ইসলামী ব্যাংকের সামনে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৫৫
- আপডেট সময় : ০৩:০৫:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৩১ বার পড়া হয়েছে
ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এতে দুই পক্ষের অন্তত ৫৫ জন আহত হয়েছেন বলে উভয় পক্ষ দাবি করেছে।
আহতদের কয়েকজনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয়।
চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে অবস্থান
জানা গেছে, এস আলম গ্রুপের সময়ে নিয়োগ পাওয়া এবং পরে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেন।
অন্যদিকে একই সময়ে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যরাও সেখানে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা তৈরি হয়। পরে তা সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ায় রূপ নেয়।
গ্রাহক ফোরামের দাবি, চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরাই প্রথমে তাঁদের কর্মসূচিতে হামলা চালান। এতে ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নুর নবী মানিকসহ অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে পাঁচজন গুরুতর আহত বলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।
অধ্যাপক নুর নবী মানিক বলেন, চাকরিচ্যুত ব্যক্তিদের সঙ্গে ব্যাংকের কোনো সম্পর্ক নেই। তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যাংকে নতুন করে ষড়যন্ত্রের অভিযোগও করেন তিনি। তাঁর দাবি, শান্তিপূর্ণ অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশের ছত্রচ্ছায়ায় হামলা চালানো হয়েছে।
চাকরিচ্যুতদের পাল্টা অভিযোগ
তবে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, গ্রাহক ফোরামের সদস্যরাই তাঁদের ওপর হামলা চালিয়েছেন।
তাঁদের একজন শহিদুল ইসলাম বলেন, দ্বিতীয় দিনের মতো ব্যাংকের সামনে অবস্থান নেওয়ার পর ২০ মিনিটের মধ্যেই তাঁদের ওপর হামলা চালানো হয়। তাঁর দাবি, এতে ২০ থেকে ২৫ জন আহত হয়েছেন এবং তাঁদের কয়েকজন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, পুলিশ তাঁদের সরিয়ে দিয়েছে।
হামলাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবি
সংঘর্ষের পর সংবাদ সম্মেলন করে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম।
সংগঠনটির সভাপতি অধ্যাপক নুর নবী মানিক বলেন, সৎ, যোগ্য ও পেশাদার ব্যক্তিদের নিয়ে ইসলামী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদ গঠন এবং ব্যাংকে এস আলম গ্রুপের কথিত ‘অশুভ হস্তক্ষেপের’ প্রতিবাদে তাঁরা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করছিলেন।
তিনি দাবি করেন, কর্মসূচি শুরুর পর আগে থেকে অবস্থান নেওয়া একদল ব্যক্তি শেয়ারহোল্ডার ও গ্রাহকদের ওপর হামলা চালায়। এতে ফোরামের সহসভাপতি ও ব্যবসায়ী মোতাছিম বিল্লাহসহ অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
সিসিটিভি ফুটেজ ও গণমাধ্যমকর্মীদের ধারণ করা ভিডিও দেখে হামলায় জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
ফোরামের দাবি, ইসলামী ব্যাংকের প্রায় তিন কোটি গ্রাহকের আমানতের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সাত দফা দাবিতে তাঁরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে কর্মসূচি পালন করছেন। সংগঠনটি নিজেদের অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে উল্লেখ করেছে।
তবে হামলার সঙ্গে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও যুবলীগের লোকজন জড়িত থাকতে পারেন বলে অধ্যাপক নুর নবী মানিক অভিযোগ করলেও এর পক্ষে সংবাদ সম্মেলনে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা প্রমাণ তুলে ধরা হয়নি।
পুলিশের বক্তব্য
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার মহসীন আল মুরাদ বলেন, সকালের সংঘর্ষের বিষয়ে তিনি অবগত নন।
তিনি জানান, বর্তমানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সামনে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অবস্থান করছেন। বাংলাদেশ ব্যাংক কেপিআইভুক্ত প্রতিষ্ঠান হওয়ায় তাঁদের সেখান থেকে চলে যেতে বলা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।





















