রংপুরে লংমার্চে জামায়াতের আমির: সরকারকে মূল্য দিতে হবে
- আপডেট সময় : ১২:২৫:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৫৩ বার পড়া হয়েছে
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘সম্পত্তি হস্তান্তর (সংশোধন) বিল-২০২৬’ কোরআন-সুন্নাহর পরিপন্থি। তার দাবি, এ আইন পাসের কারণে দেশে সামাজিক ও পারিবারিক সংকট তৈরি হতে পারে। তিনি আইনটি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন।
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাতে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-রংপুর লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। বিলটি জাতীয় সংসদে পাস হওয়ার পর জামায়াতসহ কয়েকটি ইসলামি সংগঠন এর বিভিন্ন বিধান নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে।
‘গণভোট না মানলে সবকিছু নিয়েই প্রশ্ন উঠবে’
গণভোট প্রসঙ্গে শফিকুর রহমান বলেন, সরকার সরাসরি গণভোট মানে না—এ কথা না বলে সংবিধানে গণভোট নেই বলে বিষয়টি এড়িয়ে যাচ্ছে। তার ভাষ্য, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পরিবর্তন সংবিধানের বাইরে গিয়ে হয়ে থাকলে বর্তমান ব্যবস্থার সবকিছু সংবিধানের আলোকে ব্যাখ্যা করার সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, সরকারকে জনগণের দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করতে হবে। তা না হলে সংসদের ভেতরে প্রতিবাদের পাশাপাশি রাজপথেও আন্দোলন চালিয়ে যাবে ১১ দলীয় ঐক্য।
‘ওয়াদা রাখলে লংমার্চের প্রয়োজন হতো না’
বিএনপি সরকার গঠনের পর নির্বাচনের আগে দেওয়া বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে বলে অভিযোগ করেন জামায়াতের আমির।
তিনি বলেন, সরকার যদি নিজেদের ভুল স্বীকার করে প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়, তাহলে লংমার্চের মতো কর্মসূচির প্রয়োজন হবে না। অন্যথায় আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, ১১ দলীয় ঐক্যের আট দফা দাবি প্রয়োজনে এক দফায় পরিণত হতে পারে। তবে তিনি সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
চাঁদাবাজি ও দ্রব্যমূল্য নিয়ে অভিযোগ
দেশে বিদ্যুৎ, গ্যাস, সার ও কর্মসংস্থানের সংকট রয়েছে দাবি করে জামায়াতের আমির চাঁদাবাজি বন্ধে সরকারের পদক্ষেপ দাবি করেন।
তার অভিযোগ, চাঁদাবাজির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ছে এবং সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। চাঁদাবাজি বন্ধের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নেরও দাবি জানান তিনি।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি
রংপুর অঞ্চলের অন্যতম প্রধান দাবি তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়টিও তুলে ধরেন শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগে তিস্তা নিয়ে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও সাত মাস পরও দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না। উত্তরাঞ্চলের কৃষি ও নদী ব্যবস্থাপনার উন্নয়নে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।
জামায়াতের আমির বলেন, সরকার নির্বাচিত হলে উত্তরবঙ্গকে কৃষির রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা এবং নদীগুলোর জীবন ফিরিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।
আট দফা দাবিতে ঢাকা-রংপুর লংমার্চ
১১ দলীয় ঐক্যের আট দফা দাবিতে শনিবার সকালে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ থেকে ঢাকা-রংপুর লংমার্চ শুরু হয়। পথে গাজীপুরের ভোগরা বাইপাস, টাঙ্গাইলের নগর জালফৈ বাইপাস, সিরাজগঞ্জের হাটিকমরুল, বগুড়ার মাটিডালি বিমান মোড় ও গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। পরে রংপুর জিলা স্কুল মাঠে সমাপনী সমাবেশ হয়।
সমাবেশে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপির চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হকসহ ১১ দলীয় ঐক্যের বিভিন্ন দলের নেতারা বক্তব্য দেন।
জোটের ঘোষিত আট দফার মধ্যে রয়েছে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন ও জুলাই গণহত্যার বিচার, বিদ্যুৎ-তেল-গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, দুর্নীতি-চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ, আইনশৃঙ্খলার উন্নয়ন, সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন।
























