দুর্নীতির মামলায় শাজাহান খান ও ছেলেকে গ্রেপ্তার দেখানো হলো
- আপডেট সময় : ০৫:১২:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ৫ অক্টোবর ২০২৬
- / ১৫৪০ বার পড়া হয়েছে
প্রায় ১০ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় সাবেক নৌপরিবহনমন্ত্রী শাজাহান খান ও তার ছেলে আসিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আদালত। সোমবার (৫ অক্টোবর) ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ শাহজাহান কবীর এ আদেশ দেন।
দুদকের কৌঁসুলি খাদেমুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আদালতের আদেশের পর শাজাহান খান ও আসিবুর রহমানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
আদালতে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন
দুদকের সহকারী পরিচালক ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মাহাথীর মুহাম্মদ সামী গত ৭ সেপ্টেম্বর শাজাহান খান ও তার ছেলে আসিবুর রহমানকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। পরে আদালত আসামিদের উপস্থিতিতে শুনানির জন্য ৫ অক্টোবর দিন ধার্য করেন।
সোমবার শুনানির সময় তাদের আদালতে হাজির করা হলে উভয়কে গ্রেপ্তার দেখানোর আদেশ দেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
এদিন আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মিজানুর রহমান বাদশাহ জামিনের আবেদন করেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে জামিনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত না দিয়ে আগামী ১৫ অক্টোবর এ আবেদনের শুনানির দিন ধার্য করেছেন আদালত।
তদন্ত প্রতিবেদন জমার সময় বাড়ল
এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য সোমবার দিন ধার্য ছিল। তবে নির্ধারিত সময়ে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। পরে আদালত আগামী ২৫ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
আদালত প্রাঙ্গণে শাজাহান খানের বক্তব্য
শুনানি শেষে আদালত থেকে নামার সময় সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন শাজাহান খান। এ সময় তিনি বলেন, “তোমারে দেখিবে যে, মনের কথা বলিবে সে।”
এ সময় এনসিপি ও জামায়াতে ইসলামী প্রসঙ্গে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “এনসিপি জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে মিশে গিয়ে জামায়াতে ইসলামী হয়ে গেছে।”
২০২৪ সালে গ্রেপ্তার হন শাজাহান খান
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের প্রায় এক মাস পর ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর ঢাকার ধানমন্ডি এলাকা থেকে শাজাহান খানকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ। এরপর জুলাই আন্দোলন ঘিরে দায়ের করা একাধিক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয় এবং রিমান্ডে নেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মামলাতেও তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।
শাজাহান খান গ্রেপ্তারের প্রায় তিন সপ্তাহ পর ২৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তার ছেলে আসিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়।
আসিবুরের নামে প্রায় ১০ কোটি টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ
গত বছরের ২ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এ মামলাটি দায়ের করা হয়। দুদকের উপপরিচালক কমলেশ মন্ডল বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলায় শাজাহান খান ও তার ছেলে আসিবুর রহমানকে আসামি করা হয়। মামলায় আসিবুর রহমানকে প্রধান আসামি করা হয়েছে।
মামলার এজাহার ও অনুসন্ধান-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, আয়করদাতা হওয়ার পরও আসিবুর রহমানের নামে মোট ১১ কোটি ৭৯ লাখ ৫ হাজার ২৪৮ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়।
তবে অনুসন্ধানে তার গ্রহণযোগ্য আয়ের উৎস হিসেবে ১ কোটি ৮৯ লাখ ৯৯ হাজার ১৮৩ টাকার তথ্য পাওয়া যায়। ফলে তার নামে ৯ কোটি ৮৯ লাখ ৫ হাজার ৬৮৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের প্রমাণ পাওয়ার কথা মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
শাজাহান খানের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ
দুদকের মামলার এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, সংসদ সদস্য ও নৌপরিবহনমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনকালে শাজাহান খান ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে অসদুপায়ে অর্জিত অর্থ দিয়ে তার ছেলে আসিবুর রহমানের নামে এসব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ অর্জনে সহায়তা করেছেন।
মামলাটির তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। আগামী ২৫ নভেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত।

























