বান্দরবানে কমেনি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ
- আপডেট সময় : ০১:৪৪:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
- / ১৫৫১ বার পড়া হয়েছে
বান্দরবনে বৃষ্টি কমলেও কমেনি সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ। জেলার সাংগু ও মাতামুহুরী নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার ওপর দিয়ে বইছে। ফলে প্লাবিত হয়ে পড়েছে বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল। সড়ক পানিতে ডুবে থাকায় সারাদেশের সাথে বান্দরবনের সড়ক যোগাযোগ এখনো বন্ধ। এদিকে, বন্যার পূর্বাভাসে ফেনীতে আতঙ্কিত পুরো জেলা। মুহুরী, কহুয়া ও সিলোনীয়া নদীর পানি বাড়তে থাকায় নদীপাড়ের মানুষের চোখেমুখে এখন কেবলই অনিশ্চয়তা।
টানা কয়েক দিনের ভারী বর্ষণ শেষে বান্দরবনে শনিবার বৃষ্টির তীব্রতা কমে দেখা মেলে রোদের। তবে এখনো কমেনি সাংগু ও মাতামুহুরী নদীর পানি। গত কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পানি কিছুটা নামতে শুরু করলেও, তা এখনো বইছে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে।
নদীর পানি উপচে বান্দরবন সদর, লামা, আলীকদম ও নাইক্ষ্যংছড়ির বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল এখন পানির নিচে। ঘরবাড়ি, দোকানপাট, স্কুল আর ফসলি জমি তলিয়ে থাকায় চরম বিপাকে হাজারো মানুষ।
এদিকে প্রধান সড়কগুলো পানিতে ডুবে থাকায় বান্দরবনের সাথে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাঙামাটি ও কক্সবাজারের যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন। উপজেলার অভ্যন্তরীণ সড়কেও গাড়ি চলাচল বন্ধ থাকায় দুর্ভোগ বেড়েছে কয়েক গুণ।
বন্যা কবলিত এলাকায় দেখা দিয়েছে বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিপর্যয়। তীব্র সংকট তৈরি হয়েছে বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের। জেলায় এখন পর্যন্ত শিশুসহ ৬ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দুর্যোগপূর্ণ পরিস্থিতির কারণে জেলার সব পর্যটন কেন্দ্র আগামী ১৫ জুলাই পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন।
এদিকে, ফেনীর নদীগুলো উপচে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে। সবচে বেশি দু:শ্চিন্তায় আছেন পরশুরাম, ফুলগাজী, ছাগলনাইয়া ও সোনাগাজীর বাসিন্দারা।
‘২৪-এর বন্যায় মুহুরী ও কহুয়া নদীর ২৪টি অংশে বাঁধ ভেঙেছিল। পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ দিয়ে সেগুলো জোড়াতালি দিলেও, ইতিমধ্যেই একাধিক স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে।
এদিকে নতুন দুর্যোগ মোকাবিলায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার পাশাপাশি জরুরি উদ্ধারকাজ ও ত্রাণ মজুদের প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড বলছে, নদীর পানির উচ্চতা ও আবহাওয়ার ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখা হচ্ছে। তবে স্থায়ী বাঁধ না হওয়া পর্যন্ত এই ঝুঁকি পুরোপুরি কমবে না।
‘২৪-এর ভয়াবহ বন্যায় ২৯ জনের প্রাণহানি আর প্রিয়জন হারানোর বেদনা এখনও তাড়া করে ফেনীর লাখো মানুষকে।
























