০১:৫৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬

রাজস্ব সম্মেলন ১৮ আগস্ট, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

এস. এ টিভি
  • আপডেট সময় : ১২:৫০:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৫২২ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

আগামী ১৮ আগস্ট রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দ্বিতীয়বারের মতো রাজস্ব সম্মেলন আয়োজন করতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস—এই তিনটি রাজস্ব শাখাকে একই প্ল্যাটফর্মে এনে রাজস্ব ব্যবস্থার দুর্বলতা, সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ সংস্কারের রূপরেখা নির্ধারণের লক্ষ্যেই এ সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে।

সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়া অর্থমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা, তিন বাহিনীর প্রধান, অর্থনীতি, রাজস্ব ও বাণিজ্য খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং বিশেষজ্ঞরা এতে অংশ নেবেন। সম্মেলনে প্রায় ১ হাজার ৫০০ অতিথির উপস্থিতির কথা রয়েছে।

সম্মেলনকে সফল করতে ইতোমধ্যে সাজসজ্জা, নিরাপত্তা, অতিথি আপ্যায়ন, অতিথি তালিকা প্রণয়ন ও অভ্যর্থনাসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের জন্য ছয়টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সার্বিক তদারকির জন্য ৩১ সদস্যের একটি কেন্দ্রীয় স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবকে এবং সদস্যসচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন কর পরিদর্শন পরিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মহিদুল হাসান।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, সম্মেলনকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। বিভিন্ন উপ-কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। ১৮ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর রাজস্ব সংগ্রহ, করজাল সম্প্রসারণ এবং রাজস্ব প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরা স্টল সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

এ বিষয়ে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, সম্মেলনের মাধ্যমে জনগণ ও ব্যবসায়ীদের কাছে এনবিআরের কার্যক্রম, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা এবং কর ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে এনবিআর সম্পর্কে বিদ্যমান নেতিবাচক ধারণা দূর করা এবং আধুনিক রাজস্ব প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগ উপস্থাপন করা হবে। তিনি জানান, সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং এনবিআরের নতুন চেয়ারম্যান রাজস্ব প্রশাসনের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ও সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে বক্তব্য দেবেন। শক্তিশালী ও আধুনিক রাজস্ব কাঠামো গড়ে তুলতে এ সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রথম রাজস্ব সম্মেলনের অভিজ্ঞতা

এর আগে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দুই দিনব্যাপী রাজস্ব সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে এনবিআরের কার্যক্রম নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস বিষয়ে পৃথক সেমিনার, তথ্য বুথ এবং রাজস্ব ব্যবস্থার ইতিহাস তুলে ধরতে রেভিনিউ মিউজিয়াম প্রদর্শনের ব্যবস্থা ছিল।

প্রথম সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল—রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, করজাল সম্প্রসারণ, করদাতাবান্ধব প্রশাসন এবং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক রাজস্ব ব্যবস্থাপনা। এতে এনবিআরের শীর্ষ কর্মকর্তা, মাঠপর্যায়ের কর, ভ্যাট ও কাস্টমস প্রশাসনের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সংগঠন, শিল্পোদ্যোক্তা, অর্থনীতিবিদ, গবেষক এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সেই সম্মেলনে নতুন করদাতা শনাক্তকরণ, কর ও ভ্যাট ফাঁকি রোধ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং স্বেচ্ছায় কর পরিশোধের সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি রাজস্ব প্রশাসনের ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে ই-রিটার্ন, অনলাইন টিআইএন ও বিআইএন নিবন্ধন, ই-পেমেন্ট, ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষা, কাস্টমস অটোমেশন, তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং ডেটা অ্যানালিটিক্সের ব্যবহারকে ভবিষ্যৎ রাজস্ব ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়।

এছাড়া মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা জনবল সংকট, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও আইনি জটিলতার বিষয়গুলো তুলে ধরেন। অন্যদিকে ব্যবসায়ী নেতারা কর আইন সহজীকরণ, নীতির ধারাবাহিকতা, অপ্রয়োজনীয় হয়রানি বন্ধ এবং করদাতাদের সঙ্গে অংশীদারিত্বমূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

দ্বিতীয় রাজস্ব সম্মেলন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যখন সরকার রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, করজাল সম্প্রসারণ এবং রাজস্ব প্রশাসনের সংস্কারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে সম্মেলন থেকে রাজস্ব ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও সংস্কার বিষয়ে নতুন দিকনির্দেশনা আসবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

রাজস্ব সম্মেলন ১৮ আগস্ট, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১২:৫০:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬

আগামী ১৮ আগস্ট রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দ্বিতীয়বারের মতো রাজস্ব সম্মেলন আয়োজন করতে যাচ্ছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস—এই তিনটি রাজস্ব শাখাকে একই প্ল্যাটফর্মে এনে রাজস্ব ব্যবস্থার দুর্বলতা, সম্ভাবনা এবং ভবিষ্যৎ সংস্কারের রূপরেখা নির্ধারণের লক্ষ্যেই এ সম্মেলনের আয়োজন করা হচ্ছে।

সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এছাড়া অর্থমন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ উপদেষ্টা, তিন বাহিনীর প্রধান, অর্থনীতি, রাজস্ব ও বাণিজ্য খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি এবং বিশেষজ্ঞরা এতে অংশ নেবেন। সম্মেলনে প্রায় ১ হাজার ৫০০ অতিথির উপস্থিতির কথা রয়েছে।

সম্মেলনকে সফল করতে ইতোমধ্যে সাজসজ্জা, নিরাপত্তা, অতিথি আপ্যায়ন, অতিথি তালিকা প্রণয়ন ও অভ্যর্থনাসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালনের জন্য ছয়টি উপ-কমিটি গঠন করা হয়েছে। একই সঙ্গে সার্বিক তদারকির জন্য ৩১ সদস্যের একটি কেন্দ্রীয় স্টিয়ারিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটির সভাপতি করা হয়েছে এনবিআরের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আহসান হাবিবকে এবং সদস্যসচিবের দায়িত্ব পেয়েছেন কর পরিদর্শন পরিদপ্তরের মহাপরিচালক সৈয়দ মহিদুল হাসান।

এনবিআর সূত্রে জানা গেছে, সম্মেলনকে ঘিরে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। বিভিন্ন উপ-কমিটি ইতোমধ্যে কাজ শুরু করেছে। ১৮ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনের পর রাজস্ব সংগ্রহ, করজাল সম্প্রসারণ এবং রাজস্ব প্রশাসনের বিভিন্ন কার্যক্রম তুলে ধরা স্টল সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে।

এ বিষয়ে এনবিআরের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা ঢাকা পোস্টকে বলেন, সম্মেলনের মাধ্যমে জনগণ ও ব্যবসায়ীদের কাছে এনবিআরের কার্যক্রম, রাজস্ব ব্যবস্থাপনা এবং কর ব্যবস্থার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হবে। একই সঙ্গে এনবিআর সম্পর্কে বিদ্যমান নেতিবাচক ধারণা দূর করা এবং আধুনিক রাজস্ব প্রশাসনের বিভিন্ন উদ্যোগ উপস্থাপন করা হবে। তিনি জানান, সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং এনবিআরের নতুন চেয়ারম্যান রাজস্ব প্রশাসনের ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা ও সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে বক্তব্য দেবেন। শক্তিশালী ও আধুনিক রাজস্ব কাঠামো গড়ে তুলতে এ সম্মেলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

প্রথম রাজস্ব সম্মেলনের অভিজ্ঞতা

এর আগে ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে দেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো দুই দিনব্যাপী রাজস্ব সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ওই সম্মেলনে এনবিআরের কার্যক্রম নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, আয়কর, ভ্যাট ও কাস্টমস বিষয়ে পৃথক সেমিনার, তথ্য বুথ এবং রাজস্ব ব্যবস্থার ইতিহাস তুলে ধরতে রেভিনিউ মিউজিয়াম প্রদর্শনের ব্যবস্থা ছিল।

প্রথম সম্মেলনের মূল প্রতিপাদ্য ছিল—রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, করজাল সম্প্রসারণ, করদাতাবান্ধব প্রশাসন এবং প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক রাজস্ব ব্যবস্থাপনা। এতে এনবিআরের শীর্ষ কর্মকর্তা, মাঠপর্যায়ের কর, ভ্যাট ও কাস্টমস প্রশাসনের প্রতিনিধি, ব্যবসায়ী সংগঠন, শিল্পোদ্যোক্তা, অর্থনীতিবিদ, গবেষক এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

সেই সম্মেলনে নতুন করদাতা শনাক্তকরণ, কর ও ভ্যাট ফাঁকি রোধ, চোরাচালান প্রতিরোধ এবং স্বেচ্ছায় কর পরিশোধের সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি রাজস্ব প্রশাসনের ডিজিটাল রূপান্তরের অংশ হিসেবে ই-রিটার্ন, অনলাইন টিআইএন ও বিআইএন নিবন্ধন, ই-পেমেন্ট, ঝুঁকিভিত্তিক নিরীক্ষা, কাস্টমস অটোমেশন, তথ্য বিনিময় ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ এবং ডেটা অ্যানালিটিক্সের ব্যবহারকে ভবিষ্যৎ রাজস্ব ব্যবস্থার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়।

এছাড়া মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা জনবল সংকট, প্রযুক্তিগত সীমাবদ্ধতা ও আইনি জটিলতার বিষয়গুলো তুলে ধরেন। অন্যদিকে ব্যবসায়ী নেতারা কর আইন সহজীকরণ, নীতির ধারাবাহিকতা, অপ্রয়োজনীয় হয়রানি বন্ধ এবং করদাতাদের সঙ্গে অংশীদারিত্বমূলক সম্পর্ক গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

দ্বিতীয় রাজস্ব সম্মেলন এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যখন সরকার রাজস্ব আহরণ বৃদ্ধি, করজাল সম্প্রসারণ এবং রাজস্ব প্রশাসনের সংস্কারকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এ প্রেক্ষাপটে সম্মেলন থেকে রাজস্ব ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও সংস্কার বিষয়ে নতুন দিকনির্দেশনা আসবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।