আমদানির পর কমছে কাঁচা মরিচের দাম, সরবরাহ বাড়ায় স্বস্তি
- আপডেট সময় : ১২:৪৫:৪৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৭ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৩৭ বার পড়া হয়েছে
ভারত থেকে আমদানি শুরুর পর দেশের বাজারে কাঁচা মরিচের দাম কমতে শুরু করেছে। কয়েক দিন আগেও বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি কাঁচা মরিচ ৩৮০ থেকে ৪০০ টাকায় বিক্রি হলেও বর্তমানে তা নেমে এসেছে ১৮০ থেকে ২০০ টাকায়। সরবরাহ বাড়ায় সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে ফিরেছে কিছুটা স্বস্তি।
বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে সরকার ৫০৫টি আমদানি অনুমতিপত্র (আইপি) দিয়েছে। এসব অনুমতির বিপরীতে ২ লাখ ১৮ হাজার ৪৮৪ মেট্রিক টন কাঁচা মরিচ আমদানির সুযোগ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের অনুমতির পর গত সোমবার (৩ আগস্ট) ভারত থেকে কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়। প্রথম দিনে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে ১০টি ট্রাকে ৯১ দশমিক ৫৫ মেট্রিক টন মরিচ দেশে আসে। পরদিন বিভিন্ন স্থলবন্দর দিয়ে আরও ৩৯টি ট্রাকে ৪৬৭ মেট্রিক টন কাঁচা মরিচ আমদানি করা হয়। দুই দিনে মোট ৫৫৮ দশমিক ৫৫ মেট্রিক টন মরিচ দেশে এসেছে।
আমদানির ফলে বাজারে সরবরাহ বাড়তে শুরু করায় পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দাম কমেছে। ব্যবসায়ীদের হিসাবে, ভারত থেকে আমদানি করা কাঁচা মরিচে পণ্যের মূল্য, পরিবহন, শুল্ক, কাস্টমস, সিএন্ডএফসহ অন্যান্য খরচ মিলিয়ে প্রতি কেজিতে ব্যয় পড়ছে প্রায় ১৩৫ টাকা।
ব্যবসায়ীরা জানান, টানা বৃষ্টি, অতিবৃষ্টি ও বন্যায় দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মরিচক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে সরবরাহ কমে গিয়েছিল। এর প্রভাবেই কয়েক দিনের ব্যবধানে কাঁচা মরিচের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যায়।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, চলতি খরিপ মৌসুমে দেশে প্রায় ৪ লাখ ১০ হাজার হেক্টর জমিতে কাঁচা মরিচ চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে প্রায় ৪৩ লাখ মেট্রিক টন। তবে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে কিছু এলাকায় উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।
কৃষিবিদরা বলছেন, বর্তমান মূল্যবৃদ্ধি সাময়িক। দেশীয় উৎপাদন স্বাভাবিক হওয়ার পাশাপাশি আমদানি অব্যাহত থাকলে আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যে বাজার আরও স্থিতিশীল হতে পারে।
ক্রেতারা বলছেন, কয়েক দিন আগেও এক কেজি কাঁচা মরিচ কিনতে ৪০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে। এখন দাম কমায় কিছুটা স্বস্তি মিললেও বাজার তদারকি জোরদারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নিয়মিত আমদানি, কার্যকর বাজার নজরদারি এবং নতুন মৌসুমের দেশীয় মরিচ বাজারে আসলে কাঁচা মরিচের দাম আরও কমে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসবে।



























