শেরপুরে পাথর দিয়ে চলছে সাপে কাটা রোগীর চিকিৎসা, এটি বিজ্ঞান সম্মত নয়
- আপডেট সময় : ০৮:৪৬:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬
- / ১৫৭২ বার পড়া হয়েছে
শেরপুরে পাথর দিয়ে নামানো হচ্ছে সাপে কাটা রোগীর বিষ। ক্ষতস্থানে এক টুকরো পাথর রেখে দিলেই তা শুষে নিচ্ছে বিষ; এমন দাবি করে দীর্ঘ ৭৯ বছর ধরে চলছে এমন চিকিৎসা। অবশ্য, জেলা সিভিল সার্জন বলছেন, এটি মোটেও বিজ্ঞান সম্মত নয়, তাই কাউকে সাপে কাটলে দিতে হবে অ্যান্টিভেনম।
ভারতের মেঘালয় রাজ্যঘেষা শেরপুরের নালিতাবাড়ী উপজেলার নির্জন পাহাড়ি এলাকা বারোমারী। এখানেই ১৯৪৬ সালে সিস্টার ইম্মানুয়েল স্থাপন করেন ‘আওয়ার লেডী অফ লুর্দস্ ডিসপেন্সারী’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান। এরপর থেকে দীর্ঘ ৭৯বছর ধরে এই প্রতিষ্ঠানটি সাপে কাটা রোগীকে পাথরের মাধ্যমে চিকিৎসা দিয়ে আসছে।
যেকোন সাপের ছোবলে আক্রান্ত রোগীর ক্ষতস্থানে কালো রঙয়ের একটি পাথর রেখে দেওয়া হয়। এরপর যতক্ষণ শরীরে বিষ থাকবে, পাথরটি ততক্ষণ চম্বুকের মতো আটকে থাকে। বিষ শুষে নেয়ার পর ক্ষতস্থান থেকে পড়ে যায় পাথরটি। এতে সুস্থ হয়ে উঠে রোগী; এমন বিশ্বাসে চলছে চিকিৎসা।
ডিসপেন্সারীর দায়িত্বরতদের দাবি, এ পদ্ধতিতে কোন রোগীর মৃত্যু হয়নি বরং শত শত রোগী সুস্থ্য হয়েছেন। আগে বিনামূল্যে এই সেবা দিলেও এখন প্রতিটা রোগীকে দিতে হচ্ছে ১৫’শ থেকে ২হাজার টাকা।
কোথায় থেকে পাথরটি আনা হয়েছে তা নিশ্চিত না হলেও ডিসপেন্সারীর ইনচার্জ জানান, বেলজিয়াম কিংবা ফ্রান্স থেকে আনা হয়েছে পাথরটি। একটি পাথরকে কয়েকটি টুকরো করে বিশেষ কায়দায় সংরক্ষণ করা হচ্ছে।
সিভিল সার্জন বলছেন, এই চিকিৎসা পদ্ধতি বিজ্ঞান সম্মত নয়। তাই কাউকে সাপে কাটলে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে দিতে হবে অ্যান্টিভেনম।
ডিসপেন্সারীর তথ্যমতে, এই পাথরের মাধ্যমে গত ৭বছরে ১হাজার ৮৫জন মানুষকে চিকিৎসা দিয়ে সুস্থ করা হয়েছে।























