অস্ত্রের মুখে এসএ পরিবহনের জরুরি সার্ভিসের গাড়ি, আড়াই লাখ টাকা ফেরত
- আপডেট সময় : ০৩:৪১:৪৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৪৪ বার পড়া হয়েছে
নরসিংদীতে এসএ পরিবহনের জরুরি সার্ভিসের দুইটি গাড়ি অস্ত্রের মুখে আটকে বৈধ পণ্যকে অবৈধ আখ্যা দিয়ে চাঁদা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে। অভিযোগ অনুযায়ী, বেলাবো থানার এসআই শিহাব আহমেদ ও রায়পুরা থানার এসআই দিবসের নেতৃত্বে পৃথক দুটি ঘটনায় গ্রাহকদের কাছ থেকে মোট আড়াই লাখ টাকা আদায় করা হয়।
পরে বিষয়টি জানাজানি হলে টাকা ফেরত দিতে বাধ্য হন অভিযুক্তরা। একই সঙ্গে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ না করতে বিভিন্ন মাধ্যমে তদবিরের অভিযোগও উঠেছে। ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনে চাঞ্চল্য তৈরি হলেও এখনো অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অস্ত্রের মুখে গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি
গত ১৩ সেপ্টেম্বর প্রতিদিনের মতো গ্রাহকদের বুকিং করা ডাক, ডকুমেন্ট, প্যাকেট ও পার্সেল নিয়ে কিশোরগঞ্জ ও হবিগঞ্জ থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হয় এসএ পরিবহনের জরুরি সার্ভিসের দুটি কাভার্ডভ্যান।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের নরসিংদীর বারৈচায় পৌঁছালে বেলাবো থানার এসআই শিহাব আহমেদের নেতৃত্বে কয়েকজন পুলিশ সদস্য গাড়ি দুটির গতিরোধ করেন বলে অভিযোগ। গাড়ি আটকের সময় একজন পুলিশ সদস্যের পোশাকে নামপ্লেটও ছিল না বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, অস্ত্রের মুখে চালক ও সহকারীকে জিম্মি করে গাড়ি দুটিতে তল্লাশি চালানো হয়। প্রতিটি পণ্যের বিপরীতে মেমো, চালানসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও মালামাল জব্দ এবং বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়।
মামলা-গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়
অভিযোগ অনুযায়ী, বুকিং মেমো থেকে গ্রাহকদের ফোন নম্বর সংগ্রহ করেন এসআই শিহাব। পরে ফোনে ভয়ভীতি দেখিয়ে ৭ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়। একপর্যায়ে মামলা ও গ্রেফতারের ভয় দেখিয়ে ২ লাখ টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগ।
ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে ওই টাকা লেনদেন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।
ঘটনাটি জানাজানি হলে অনুসন্ধানে নামে এসএটিভি। বেলাবো থানায় গিয়ে শিহাবের চক্রের সদস্য হিসেবে পরিচিত তরিকুলের সঙ্গে কথা বলা হলে তিনি গ্রাহক হয়রানির বিষয়টি স্বীকার করেন। তবে চাঁদাবাজির অভিযোগ অস্বীকার করেন।
পরে বেলাবো থানার ওসি এস এম আমান উল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে গ্রাহকের টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রায়পুরাতেও একই অভিযোগ
এর আগে ১১ সেপ্টেম্বর রায়পুরা এলাকায় একই ধরনের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ। মৌলভীবাজার থেকে ঢাকাগামী এসএ পরিবহনের জরুরি সার্ভিসের আরেকটি গাড়ি ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের মাহমুদাবাদ এলাকা থেকে আটকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
রায়পুরা থানার এসআই দিবসের নেতৃত্বে একদল পুলিশ সদস্য গাড়িটি জিম্মি করেন বলে অভিযোগ। গাড়িতে কোনো অবৈধ পণ্য না পাওয়ার পর গ্রাহকের কাছ থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগ অনুযায়ী, ভয়ভীতি দেখিয়ে গ্রাহকের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা এবং কিছু মালামাল নেওয়া হয়। পরে এ বিষয়ে জানতে রায়পুরা থানায় গেলে এসআই দিবস নিজের কর্মকাণ্ডের কথা স্বীকার করে টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
পরে মধ্যরাতে ভৈরবে এসএ পরিবহনের ম্যানেজারের কাছে গিয়ে তিনি নিজেই গ্রাহকের টাকা ফেরত দেন বলে জানা গেছে।
ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস, হয়নি কার্যকর
দুটি ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে নরসিংদীর পুলিশ সুপার আবদুল্লাহ্-আল-ফারুক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে ঘটনার ছয় দিন পার হলেও সেই প্রক্রিয়া শুরু হয়নি বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
এদিকে টাকা ফেরত পাওয়ায় স্বস্তি প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী গ্রাহকরা। তারা ঘটনাটি অনুসন্ধান ও প্রকাশ্যে আনার জন্য গণমাধ্যমকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন। পাশাপাশি চাঁদাবাজি ও হয়রানির সঙ্গে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে জরুরি সার্ভিসের গাড়ি আটকে হয়রানি ও চাঁদাবাজির অভিযোগ এর আগেও উঠেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। এসব অভিযোগের যথাযথ তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত না হলে মহাসড়কে জরুরি পরিবহন সেবার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাবে।






















