বিশ্বের সবচেয়ে দামি তিন গাছের দুটিই বাংলাদেশে
- আপডেট সময় : ১২:১৬:৪১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৩৪ বার পড়া হয়েছে
পৃথিবীতে সব গাছই প্রকৃতি এবং প্রাণীর জন্য ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ বা মূল্যবান। কিন্তু, পার্থিব বাস্তবতা হলো বিভিন্ন গুণাগুণ বিবেচনায় মানুষ গাছেরও মান নির্ধারণ করেছে। এই গাছেদের মর্যাদা এবং সক্ষমতার ভিত্তিতে দামও নির্ধারণ করা হয়েছে। পৃথিবীর সবচেয়ে মূল্যবান তিনটি গাছের দু’টিই আবার রয়েছে বাংলাদেশেও। মর্যাদার দিক থেকে জাপানের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী পাইন বনসাই সর্বোচ্চ মূল্যবান হলেও পৃথিবীতে আরও দু’টি গাছে আছে যার দাম পাইন বনসাইয়ের চেয়েও বেশি।
দামের দিক থেকে এক নম্বরে অর্থাৎ বিশ্বের সবচেয়ে দামি গাছ আগর। দ্বিতীয় ব্ল্যাকউড। আর, তৃতীয় পাইন বনসাই।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আগর গাছ থেকে তৈরি হয় অতি মূল্যবান সুগন্ধি। তবে, পৃথিবীর সর্বোচ্চ দামি এই গাছের দামেও তাদের নিজেদের মধ্যে তারতম্য রয়েছে। আগর গাছে বিশেষ ধরনের ছত্রাকের আক্রমণে সুগন্ধি তৈরি হয়, কার ওপর আক্রমণ কতটা সুগন্ধি কাঁচামাল প্রদায়ক, তার ওপরেই গাছ প্রতি দামের ভেদ আগরের। মান ভেদে প্রতি কেজি আগর কাঠের মূল্য ১০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা। তবে অবাক করার মতো আগরের আরেকটা তথ্য হলো, মাত্র এক হাজার টাকার মধ্যেই আগর গাছের চারা কিনতে পাওয়া যায়। ৪০ থেকে ৮০ ফুট পর্যন্ত আগর গাছ উঁচু হয়, তবে বিক্রয় যোগ্য কাঠ হয় ২ থেকে ১০ কেজি পর্যন্ত। বাংলাদেশের মৌলভীবাজার, সিলেট, হবিগঞ্জ, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়ি এলাকা এবং শেরপুর, ঠাকুরগাঁওয়ের কিছু সমতল জায়গায়তেও আগর গাছের চাষ হয়।
দ্বিতীয় দামি গাছ আফ্রিকার ব্ল্যাকউড। শক্ত, এবং টেকসইয়ের দিক থেকে ব্ল্যাকউডের দাম নির্ধারিত হয়েছে। বিশ্বে এটি একটি দুর্লভ গাছ। বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ কাজেই এই মূল্যবান কাঠ ব্যবহার করা হয়। সামরিক প্রয়োজন, প্রকৌশলগত কাজ, শিল্পকর্ম ছাড়াও আভিজাত্য প্রকাশে অনেকে বিভিন্ন ভাবে ব্ল্যাকউড ব্যবহার করে থাকেন। প্রতি কেজি ব্ল্যাকউডের কাঠের মূল্য ৬ থেকে ৮ লাখ টাকা। একেকটি পূর্ণাঙ্গ গাছে ১শ’ কেজিরও বেশি কাঠ হয়।
দামের দিক থেকে তৃতীয় স্থানে থাকা বিশ্বজুড়ে সমাদৃত পাইন বনসাই মূলত টব বা কন্টেইনারে তৈরি হয়। এটি পাইন গাছের ক্ষুদ্র রূপ যা শিল্পকর্ম হিসাবে পরিচিত। প্রাকৃতিকভাবে নাতিশীতোষ্ণ ও পাহাড়ি অঞ্চলে জন্মায়। প্রধানত জাপান, ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার ঠাণ্ডা ও খোলামেলা পরিবেশে পাইন গাছের বেশি-বেশি দেখা মেলে। বয়স, আকার আর শিল্পমান ভেদে পাইন বনসাই ১ হাজার থেকে শুরু করে ১০ কোটিরও বেশি দামে ক্রয়-বিক্রয় হয়ে থাকে। এপর্যন্ত ১৬ কোটি সর্বোচ্চ দামে পাইন বনসাই ক্রয়-বিক্রয়ের রেকর্ড রয়েছে। ২০১১ সালে জাপানে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীতে ৮০০ বছরের পুরোনো একটি জাপানি সাদা পাইন গাছ বিক্রি হয় ১৬ কোটি দামে। বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও শ্রীমঙ্গলের কোথাও-কোথাও পাইন গাছ জন্মে। এটি’র বনসাইও তৈরি করেন বাংলাদেশী শিল্পীরা।

























