০৯:০৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬

এতিম ও বিধবার প্রতি ইসলামের নির্দেশনা ও অধিকার

এস. এ টিভি
  • আপডেট সময় : ০৭:৫৭:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৫৩০ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইসলামপূর্ব আরব সমাজে এতিম ও বিধবার জীবন ছিল চরম অবহেলা, বঞ্চনা ও নির্যাতনে ভরা। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি মারা গেলে অসহায় সন্তানদের ওপর শুরু হতো নানা ধরনের অত্যাচার। তাদের ন্যায্য সম্পদ আত্মসাৎ করা ছিল সে সময়ের প্রচলিত রীতি। একইভাবে স্বামী মারা গেলে বিধবা নারীরও স্বামীর সম্পত্তিতে কোনো অধিকার স্বীকৃত ছিল না। ইসলাম এসে এই অন্যায় প্রথার অবসান ঘটিয়ে এতিম ও বিধবার অধিকারকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘এতিমদের তাদের সম্পদ বুঝিয়ে দাও। খারাপ মালামালের সঙ্গে ভালো মালামালের অদলবদল করো না এবং তাদের সম্পদ নিজেদের সম্পদের সঙ্গে মিশিয়ে গ্রাস করো না। নিশ্চয়ই এটি মহাপাপ।’ (সুরা নিসা: ২)

এই আয়াত থেকে স্পষ্ট হয়, এতিমের সম্পদ রক্ষা করা এবং যথাসময়ে তার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া মুসলমানের দায়িত্ব। তাদের সম্পদ আত্মসাৎ করা বা অন্যায়ভাবে ব্যবহার করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তবে যদি এতিমের কল্যাণে তার সম্পদ ব্যবসা বা অন্য কোনো বৈধ কাজে বিনিয়োগ করা হয় এবং লাভের ন্যায্য অংশ তাকে দেওয়া হয়, তাহলে তা বৈধ ও সওয়াবের কাজ।

যেসব এতিম ও বিধবার উপার্জনের কোনো অবলম্বন নেই, তাদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে ইসলাম। ব্যক্তিগত দান, জাকাত, ফিতরা ও সদকার মাধ্যমে তাদের সহযোগিতা করা সমাজের সামর্থ্যবান মানুষের দায়িত্ব। হাদিসে এতিম ও বিধবার সেবাকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ আমল হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বিধবা ও অসহায় মানুষের দেখাশোনা করার ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদকারীর সমতুল্য।’ (বুখারি ও মুসলিম)

অন্য বর্ণনায় এসেছে, এমন ব্যক্তির মর্যাদা সেই ব্যক্তির মতো, যে সারারাত ইবাদত করে এবং নিয়মিত নফল রোজা রাখে। অর্থাৎ বিধবা ও অসহায় মানুষের সেবার মাধ্যমে একজন মুসলমান জিহাদ, রাতের ইবাদত এবং নফল রোজার সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করতে পারেন।

এতিমের অভিভাবকত্বের ফজিলত বর্ণনা করে মহানবী (সা.) বলেন, ‘আমি এবং এতিমের অভিভাবক জান্নাতে এভাবে পাশাপাশি থাকব।’ এরপর তিনি শাহাদাত ও মধ্যমা আঙুল পাশাপাশি করে দেখান। (বুখারি)

আরেক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো এতিমের মাথায় হাত বুলাবে, তার হাত যত চুল স্পর্শ করবে, প্রতিটি চুলের বিনিময়ে তার জন্য সওয়াব লেখা হবে।’ (মুসনাদে আহমদ, তিরমিজি)

এতিমের সঙ্গে উত্তম আচরণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেছেন, ‘মুসলমানদের মধ্যে সেই ঘরই সর্বোত্তম, যেখানে কোনো এতিম রয়েছে এবং তার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা হয়। আর সেই ঘরই সবচেয়ে নিকৃষ্ট, যেখানে এতিম রয়েছে কিন্তু তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়।’ (ইবনে মাজাহ)

ইসলাম কেবল এতিম ও বিধবার অধিকার নিশ্চিত করেনি; বরং তাদের সম্মান, নিরাপত্তা ও কল্যাণকে সমাজের নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের উচিত এতিম ও বিধবার পাশে দাঁড়ানো, তাদের অধিকার রক্ষা করা এবং মানবিক সহমর্মিতার মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে এতিম ও বিধবার অধিকার রক্ষা এবং তাদের সেবায় আত্মনিয়োগ করার তাওফিক দান করুন। -সংগৃহীত

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ট্যাগস :

এতিম ও বিধবার প্রতি ইসলামের নির্দেশনা ও অধিকার

আপডেট সময় : ০৭:৫৭:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

ইসলামপূর্ব আরব সমাজে এতিম ও বিধবার জীবন ছিল চরম অবহেলা, বঞ্চনা ও নির্যাতনে ভরা। পরিবারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তি মারা গেলে অসহায় সন্তানদের ওপর শুরু হতো নানা ধরনের অত্যাচার। তাদের ন্যায্য সম্পদ আত্মসাৎ করা ছিল সে সময়ের প্রচলিত রীতি। একইভাবে স্বামী মারা গেলে বিধবা নারীরও স্বামীর সম্পত্তিতে কোনো অধিকার স্বীকৃত ছিল না। ইসলাম এসে এই অন্যায় প্রথার অবসান ঘটিয়ে এতিম ও বিধবার অধিকারকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে।

পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘এতিমদের তাদের সম্পদ বুঝিয়ে দাও। খারাপ মালামালের সঙ্গে ভালো মালামালের অদলবদল করো না এবং তাদের সম্পদ নিজেদের সম্পদের সঙ্গে মিশিয়ে গ্রাস করো না। নিশ্চয়ই এটি মহাপাপ।’ (সুরা নিসা: ২)

এই আয়াত থেকে স্পষ্ট হয়, এতিমের সম্পদ রক্ষা করা এবং যথাসময়ে তার কাছে ফিরিয়ে দেওয়া মুসলমানের দায়িত্ব। তাদের সম্পদ আত্মসাৎ করা বা অন্যায়ভাবে ব্যবহার করা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। তবে যদি এতিমের কল্যাণে তার সম্পদ ব্যবসা বা অন্য কোনো বৈধ কাজে বিনিয়োগ করা হয় এবং লাভের ন্যায্য অংশ তাকে দেওয়া হয়, তাহলে তা বৈধ ও সওয়াবের কাজ।

যেসব এতিম ও বিধবার উপার্জনের কোনো অবলম্বন নেই, তাদের পাশে দাঁড়ানোর নির্দেশ দিয়েছে ইসলাম। ব্যক্তিগত দান, জাকাত, ফিতরা ও সদকার মাধ্যমে তাদের সহযোগিতা করা সমাজের সামর্থ্যবান মানুষের দায়িত্ব। হাদিসে এতিম ও বিধবার সেবাকে অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ আমল হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘বিধবা ও অসহায় মানুষের দেখাশোনা করার ব্যক্তি আল্লাহর পথে জিহাদকারীর সমতুল্য।’ (বুখারি ও মুসলিম)

অন্য বর্ণনায় এসেছে, এমন ব্যক্তির মর্যাদা সেই ব্যক্তির মতো, যে সারারাত ইবাদত করে এবং নিয়মিত নফল রোজা রাখে। অর্থাৎ বিধবা ও অসহায় মানুষের সেবার মাধ্যমে একজন মুসলমান জিহাদ, রাতের ইবাদত এবং নফল রোজার সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করতে পারেন।

এতিমের অভিভাবকত্বের ফজিলত বর্ণনা করে মহানবী (সা.) বলেন, ‘আমি এবং এতিমের অভিভাবক জান্নাতে এভাবে পাশাপাশি থাকব।’ এরপর তিনি শাহাদাত ও মধ্যমা আঙুল পাশাপাশি করে দেখান। (বুখারি)

আরেক হাদিসে রাসুল (সা.) বলেন, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কোনো এতিমের মাথায় হাত বুলাবে, তার হাত যত চুল স্পর্শ করবে, প্রতিটি চুলের বিনিময়ে তার জন্য সওয়াব লেখা হবে।’ (মুসনাদে আহমদ, তিরমিজি)

এতিমের সঙ্গে উত্তম আচরণের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি আরও বলেছেন, ‘মুসলমানদের মধ্যে সেই ঘরই সর্বোত্তম, যেখানে কোনো এতিম রয়েছে এবং তার সঙ্গে ভালো ব্যবহার করা হয়। আর সেই ঘরই সবচেয়ে নিকৃষ্ট, যেখানে এতিম রয়েছে কিন্তু তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয়।’ (ইবনে মাজাহ)

ইসলাম কেবল এতিম ও বিধবার অধিকার নিশ্চিত করেনি; বরং তাদের সম্মান, নিরাপত্তা ও কল্যাণকে সমাজের নৈতিক দায়িত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। তাই প্রত্যেক সামর্থ্যবান মুসলমানের উচিত এতিম ও বিধবার পাশে দাঁড়ানো, তাদের অধিকার রক্ষা করা এবং মানবিক সহমর্মিতার মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলা।

মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে এতিম ও বিধবার অধিকার রক্ষা এবং তাদের সেবায় আত্মনিয়োগ করার তাওফিক দান করুন। -সংগৃহীত