০৩:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

সেতু অসমাপ্ত

মনোহরগঞ্জে ছয় বছরেও অসমাপ্ত সেতু নির্মাণ

কুমিল্লা প্রতিনিধি
  • আপডেট সময় : ০১:৩৮:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৬১৫ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার বাইশগাঁও ইউনিয়নের চড্ডা এলাকায় নির্মাণাধীন নান্দনিক হাওড়া আর্চ গার্ডার সেতুর কাজ ছয় বছরেও শেষ হয়নি। মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কাজ সম্পন্ন করতে না পেরে ঠিকাদার চলে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে নির্মাণকাজ। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আশপাশের কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার বাসিন্দা।

উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, উপজেলা শহর (নন-মিউনিসিপ্যাল) মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন ও মৌলিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উপজেলা সদর থেকে হাওড়া ও চড্ডা সড়কের নদনা খালের ওপর সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২০ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ চুক্তি অনুযায়ী ২০২২ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় ঠিকাদারকে দুই দফা সময় বাড়ানো হয়। এরপরও কাজ শেষ না হওয়ায় ২০২৩ সালে কার্যাদেশ বাতিল করে কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে কয়েক দফা পুনঃদরপত্র আহ্বানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও দীর্ঘ সময়েও সেতুটির নির্মাণ শেষ হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটির দুই পাশে দুটি গার্ডারের কাজ শেষ হলেও মাঝের অংশসহ অন্যান্য কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে। দীর্ঘদিন নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকা গার্ডারের বেরিয়ে থাকা রডে মরিচা ধরেছে। এতে নির্মাণসামগ্রীও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সেতু নির্মাণের শুরু থেকেই বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় তারা নিজ উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে চলাচল করছেন। তবে বর্ষাকালে পানির উচ্চতা বেড়ে গেলে সেই সাঁকোও ডুবে যায়। ফলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. শরীফ হোসেন, মাওলানা সামছুল আলম ও মো. সেলিমসহ কয়েকজন জানান, নির্মাণকাজ শুরুর প্রথম দুই বছরে শুধু দুটি গার্ডারের কাজ শেষ হয়। এরপর আর ঠিকাদারের কোনো লোকজনকে কাজ করতে দেখা যায়নি। পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে সেতুর কাজ বন্ধ থাকায় এলাকার মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।

চড্ডা, হাওড়া, দিশাবন্দ, নোয়াপাড়া ও ডাবুরিয়াসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে বোরো মৌসুমে কৃষকদের মাঠের ধান পারাপারে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়।

এ বিষয়ে মনোহরগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. কামাল হোসেন জানান, সেতুটির জন্য নতুন করে টেন্ডার হয়েছে। বর্তমানে কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে কোন ঠিকাদার কাজটি পেয়েছেন সে বিষয়ে তিনি এখনো অবগত নন। দ্রুত সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ করে জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

সেতু অসমাপ্ত

মনোহরগঞ্জে ছয় বছরেও অসমাপ্ত সেতু নির্মাণ

আপডেট সময় : ০১:৩৮:১৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জ উপজেলার বাইশগাঁও ইউনিয়নের চড্ডা এলাকায় নির্মাণাধীন নান্দনিক হাওড়া আর্চ গার্ডার সেতুর কাজ ছয় বছরেও শেষ হয়নি। মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও কাজ সম্পন্ন করতে না পেরে ঠিকাদার চলে যাওয়ায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে নির্মাণকাজ। এতে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন আশপাশের কয়েকটি গ্রামের কয়েক হাজার বাসিন্দা।

উপজেলা এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, উপজেলা শহর (নন-মিউনিসিপ্যাল) মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন ও মৌলিক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় উপজেলা সদর থেকে হাওড়া ও চড্ডা সড়কের নদনা খালের ওপর সেতুটি নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২০ সালে শুরু হওয়া প্রকল্পটির কাজ চুক্তি অনুযায়ী ২০২২ সালে শেষ হওয়ার কথা ছিল।

তবে নির্ধারিত সময়ে কাজ শেষ করতে না পারায় ঠিকাদারকে দুই দফা সময় বাড়ানো হয়। এরপরও কাজ শেষ না হওয়ায় ২০২৩ সালে কার্যাদেশ বাতিল করে কর্তৃপক্ষ। পরবর্তীতে কয়েক দফা পুনঃদরপত্র আহ্বানের উদ্যোগ নেওয়া হলেও দীর্ঘ সময়েও সেতুটির নির্মাণ শেষ হয়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুটির দুই পাশে দুটি গার্ডারের কাজ শেষ হলেও মাঝের অংশসহ অন্যান্য কাজ অসম্পূর্ণ রয়েছে। দীর্ঘদিন নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকা গার্ডারের বেরিয়ে থাকা রডে মরিচা ধরেছে। এতে নির্মাণসামগ্রীও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সেতু নির্মাণের শুরু থেকেই বিকল্প চলাচলের ব্যবস্থা না থাকায় তারা নিজ উদ্যোগে বাঁশের সাঁকো তৈরি করে চলাচল করছেন। তবে বর্ষাকালে পানির উচ্চতা বেড়ে গেলে সেই সাঁকোও ডুবে যায়। ফলে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, কৃষক ও সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. শরীফ হোসেন, মাওলানা সামছুল আলম ও মো. সেলিমসহ কয়েকজন জানান, নির্মাণকাজ শুরুর প্রথম দুই বছরে শুধু দুটি গার্ডারের কাজ শেষ হয়। এরপর আর ঠিকাদারের কোনো লোকজনকে কাজ করতে দেখা যায়নি। পাঁচ বছরের বেশি সময় ধরে সেতুর কাজ বন্ধ থাকায় এলাকার মানুষের দুর্ভোগ বেড়েছে।

চড্ডা, হাওড়া, দিশাবন্দ, নোয়াপাড়া ও ডাবুরিয়াসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশেষ করে বোরো মৌসুমে কৃষকদের মাঠের ধান পারাপারে বড় ধরনের সমস্যায় পড়তে হয়।

এ বিষয়ে মনোহরগঞ্জ উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী মো. কামাল হোসেন জানান, সেতুটির জন্য নতুন করে টেন্ডার হয়েছে। বর্তমানে কাজ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। তবে কোন ঠিকাদার কাজটি পেয়েছেন সে বিষয়ে তিনি এখনো অবগত নন। দ্রুত সেতুটির নির্মাণকাজ শেষ করে জনদুর্ভোগ নিরসনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।