ঔপনিবেশিক অতীত ঝেড়ে নতুন নামে নাউরু
- আপডেট সময় : ০৪:৪২:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৪৩ বার পড়া হয়েছে
দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র নাউরু আনুষ্ঠানিকভাবে দেশের নাম পরিবর্তন করে ‘রিপাবলিক অব নাওয়েরো’ রেখেছে। স্থানীয় ভাষার সঠিক বানান ও উচ্চারণকে স্বীকৃতি দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডেভিড আদিয়াং।
সরকার জানিয়েছে, এতদিন আন্তর্জাতিকভাবে দেশটির নাম ‘নাউরু’ (Nauru) ব্যবহার হলেও স্থানীয় মাতৃভাষায় এর প্রকৃত উচ্চারণ ‘নাওয়েরো’ (Naoero)। বিদেশিদের উচ্চারণের সুবিধার্থেই একসময় নামটি সংক্ষিপ্ত করে ‘নাউরু’ করা হয়েছিল, যা দেশটির নিজস্ব পছন্দের নাম ছিল না।
নাম পরিবর্তনের ফলে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশটির কোড ‘এআরইউ’ (ARU)-এর পরিবর্তে ‘এনআরও’ (NRO) ব্যবহৃত হবে। পাশাপাশি দেশটির নাগরিকরা ‘নাউরুয়ান’-এর বদলে ‘দে-নাওয়েরো’ নামে পরিচিত হবেন।
গত ৩০ জুলাই সরকারি ফেসবুক পেজে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই সিদ্ধান্ত দেশটিকে তার ঐতিহ্যবাহী পরিচয়ে ফিরিয়ে আনবে। প্রেসিডেন্ট ডেভিড আদিয়াং চলতি বছরের জানুয়ারিতে সংসদে প্রস্তাবটি উত্থাপন করে বলেন, এর উদ্দেশ্য জাতীয় ঐতিহ্য, ভাষা ও পরিচয়কে পূর্ণ মর্যাদায় প্রতিষ্ঠা করা। সংবিধান অনুযায়ী দুই দফা ভোটে প্রস্তাবটি পাস হয়।
প্রাথমিকভাবে বিষয়টি গণভোটে নেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও পরে সরকার জানায়, এর প্রয়োজন নেই। কারণ ‘নাওয়েরো’ নামটি কখনো জনগণের ব্যবহার থেকে হারিয়ে যায়নি; এটি জাতীয় প্রতীক, সরকারি পরিচয় এবং স্থানীয় সমাজে দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে।
ইতিহাস ও বর্তমান বাস্তবতা
প্রায় ১২ হাজার জনসংখ্যার নাওয়েরো বিশ্বের তৃতীয় ক্ষুদ্রতম স্বাধীন রাষ্ট্র। জার্মান ও পরে অস্ট্রেলিয়ার প্রশাসনিক শাসনের পর ১৯৬৮ সালে দেশটি স্বাধীনতা লাভ করে। ফসফেট খনির কারণে একসময় সমৃদ্ধ হলেও খনিজসম্পদ ফুরিয়ে যাওয়ায় ১৯৯০-এর দশকে দেশটি তীব্র অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে।
বর্তমানে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিতে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ দেশগুলোর একটি নাওয়েরো। এ সংকট মোকাবিলায় অবকাঠামো স্থানান্তর ও অভিযোজন প্রকল্পে অর্থায়নের জন্য দেশটি অর্থের বিনিময়ে নাগরিকত্ব দেওয়ার কর্মসূচিও চালু করেছে।
বিশ্বব্যাপী রিব্র্যান্ডিংয়ের ধারায় নতুন সংযোজন
ঔপনিবেশিক অতীতের প্রভাব থেকে বেরিয়ে এসে নিজস্ব পরিচয় পুনঃপ্রতিষ্ঠার বৈশ্বিক প্রবণতার অংশ হিসেবেই এই নাম পরিবর্তনকে দেখা হচ্ছে। এর আগে ২০১৮ সালে সোয়াজিল্যান্ড নিজেদের নাম পরিবর্তন করে এসোয়াতিনি এবং ২০২২ সালে তুরস্ক আন্তর্জাতিকভাবে তুর্কিয়ে নাম গ্রহণ করে।
সরকার জানিয়েছে, নাওয়েরোর জাতীয় বিমান সংস্থা, নৌবহর এবং আন্তর্জাতিক নথিপত্রে নতুন নাম ব্যবহারের কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে। জাতিসংঘসহ অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের বিভিন্ন সরকারি প্ল্যাটফর্মেও ধীরে ধীরে ‘নাওয়েরো’ নামটি ব্যবহার শুরু হয়েছে।

























