অনলাইন চাকরির ফাঁদে ২৪ লাখ টাকা আত্মসাৎ, নারী গ্রেপ্তার
- আপডেট সময় : ০৩:৪৬:৪২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১০ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৪৬ বার পড়া হয়েছে
নেদারল্যান্ডসভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইট নকল করে অনলাইন পার্টটাইম চাকরি ও বিনিয়োগের প্রলোভন দেখিয়ে ২৪ লাখ ১৯ হাজার ১৯৯ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তার নারীর নাম প্রীয়ন্তী সরকার চিত্রা (২২)। গত ৮ অক্টোবর রাতে রাজধানীর উত্তরার ১৮ নম্বর সেক্টর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
শনিবার (১০ অক্টোবর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহর সই করা সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
যেভাবে অনলাইন চাকরির প্রলোভন দেখানো হয়
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের আগস্টে টেলিগ্রাম আইডির মাধ্যমে এক ব্যবসায়ীর মোবাইল নম্বরে অনলাইন পার্টটাইম চাকরির প্রস্তাব পাঠায় প্রতারক চক্রটি। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক একটি প্রতিষ্ঠানের আদলে তৈরি নকল ওয়েবসাইটের মাধ্যমে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়।
চক্রটি একটি ট্রাভেল প্ল্যাটফর্মে বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্র সম্পর্কে ইতিবাচক রেটিং ও ফিডব্যাক দেওয়ার বিনিময়ে প্রতিদিন ৮০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা আয়ের প্রলোভন দেখায়। প্রস্তাবে আকৃষ্ট হয়ে কাজ শুরু করলে ভুক্তভোগীকে প্রথম দিকে কয়েক দফায় পারিশ্রমিকও দেওয়া হয়। এতে চক্রটির প্রতি তার বিশ্বাস তৈরি হয়।
বিনিয়োগের নামে হাতিয়ে নেয় ২৪ লাখ টাকা
পরে ওই ব্যবসায়ীকে একটি টেলিগ্রাম গ্রুপে যুক্ত করা হয়। সেখানে প্রতিষ্ঠানের এক বছর পূর্তি উপলক্ষে ১ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগের বিপরীতে আকর্ষণীয় মুনাফার প্রস্তাব দেওয়া হয়। অন্য সদস্যদের বিনিয়োগের প্রমাণ হিসেবে ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার স্লিপের ছবি দেখানো হলে তিনি বিনিয়োগে আগ্রহী হন।
এজাহার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ২২ আগস্ট ভুক্তভোগী তার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব থেকে প্রথমে ১ লাখ টাকা চক্রের দেওয়া একটি ব্যাংক হিসাবে পাঠান। পরে ওয়েবসাইটে নির্দিষ্টসংখ্যক ভিজিট সম্পন্ন করা, বিভিন্ন রাউন্ডে অংশ নেওয়া এবং অন্যান্য শর্ত পূরণের কথা বলে তাকে আরও অর্থ পাঠাতে প্ররোচিত করা হয়।
এভাবে একই দিনে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ডিজিটাল লেনদেনের মাধ্যমে মোট ২৪ লাখ ১৯ হাজার ১৯৯ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। তবে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ভুক্তভোগীকে কোনো মুনাফা বা মূলধন ফেরত দেওয়া হয়নি।
টাকা ফেরত চাইলে বন্ধ করে দেয় যোগাযোগ
ভুক্তভোগীর কাছে আরও টাকা দাবি করা হলে তার সন্দেহ হয়। পরে বিনিয়োগের অর্থ ফেরত চাইলে নতুন করে টাকা পাঠানোর শর্ত দেওয়া হয়। একপর্যায়ে প্রতারক চক্রটি তার সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আদালতের মাধ্যমে ২০২৫ সালের ১ নভেম্বর পল্টন থানায় মামলা করেন।
সিআইডির তদন্তে যা উঠে এসেছে
সিআইডির তদন্তে প্রতারণা চক্রের ‘লিজা’ নাম ব্যবহারকারী এক সন্দেহভাজনের নির্দেশনা এবং অর্থ পাঠানোর সময়ের মধ্যে যোগসূত্র পাওয়া গেছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগীর বিশ্বাস অর্জন করে তাকে ধীরে ধীরে বেশি অর্থ বিনিয়োগে উৎসাহিত করতে প্রীয়ন্তী সরকার চিত্রার নামে নিবন্ধিত মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের হিসাব থেকে পারিশ্রমিক পাঠানো হয়েছিল।
তবে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে অর্থ পাঠানোর নির্দেশদাতা সম্পর্কে সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি গ্রেপ্তার নারী। প্রতারণার ঘটনায় তার সংশ্লিষ্টতা এবং অর্থের উৎস ও গন্তব্য সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহে তদন্ত চলছে।
সিআইডি জানিয়েছে, একই মামলায় বিভিন্ন সময়ে আরও ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজন ইতোমধ্যে আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
অনলাইন চাকরি ও বিনিয়োগে সতর্ক থাকার পরামর্শ
অনলাইনভিত্তিক চাকরি, বিভিন্ন টাস্ক সম্পন্ন করে আয়ের প্রলোভন এবং অপরিচিত ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে অর্থ লেনদেনের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে সিআইডি।
সংস্থাটি জানিয়েছে, এ ধরনের প্রতারণার শিকার হলে সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণ সংরক্ষণ করে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানো উচিত। বিশেষ করে অনলাইনে অস্বাভাবিক মুনাফার প্রস্তাব, কাজ শুরুর পর অতিরিক্ত বিনিয়োগের চাপ এবং টাকা ফেরত পেতে নতুন করে অর্থ পাঠানোর শর্তকে সম্ভাব্য প্রতারণার সতর্কসংকেত হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
























