যাত্রা শুরু করলো টিফা’স ট্রেনিং একাডেমি
- আপডেট সময় : ১০:২৩:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫০৮ বার পড়া হয়েছে
আন্তর্জাতিক সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্বের জন্য সম্ভাবনাময় তরুণীদের দীর্ঘমেয়াদি ও আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ দেওয়ার লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে টিফা’স ট্রেনিং একাডেমি। একাডেমিটির লক্ষ্য শুধু পরিচিত মুখদের নিয়ে কাজ করা নয়; বরং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা নতুন প্রতিভাবান তরুণীদের খুঁজে বের করে আন্তর্জাতিক মানের গ্রুমিং, ব্যক্তিত্ব বিকাশ এবং আত্মবিশ্বাস গড়ে তোলার মাধ্যমে বিশ্বমঞ্চের জন্য প্রস্তুত করা।
একাডেমিটি পরিচালিত হবে মিস বাংলাদেশ ইউএসএ অরগানাইজেশন-এর সহযোগিতায়। এই যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পেজেন্ট সম্পর্কে বাস্তব অভিজ্ঞতা, আধুনিক প্রশিক্ষণ এবং বিশ্বমানের প্রস্তুতির সুযোগ বাংলাদেশের নতুন প্রজন্মের প্রতিযোগীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি টিফা মিস বাংলাদেশ ইউএসএ অরগানাইজেশন-এর ডিরেক্টর হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। আন্তর্জাতিক পেজেন্ট অঙ্গনে তার অভিজ্ঞতা, নেতৃত্বের দক্ষতা এবং নতুন প্রজন্মের প্রতিযোগীদের নিয়ে কাজ করার আগ্রহের স্বীকৃতি হিসেবে তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। নতুন এই ভূমিকায় তিনি আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ, মেন্টরশিপ এবং ভবিষ্যৎ প্রতিযোগীদের বিশ্বমঞ্চে এগিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করবেন।
টিফা নিজে মিস গ্র্যান্ড বাংলাদেশ ২০২২ এবং মিস সুপ্রান্যাশনাল বাংলাদেশ ২০২৪ হিসেবে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি উপলব্ধি করেন, জাতীয় পর্যায়ে বিজয়ী হওয়ার পর আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রস্তুতির সময় অত্যন্ত সীমিত থাকে। অল্প সময়ের মধ্যেই ফটোশুট, ভিডিও কনটেন্ট, ওয়ারড্রোব পরিকল্পনা, ক্যাটওয়াক, স্টেজ প্রেজেন্স, পাবলিক স্পিকিং, ইন্টারভিউ, ফিটনেস এবং মানসিক প্রস্তুতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো সম্পন্ন করতে হয়।
এই বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকেই প্রতিষ্ঠিত হয়েছে টিফা’স ট্রেনিং একাডেমি। একাডেমিটির লক্ষ্য আন্তর্জাতিক সুযোগ আসার অনেক আগেই প্রতিযোগীদের এমনভাবে প্রস্তুত করা, যাতে মিস ওয়ার্ল্ড, মিস ইউনিভার্স, মিস গ্র্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল, মিস সুপ্রান্যাশনালসহ বিশ্বের যেকোনো মর্যাদাপূর্ণ আন্তর্জাতিক পেজেন্টে অংশগ্রহণের সুযোগ এলে তারা আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করতে পারেন।
একাডেমির প্রশিক্ষণ কার্যক্রমে থাকবে আন্তর্জাতিক মানের পেজেন্ট গ্রুমিং, পেশাদার ক্যাটওয়াক, স্টেজ প্রেজেন্স, পাবলিক স্পিকিং, ইন্টারভিউ প্রস্তুতি, ব্যক্তিত্ব বিকাশ, পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং, অ্যাডভোকেসি ডেভেলপমেন্ট, আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়নের সুযোগ।
এই উদ্যোগের পেছনে অন্যতম অনুপ্রেরণা হিসেবে রয়েছেন মিস বাংলাদেশ ইউএসএ অরগানাইজেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সিইও হিয়াম আমানি হাফিজুদ্দিন। পেজেন্ট অঙ্গনে তার দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা, আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি এবং নতুন প্রতিভা গড়ে তোলার নিরলস প্রচেষ্টার কারণে তিনি অনেকের কাছে ‘কুইন মেকার’ হিসেবে পরিচিত। তার নেতৃত্বে বহু বাংলাদেশি প্রতিযোগী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের দক্ষতা প্রদর্শনের সুযোগ পেয়েছেন। নারীর ক্ষমতায়ন, দক্ষতা উন্নয়ন এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব বাড়াতে তার অবদান বিশেষভাবে প্রশংসিত।
একাডেমি সম্পর্কে টিফা বলেন, ‘আমি নিজে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার প্রস্তুতির সময় বুঝেছি, সীমিত সময়ে সবকিছু শেখা এবং নিজেকে তৈরি করা কতটা কঠিন। তাই আমি চাই, ভবিষ্যতের প্রতিযোগীরা যেন আগে থেকেই সঠিক প্রশিক্ষণ, আত্মবিশ্বাস এবং আন্তর্জাতিক মানের দিকনির্দেশনা নিয়ে নিজেদের প্রস্তুত করতে পারেন। আমার বিশ্বাস, সঠিক প্রস্তুতি একজন প্রতিযোগীকে শুধু একটি মুকুটের জন্য নয়, বরং একজন আত্মবিশ্বাসী, দক্ষ ও প্রভাবশালী নারী হিসেবে গড়ে তোলে।’

























