আইওটি প্রযুক্তিতে যশোরে মুরগি চাষে নতুন বিপ্লব
- আপডেট সময় : ০২:৩৯:২৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
- / ১৫৮৭ বার পড়া হয়েছে
প্রযুক্তি নির্ভর মুরগির বাণিজ্যিক চাষে বড় সাফল্য এসেছে যশোরে। খামারে না গিয়েও ইন্টারনেট অব থিংস বা আইওটি প্রযুক্তির সাহায্যে ঘরের তাপমাত্রা, পানি, ফ্যান ও লাইট– মুঠোফোনের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রণ করছেন অভয়নগরের প্রান্তিক খামারীরা। এতে একদিকে যেমন কমেছে শ্রমিক সংখ্যা ও পরিচালনার খরচ, অন্যদিকে বেড়েছে লাভের পরিমাণ।
যশোরের অভয়নগর উপজেলার বাঘুটিয়া গ্রামের পলাশ মণ্ডল। ২০২৩ সালে অন্যের জমি ইজারা নিয়ে ব্রয়লার মুরগির খামার গড়ে তোলেন। কিন্তু দুজন শ্রমিকের বেতন আর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিলের কারণে লোকসানের মুখে পড়েন তিনি। খামারের ভবিষ্যৎ যখন অনিশ্চিত, তখনই সমাধান হিসেবে বেছে নেন আধুনিক আইওটি প্রযুক্তি। ছয় মাস আগে একটি বেসরকারি সংস্থার সহায়তায় খামারে এই ডিজিটাল প্রযুক্তি সংযোজন করেন তিনি।
এই প্রযুক্তির কল্যাণে পলাশ এখন খামারের বাইরে থেকেও মুঠোফোনের সাহায্যে ঘরের তাপমাত্রা, আর্দ্রতা ও পানির স্তর পর্যবেক্ষণ করতে পারেন। শুধু তাই নয়, অ্যাপের মাধ্যমেই দূর থেকে বন্ধ বা চালু করতে পারেন বৈদ্যুতিক পাখা, লাইট ও পানির মোটর। ফলে খামারে এখন আর বাড়তি কোনো শ্রমিকের প্রয়োজন হচ্ছে না, কমছে বিদ্যুতের অপচয়ও।
খামারের ভেতরে স্থাপন করা রয়েছে সিসি ক্যামেরা ও একটি বিশেষ আইওটি ডিভাইস। ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে এই ডিভাইসটি যুক্ত থাকে খামারির স্মার্টফোনে। এই প্রযুক্তি স্থাপনকারী প্রতিষ্ঠান জানায়, খুব সামান্য খরচেই খামারকে এভাবে ‘স্মার্ট’ করে তোলা সম্ভব।
প্রযুক্তির এই জাদুকরী ব্যবহারে পলাশ মণ্ডল এখন এলাকার অন্য খামারিদের কাছে এক অনুকরণীয় মডেল। তার এই সাফল্য দেখে আশপাশের অনেক তরুণ উদ্যোক্তা এখন আইওটি খামার করতে আগ্রহী হচ্ছেন। তবে সরকারি পর্যায়ে এই প্রযুক্তি সহজলভ্য করার দাবি তাদের।
এদিকে জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগ বলছে, ডিজিটাল এই প্রযুক্তির ব্যবহারে উৎপাদন খরচ কমায় পোল্ট্রি খাতে নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে।
আধুনিক বাংলাদেশ বিনির্মাণে পলাশ মণ্ডলের এই আইওটি প্রযুক্তির খামার প্রান্তিক পর্যায়ের পোল্ট্রি শিল্পে এক নতুন ও লাভজনক বিপ্লবের বার্তা দিচ্ছে।

























