সাংগ্রাইকে ঘিরে মারমা পল্লীগুলোতে বইছে উৎসবের আমেজ
- আপডেট সময় : ০৯:০৮:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬
- / ১৫৭১ বার পড়া হয়েছে
পার্বত্যাঞ্চলে বসবাসকারী মারমা সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক উৎসব- সাংগ্রাই। পুরানো বছরকে বিদায় জানিয়ে নতুন বছরকে বরণ করতে প্রতিবছরই এই উৎসব উদযাপন করেন তারা। শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই উৎসবকে ঘিরে মারমা পল্লীগুলোতে বইছে এখন আনন্দের আমেজ। সকালে বর্ণাঢ্য রেলির মধ্য দিয়ে শুরু হয় সাংগ্রাই উৎসবের আনুষ্ঠানিকতা।
পার্বত্য জেলা বান্দরবন জুড়ে এখন উৎসবের আমেজ। মারমা জনগোষ্ঠীর সবচে’ ঐতিহ্যবাহী উৎসব ‘মাহাঃ সাংগ্রাই পোয়েঃ’ উপলক্ষে বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে সাংগ্রাই উদযাপন। বান্দরবন শহরের ঐতিহ্যবাহী রাজার মাঠ থেকে শুরু হয় বর্ণাঢ্য রেলি। রঙিন পোশাক, নাচ-গান আর মাতৃভাষায় নববর্ষের শুভেচ্ছায় মুখর পুরো শহর। মারমা, চাকমা, ত্রিপুরা, তঞ্চঙ্গ্যা, চাক, ম্রো, খিয়াং, খুমি, বমসহ বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর মানুষ ঐতিহ্যবাহী পোশাকে অংশ নেন আনন্দমুখর এই রেলিতে।
বিভিন্ন ক্যাং ও বিহারে চলছে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলন, ছাইয়াং দানসহ নানা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান। নতুন পোশাকে সজ্জিত তরুণ-তরুণীরা ঘুরে বেড়াচ্ছেন বন্ধু-বান্ধব ও আত্মীয়-স্বজনদের বাড়িতে। একে অপরকে পানি ছিটিয়ে নতুন বছরের শুভেচ্ছা বিনিময় করছেন সব বয়সী নারী-পুরুষ। বাড়ি বাড়ি আয়োজন করা হয়েছে বাহারি খাবারের। মারমা সম্প্রদায়ের উৎসব হলেও ও সব সম্প্রদায়ের মানুষের অংশগ্রহণে পুরো বান্দরবন পরিণত হয়েছে মিলন মেলায়।
চাকমাদের কাছে ‘বিজু’, ত্রিপুরাদের কাছে ‘বৈসু’, তঞ্চঙ্গ্যাদের কাছে ‘বিষু’ এবং অন্যান্য জনগোষ্ঠীর কাছে ‘চাংক্রান’ নামে পরিচিত বর্ণিল এই উৎসবের মধ্য দিয়ে ফুটে উঠেছে পার্বত্য চট্টগ্রামের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, ঐতিহ্য এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত।






















