মার্কিন হুমকিতে তেলের বিশ্ববাজার
ইরানে মার্কিন নৌ অবরোধের হুমকি
- আপডেট সময় : ০৩:১৬:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৫১ বার পড়া হয়েছে
ইরানের ওপর নৌ অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার মার্কিন হুমকিতে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। শুক্রবার (১৪ আগস্ট) জ্বালানি বাজারে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যায়। মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কায় এ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুক্রবার বাংলাদেশ সময় দুপুর সোয়া ২টা পর্যন্ত ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৪৩ ডলার বা ১ দশমিক ৬৪ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৮৮ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৫৬ ডলার বা ১ দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়ে ৮২ দশমিক ৮১ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
এসইবি রিসার্চের বিশ্লেষক বারজানে শিলড্রপ বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ পদক্ষেপের স্বাভাবিক প্রতিক্রিয়াতেই তেলের দাম বেড়েছে। এতে মধ্যপ্রাচ্যের সংকট আরও দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে এবং দ্রুত সমাধানের সম্ভাবনাও কমেছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্র জানায়, ইরানের ওপর অনির্দিষ্টকাল নৌ অবরোধ চালিয়ে যেতে পারে তারা। পাশাপাশি যুদ্ধবিরতি আলোচনা থমকে যাওয়ায় তেহরানের ওপর আরও কঠোর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের হুমকিও দেওয়া হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট বলেন, আগামী সপ্তাহে ইরানের বিরুদ্ধে আরও কিছু পদক্ষেপের ঘোষণা আসতে পারে। তাঁর দাবি, ইরানের ওপর এমন অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা হবে, যা এর আগে কোনো দেশের বিরুদ্ধে দেওয়া হয়নি।
এদিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক না হওয়ায় তেলের বাজারে উদ্বেগ আরও বাড়ছে। সংঘাত শুরুর আগে বিশ্বের দৈনিক তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ দিয়ে পরিবহন করা হতো।
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহের শেষ দিকে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল মাসিক গড়ের তুলনায় আরও কমে গেছে। একই সময়ে সমুদ্রপথটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান পরস্পরবিরোধী দাবি করছে।
বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালি দিয়ে যাওয়ার সময় সংযুক্ত আরব আমিরাতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আবুধাবি ন্যাশনাল অয়েল কোম্পানির দুটি জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ডব্লিউএএম জানিয়েছে। এ ঘটনায় ইরানকে দায়ী করে নিন্দা জানিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকার।
তবে তেলের বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কার পাশাপাশি চাহিদা কমার পূর্বাভাসও রয়েছে। ওপেক ও আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) তেলের চাহিদা বৃদ্ধির হার কমার ইঙ্গিত দিয়েছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে গত এক সপ্তাহে অপরিশোধিত তেলের মজুত সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেড়েছে।
জুলিয়াস বেয়ারের অর্থনীতি ও নেক্সট জেনারেশন রিসার্চ বিভাগের প্রধান নরবার্ট রুকারের মতে, তেলের মজুত প্রত্যাশার তুলনায় ভালো অবস্থায় থাকায় বাজারে দাম কমার চাপ তৈরি হওয়ার কথা। তবে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট ও হরমুজ প্রণালিতে অস্থিরতা আপাতত তেলের দামে ঊর্ধ্বমুখী চাপ তৈরি করছে।





















