০১:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশসহ ৮ দেশে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি, গবেষকদের সতর্কতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১২:৪৬:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৪০ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

মবাহ গলে যাওয়া, ভূমিধস ও হিমবাহ হ্রদের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার মতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশসহ এশিয়ার আট দেশ। দেশগুলো হলো—বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, চীন, আফগানিস্তান ও মিয়ানমার।

সম্প্রতি নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে হিমবাহ ধসের পর নতুন করে এই ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন গবেষকরা। তাদের আশঙ্কা, হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দ্রুত বাড়তে থাকা অস্থিতিশীলতা আগামী দিনে ভাটি অঞ্চলেও বড় ধরনের দুর্যোগ ডেকে আনতে পারে।

হিমবাহ ধসে বিস্তৃত অঞ্চলে প্রভাব

আন্তর্জাতিক সমন্বিত পর্বত উন্নয়ন কেন্দ্রের (আইসিআইএমওডি) তথ্য অনুযায়ী, হিমবাহ ধসের প্রভাব শুধু পাহাড়ি এলাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। পশ্চিমে আফগানিস্তান থেকে পূর্বে মিয়ানমার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত উজান ও ভাটি অঞ্চলে এর প্রভাব পড়তে পারে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, হিমালয়ের পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে বিজ্ঞানীরা ক্রমেই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছেন।

বাড়ছে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি

গবেষকদের মতে, হিমালয়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় দ্রুত হিমবাহ গলে যাচ্ছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন জমাট থাকা পারমাফ্রস্ট বা মাটিও নরম হয়ে পড়ছে। ফলে ভূমিধসের পাশাপাশি হিমবাহ হ্রদের বাঁধ আকস্মিকভাবে ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

এ ছাড়া হিমালয় থেকে উৎপন্ন নদীগুলোর পানিপ্রবাহ হঠাৎ বেড়ে গিয়ে বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এতে পাহাড়ি অঞ্চল থেকে শুরু করে ভাটি এলাকার কোটি কোটি মানুষ ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন।

৪০ হাজার হিমবাহের মধ্যে নজরদারিতে মাত্র ২১টি

যুক্তরাজ্যের পরিবেশবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সিস্টেমিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলে প্রায় ৪০ হাজার হিমবাহ রয়েছে। তবে এর মধ্যে মাত্র ২১টি হিমবাহ সক্রিয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এই অঞ্চল থেকেই এশিয়ার ১০টি প্রধান নদী ব্যবস্থার উৎপত্তি। এর মধ্যে রয়েছে আমু দরিয়া, সিন্ধু, গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, ইরাবতী, সালউইন, মেকং, ইয়াংসি, হলুদ নদী ও তারিম।

এসব নদী অববাহিকা ভাটি অঞ্চলের প্রায় ২০০ কোটি মানুষের পানি, জীবিকা ও অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

বাংলাদেশও রয়েছে ঝুঁকির মধ্যে

হিন্দুকুশ-হিমালয় থেকে উৎপন্ন গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র নদ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ভারতে প্রবাহিত গঙ্গা বাংলাদেশে এসে পদ্মা নামে পরিচিত। অন্যদিকে তিব্বতে উৎপন্ন ব্রহ্মপুত্র চীন ও ভারতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে যমুনা নামে প্রবাহিত হয়েছে।

ফলে হিমালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন ও হিমবাহের দ্রুত পরিবর্তনের প্রভাব বাংলাদেশের মতো ভাটি অঞ্চলেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন গবেষকরা।

ভারতে ঝুঁকিতে প্রায় ২০০ হিমবাহ হ্রদ

সিস্টেমিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু ভারতের অংশেই প্রায় ২০০টি হিমবাহ হ্রদ যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে যাওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে ৫৬টি হিমবাহ হ্রদ অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

সিস্টেমিকের সিনিয়র ডিরেক্টর ও প্রতিবেদনের প্রধান লেখক অরুশি চোপড়া বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে কি না—এখন সেই প্রশ্ন নয়। বরং কখন এমন ঘটনা ঘটবে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করার পরামর্শ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিমালয়ের পর্বত ও নদীগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে আগাম সতর্কবার্তা এবং দ্রুত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

নেদারল্যান্ডসের উট্রেখট বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্বতবিদ ওয়াল্টার ইমারজিল বলেন, হিমালয়ের প্রতিটি হিমবাহ ও পাথুরে ঢাল পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব নয়। তবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে নিয়মিত নজরদারি চালানো সম্ভব।

তার মতে, কোনো হিমবাহের নিচে জলবিদ্যুৎ বাঁধ, বড় শহর বা ঘনবসতি থাকলে সেসব এলাকাকে নজরদারির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কারণ পাহাড়ের সামান্য অস্থিতিশীলতাও এসব এলাকায় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটাতে পারে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

বাংলাদেশসহ ৮ দেশে ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি, গবেষকদের সতর্কতা

আপডেট সময় : ১২:৪৬:০১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মবাহ গলে যাওয়া, ভূমিধস ও হিমবাহ হ্রদের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার মতো ভয়াবহ প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকিতে রয়েছে বাংলাদেশসহ এশিয়ার আট দেশ। দেশগুলো হলো—বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, চীন, আফগানিস্তান ও মিয়ানমার।

সম্প্রতি নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে হিমবাহ ধসের পর নতুন করে এই ঝুঁকি নিয়ে সতর্ক করেছেন গবেষকরা। তাদের আশঙ্কা, হিমালয় অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে দ্রুত বাড়তে থাকা অস্থিতিশীলতা আগামী দিনে ভাটি অঞ্চলেও বড় ধরনের দুর্যোগ ডেকে আনতে পারে।

হিমবাহ ধসে বিস্তৃত অঞ্চলে প্রভাব

আন্তর্জাতিক সমন্বিত পর্বত উন্নয়ন কেন্দ্রের (আইসিআইএমওডি) তথ্য অনুযায়ী, হিমবাহ ধসের প্রভাব শুধু পাহাড়ি এলাকাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না। পশ্চিমে আফগানিস্তান থেকে পূর্বে মিয়ানমার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটার বিস্তৃত উজান ও ভাটি অঞ্চলে এর প্রভাব পড়তে পারে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণা প্রতিবেদনের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, হিমালয়ের পরিবর্তিত পরিস্থিতি নিয়ে বিজ্ঞানীরা ক্রমেই উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছেন।

বাড়ছে ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি

গবেষকদের মতে, হিমালয়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় দ্রুত হিমবাহ গলে যাচ্ছে। পাশাপাশি দীর্ঘদিন জমাট থাকা পারমাফ্রস্ট বা মাটিও নরম হয়ে পড়ছে। ফলে ভূমিধসের পাশাপাশি হিমবাহ হ্রদের বাঁধ আকস্মিকভাবে ভেঙে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ছে।

এ ছাড়া হিমালয় থেকে উৎপন্ন নদীগুলোর পানিপ্রবাহ হঠাৎ বেড়ে গিয়ে বিস্তীর্ণ জনপদ প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এতে পাহাড়ি অঞ্চল থেকে শুরু করে ভাটি এলাকার কোটি কোটি মানুষ ঝুঁকির মধ্যে পড়তে পারেন।

৪০ হাজার হিমবাহের মধ্যে নজরদারিতে মাত্র ২১টি

যুক্তরাজ্যের পরিবেশবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সিস্টেমিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলে প্রায় ৪০ হাজার হিমবাহ রয়েছে। তবে এর মধ্যে মাত্র ২১টি হিমবাহ সক্রিয়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

এই অঞ্চল থেকেই এশিয়ার ১০টি প্রধান নদী ব্যবস্থার উৎপত্তি। এর মধ্যে রয়েছে আমু দরিয়া, সিন্ধু, গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, ইরাবতী, সালউইন, মেকং, ইয়াংসি, হলুদ নদী ও তারিম।

এসব নদী অববাহিকা ভাটি অঞ্চলের প্রায় ২০০ কোটি মানুষের পানি, জীবিকা ও অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

বাংলাদেশও রয়েছে ঝুঁকির মধ্যে

হিন্দুকুশ-হিমালয় থেকে উৎপন্ন গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র নদ বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ভারতে প্রবাহিত গঙ্গা বাংলাদেশে এসে পদ্মা নামে পরিচিত। অন্যদিকে তিব্বতে উৎপন্ন ব্রহ্মপুত্র চীন ও ভারতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে যমুনা নামে প্রবাহিত হয়েছে।

ফলে হিমালয়ের জলবায়ু পরিবর্তন ও হিমবাহের দ্রুত পরিবর্তনের প্রভাব বাংলাদেশের মতো ভাটি অঞ্চলেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন গবেষকরা।

ভারতে ঝুঁকিতে প্রায় ২০০ হিমবাহ হ্রদ

সিস্টেমিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু ভারতের অংশেই প্রায় ২০০টি হিমবাহ হ্রদ যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে যাওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে ৫৬টি হিমবাহ হ্রদ অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে।

সিস্টেমিকের সিনিয়র ডিরেক্টর ও প্রতিবেদনের প্রধান লেখক অরুশি চোপড়া বলেন, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা ঘটবে কি না—এখন সেই প্রশ্ন নয়। বরং কখন এমন ঘটনা ঘটবে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।

ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করার পরামর্শ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হিমালয়ের পর্বত ও নদীগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানোর পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে তথ্য বিনিময় জোরদার করতে হবে। একই সঙ্গে আগাম সতর্কবার্তা এবং দ্রুত মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা রাখতে হবে।

নেদারল্যান্ডসের উট্রেখট বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্বতবিদ ওয়াল্টার ইমারজিল বলেন, হিমালয়ের প্রতিটি হিমবাহ ও পাথুরে ঢাল পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব নয়। তবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলো চিহ্নিত করে সেখানে নিয়মিত নজরদারি চালানো সম্ভব।

তার মতে, কোনো হিমবাহের নিচে জলবিদ্যুৎ বাঁধ, বড় শহর বা ঘনবসতি থাকলে সেসব এলাকাকে নজরদারির ক্ষেত্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে। কারণ পাহাড়ের সামান্য অস্থিতিশীলতাও এসব এলাকায় বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটাতে পারে।