আটক তুহিনের বাড়ি থেকে অপ্রতিমের আইফোন উদ্ধার: পুলিশ
- আপডেট সময় : ১২:৩৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৮৯ বার পড়া হয়েছে
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষকের ১৩ বছর বয়সী সন্তান ইশিয়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আটক তুহিনের বাড়ি থেকে তার ব্যবহৃত আইফোন উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে কুমিল্লা কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মফিজ উদ্দিন ভূইয়া বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, অপ্রতিমের নিখোঁজ ও মৃত্যুর ঘটনা তদন্ত করতে গিয়ে সিসিটিভি ফুটেজ, মোবাইল ফোনের তথ্য এবং সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এরই মধ্যে তুহিন, আনাস ও ফাহিম নামে তিনজনকে আটক করা হয়েছে।
তুহিনের বাড়িতে পুলিশের অভিযান
কোটবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মফিজ উদ্দিন ভূইয়া জানান, অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধারের পর তদন্তের অংশ হিসেবে সন্দেহভাজন তুহিনের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানের সময় সেখান থেকে অপ্রতিমের ব্যবহৃত আইফোনটি উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধার হওয়া ফোনটি অপ্রতিমের মায়ের বলে জানা গেছে। নিখোঁজ হওয়ার সময় অপ্রতিম ফোনটি সঙ্গে নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। পরে ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায় এবং মরদেহ উদ্ধারের সময় সেটি তার সঙ্গে ছিল না।
পুলিশ এখন ফোনটির কললিস্ট, মেসেজ, লোকেশনসহ বিভিন্ন তথ্য পরীক্ষা করে দেখছে। এসব তথ্য তদন্তে ঘটনার আগে ও পরে অপ্রতিমের সঙ্গে কারা যোগাযোগ করেছিল, সে বিষয়ে ধারণা দিতে পারে।
সিসিটিভি ফুটেজে তুহিনের উপস্থিতি
পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, অপ্রতিম নিখোঁজ হওয়ার পর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকসহ আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করা হয়। সেখানে অপ্রতিমের সঙ্গে তুহিনকে দেখা যায়।
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম এম শরীফুল করীম জানিয়েছেন, সিসিটিভি ফুটেজে অপ্রতিমকে তুহিনের সঙ্গে দেখা যাওয়ার পর বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পরে তুহিনকে সন্দেহভাজন হিসেবে আটক করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, তুহিনকে জিজ্ঞাসাবাদের পর পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আনাস ও ফাহিমকেও আটক করা হয়েছে। তিনজনকেই ঘটনার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে তাদের কারও বিরুদ্ধে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয়টি এখনো আদালতে প্রমাণিত হয়নি।
প্রায় ২২ ঘণ্টা পর উদ্ধার হয় মরদেহ
শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে কুমিল্লার কোটবাড়ি-গন্ধমতী এলাকার বাসা থেকে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে বের হয় অপ্রতিম। এরপর সে আর বাড়িতে ফেরেনি। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করে তাকে না পেয়ে সদর দক্ষিণ থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন।
নিখোঁজের প্রায় ২১ থেকে ২২ ঘণ্টা পর শনিবার দুপুর ১টার দিকে কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলার সানন্দা এলাকার লালমাই পাহাড়সংলগ্ন একটি নির্জন স্থান থেকে অপ্রতিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তার মাথায় আঘাতের চিহ্ন পাওয়ার কথা জানিয়েছে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র। পরে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
আইফোনকে ঘিরে তদন্ত
অপ্রতিমের সঙ্গে থাকা আইফোনটি উদ্ধারের পর তদন্তে নতুন তথ্য পাওয়ার আশা করছে পুলিশ। এর আগে অপ্রতিমের বাবা জানিয়েছেন, ফোনের জন্যই তার ছেলেকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে তিনি মনে করছেন। তবে হত্যার প্রকৃত কারণ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি পুলিশ।
পুলিশ বলছে, আইফোনটি কোথায় ছিল, কার কাছে ছিল এবং ঘটনার সময় এটি কীভাবে তুহিনের বাড়িতে গেল—এসব বিষয় তদন্তের আওতায় রয়েছে। একই সঙ্গে সিসিটিভি ফুটেজ ও আটক ব্যক্তিদের বক্তব্য যাচাই করা হচ্ছে।
তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে মোবাইল ও সিসিটিভি তথ্য
তদন্তসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, অপ্রতিমের আইফোনের তথ্য এবং বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ ঘটনাটির সময়রেখা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। পাশাপাশি আটক তিনজনের বক্তব্য পরস্পরের সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হচ্ছে।
পুলিশ জানিয়েছে, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে ঘটনার কারণ বা কারও সম্পৃক্ততা সম্পর্কে চূড়ান্ত মন্তব্য করা হচ্ছে না। তদন্তের অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে অপ্রতিমের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং ঘটনায় কারা জড়িত, সে বিষয়ে আরও তথ্য পাওয়া যেতে পারে।






















