ইউএফও–সংক্রান্ত গোপন নথি প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র
- আপডেট সময় : ০১:০৯:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৯ মে ২০২৬
- / ১৫৪১ বার পড়া হয়েছে
মহাকাশে রহস্যময় বস্তু বা ইউএফও নিয়ে দীর্ঘদিনের গোপনীয়তা ভেঙে ১৬১টি নথিপত্র প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তর পেন্টাগন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে শুক্রবার এসব নথি প্রকাশ করা হয়।
প্রকাশিত নথিতে অ্যাপোলো চন্দ্রাভিযানের নভোচারীদের অভিজ্ঞতা থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষের দেখা অজ্ঞাত মহাজাগতিক ঘটনার বিবরণ উঠে এসেছে। এতে ১৯৬০ ও ৭০-এর দশকের বিভিন্ন মিশনের তথ্য বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।
১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো ১১ মিশনের নভোচারী বাজ অলড্রিন চাঁদে যাওয়ার পথে ব্যাখ্যাতীত উজ্জ্বল আলোর উৎস দেখেছিলেন বলে নথিতে উল্লেখ রয়েছে। একইভাবে অ্যাপোলো ১২ ও অ্যাপোলো ১৭ মিশনের নভোচারীরাও মহাকাশে আলোর ঝলকানি ও অজ্ঞাত কণা দেখার অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন।
এছাড়া ১৯৬৫ সালের জেমিনি ৭ মিশনের অডিও রেকর্ডিংয়ে নভোচারীদের একটি অজ্ঞাত বস্তু নিয়ে গ্রাউন্ড সাপোর্টের সঙ্গে কথা বলতে শোনা যায়।
শুধু মহাকাশ নয়, পৃথিবীর বিভিন্ন স্থান থেকেও ইউএফও দেখার বহু রিপোর্ট এই নথিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। ২০২২ সালে ইরাক, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাতে মোতায়েন মার্কিন বাহিনীর ক্যামেরায় ধরা পড়া ডিম্বাকৃতির রহস্যময় বস্তুর ভিডিও, ১৯৫৭ সালে এফবিআইকে দেওয়া এক ব্যক্তির জবানবন্দি এবং ২০২৩ সালে সাধারণ নাগরিকদের দেখা ভাসমান ধাতব বস্তুর বর্ণনাও এতে রয়েছে।
চলতি বছরের শুরুতে এসব নথি প্রকাশের নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। সাম্প্রতিক সময়ে ভিনগ্রহের প্রাণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
২০২২ সালে মার্কিন কংগ্রেস এ বিষয়ে প্রায় ৫০ বছরের মধ্যে প্রথমবার শুনানি আয়োজন করে এবং সামরিক বাহিনী স্বচ্ছতার প্রতিশ্রুতি দেয়। পেন্টাগনের এই পদক্ষেপকে অনেক আইনপ্রণেতা স্বচ্ছতার পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।
তবে সাবেক কংগ্রেস সদস্য মার্জোরি টেলর গ্রিনের মতে, অর্থনৈতিক সংকট ও ইরান ইস্যু থেকে মনোযোগ সরাতেই এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
পেন্টাগন জানিয়েছে, প্রকাশিত ১৬১টি নথি তাদের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাচ্ছে এবং ভবিষ্যতে এ সংক্রান্ত আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে।
























