আতঙ্কের জনপদ খুলনা: তিন দিনে দুই খুন ও প্রকাশ্য হামলায় বিপর্যস্ত আইনশৃঙ্খলা,ধরাছোঁয়ার বাইরে অপরাধীরা
- আপডেট সময় : ০২:৫৫:০৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৬৭ বার পড়া হয়েছে
শিল্পনগরী খুলনায় অপরাধীদের দৌরাত্ম্য ও নৃশংসতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে মহানগরীতে দুটি চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড এবং একজনকে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলি ও কুপিয়ে জখম করার ঘটনায় জনমনে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। একের পর এক এসব নৃশংস ঘটনা ঘটলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কোনো অপরাধীকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় জননিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের প্রশ্ন উঠেছে। একই সঙ্গে নগরজুড়ে নীরব চাঁদাবাজি’র দাপট সাধারণ মানুষকে আরও বেশি বিপর্যস্ত করে তুলেছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, গত ২৬ জুলাই রাতে আড়ংঘাটা থানার পাহারপুর এলাকা থেকে নিখোঁজ হন সোবহান শেখের ছেলে ইমন শেখ। পরদিন ২৭ জুলাই সন্ধ্যায় রেলস্টেশন সংলগ্ন একটি ঘেরের রাস্তা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে মামলা হলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে শনাক্ত বা গ্রেপ্তার করতে পারেনি। আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকায় চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে নিহতের পরিবার।
একই দিন দুপুরে লবণচরা থানার রূপসা রিভারভিউ ইকোপার্কের সামনে প্রকাশ্য দিবালোকে আরিফ শিকদার নামের এক যুবককে লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে সন্ত্রাসীরা।গুলিবিদ্ধ হয়ে আরিফ মাটিতে লুটিয়ে পড়লে সন্ত্রাসীরা তাকে রামদা দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে জখম করে।বর্তমানে তিনি খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। আশ্চর্যের বিষয় হলো,সন্ত্রাসীদের ভয়ে ভুক্তভোগী পরিবার মামলা করার সাহস পর্যন্ত পাচ্ছে না,এমনকি পুলিশের কাছে কোনো তথ্য দিতেও তারা কুণ্ঠাবোধ করছে। এ ঘটনায়ও এখন পর্যন্ত কেউ আটক হয়নি।
এদিকে, এই রেশ কাটতে না কাটতেই সদর থানার টুটপাড়া সার্কুলার রোডে ঘটে আরেক নৃশংসতা। গত শুক্রবার রাতে নিজ বাড়ির অদূরে শাহজাহানের ছেলে ইসমাইলকে ডেকে নিয়ে গুলি ও কুপিয়ে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনায় আটজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা হলেও এখন পর্যন্ত পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়নি। ঘাতকরা নিহতের পূর্ব পরিচিত হলেও পরিবারের অন্য সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকিতে চরম আতঙ্কে দিন কাটছে তাদের।
খুলনার এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে একটি বিশেষ মহলের নামে শহরজুড়ে চলছে নীরব চাঁদাবাজি। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ,থানায় অভিযোগ দিয়ে প্রতিকার পাওয়ার বদলে উল্টো হয়রানির শিকার হতে হচ্ছে।ফলে জীবনের নিরাপত্তার কথা ভেবে অনেকেই মুখ বুঝে সন্ত্রাসীদের দাবি মেটাচ্ছেন।
খুলনার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এই চরম অবনতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নাগরিক নেতা অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার। তিনি বলেন,৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অস্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। আমরা ভেবেছিলাম পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি হবে,কিন্তু বাস্তবে তা হচ্ছে না। প্রতিনিয়ত খুনের ঘটনা ঘটছে, অথচ অপরাধীরা ধরা পড়ছে না। এটি পুলিশের পেশাদারিত্বের অভাব নাকি চরম গাফিলতি,তা খতিয়ে দেখা দরকার। পুলিশের ভেতরেই কোনো ষড়যন্ত্রকারী বসে আছে কি না,সেই প্রশ্নও এখন নাগরিক সমাজের মনে দানা বাঁধছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে অপরাধীদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে জানানো হলেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো দৃশ্যমান প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে না। ফলে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও ক্ষোভ ক্রমে ঘনীভূত হচ্ছে

























