মান ও কাসিম খান বলেছেন, সাত মাসের বেশি সময় ধরে তাঁদের বাবা কার্যত বাইরের বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন।
ইমরান খানের আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমবিষয়ক উপদেষ্টা সাইয়েদ জুলফি বুখারি বলেছেন, তাঁর স্বাস্থ্যের অবনতি হচ্ছে এবং জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন। তাই মানবিক বিবেচনায় তাঁকে মুক্তি দেওয়া উচিত।
বিশ্লেষকদের ধারণা, যদি মুক্তির সিদ্ধান্ত হয়, তবে ২০১৯ সালে নওয়াজ শরিফের মতো চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার অনুমতি, রাজনীতি থেকে দূরে থাকা এবং এ বিষয়ে নীরব থাকার মতো শর্ত আরোপ করা হতে পারে। তবে এমন শর্ত মেনে নিতে ইমরান খান রাজি হবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
মানবাধিকার আইনজীবী ক্লাইভ স্ট্যাফোর্ড স্মিথের মতে, ইমরান খান আপসহীন স্বভাবের মানুষ। তাই কঠোর শর্তে মুক্তির প্রস্তাব এলেও তিনি তা নাও মেনে নিতে পারেন। তবে তাঁর আশা, মানবিক কারণে হলেও ইমরান যেন কারাগারের বাইরে প্রয়োজনীয় চিকিৎসার সুযোগ পান।























