উৎপাদন ব্যাহত
লোডশেডিং ও গ্যাস সংকটে ধুঁকছে শিল্প খাত
- আপডেট সময় : ০৪:৫৯:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৫৪ বার পড়া হয়েছে
দেশজুড়ে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে শিল্প উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে কুমিল্লা, নরসিংদী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শিল্পাঞ্চলে ঘন ঘন লোডশেডিং এবং গ্যাসের চাপ কমে যাওয়ায় শত শত কারখানা সংকটে পড়েছে। উৎপাদন সচল রাখতে জেনারেটর চালাতে গিয়ে বাড়ছে ব্যয়, কমছে উৎপাদন। সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারায় বায়ার হারানোর আশঙ্কাও করছেন উদ্যোক্তারা।
কুমিল্লা বিসিক শিল্পনগরী, চৌদ্দগ্রাম, ময়নামতি ও বুড়িচংয়ের শিল্পাঞ্চলে দিনে আট থেকে ১০ বার বিদ্যুৎ বিভ্রাট হচ্ছে। এতে গড়ে ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা বিদ্যুৎহীন থাকছে কারখানাগুলো। পোশাক, প্লাস্টিক, অটো রাইস মিল, রি-মেল্টিং স্টিল ও হালকা প্রকৌশল শিল্পে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বিদ্যুৎ বিভ্রাটে নষ্ট হচ্ছে কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতি।
কুমিল্লা বিসিকে ১৪৬টি উৎপাদনমুখী কারখানা রয়েছে। বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটে খাদ্যপণ্য উৎপাদনকারী বেকারিগুলোও ঠিকমতো চলতে পারছে না। পিডিবির তথ্য অনুযায়ী, ছয় জেলায় জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুতের সাময়িক ঘাটতি রয়েছে ৬০ মেগাওয়াট এবং আরইবির ৩০০ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় ঘাটতির কারণেই লোডশেডিং করতে হচ্ছে।
নরসিংদীতে গ্যাস সংকটে শত শত টেক্সটাইল ও ডাইং মিল প্রায় অচল হয়ে পড়েছে। সিএনজি স্টেশনগুলোতে যেখানে ১২-১৫ পিএসআই চাপ থাকার কথা, সেখানে মিলছে শূন্য থেকে ২ পিএসআই। শিল্পকারখানার পাশাপাশি বাসাবাড়িতেও গ্যাস সংকট দেখা দিয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে ১০-১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং। গ্রামাঞ্চলে কোথাও কোথাও বিদ্যুৎ থাকছে মাত্র ৫-৬ ঘণ্টা।
নরসিংদী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি রাশেদুল হাসান রিন্টু বলেন, গ্যাস সংকটে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি লোডশেডিংয়ের কারণে জেনারেটর চালাতে অতিরিক্ত জ্বালানি ব্যয় হচ্ছে। এতে প্রতিদিন কোটি কোটি টাকা লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী সংকটে কারখানা বন্ধ হলে হাজারো শ্রমিক কর্মহীন হয়ে পড়তে পারেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিসিকের ৬৮টি কারখানার মধ্যে চলমান ৬০টিতেই লোডশেডিংয়ের প্রভাব পড়েছে। বেশির ভাগ কারখানা গ্যাসনির্ভর হওয়ায় উৎপাদনে বড় ধরনের বিপর্যয় না হলেও পণ্য সরবরাহে দেরি হচ্ছে। এতে বায়ার হারানোর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে শ্রমিকদের কর্মঘণ্টা ও আয়ও কমে যাচ্ছে।
এদিকে এলএনজি টার্মিনালের সমস্যার কারণে নোয়াখালী পৌরসভা এলাকায় গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। এতে প্রায় ২৯ হাজার ৩৫০ গ্রাহক দুর্ভোগে পড়েছেন। বন্ধ রয়েছে সাতটি সিএনজি স্টেশন। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টার্মিনালের সমস্যা মেরামত না হওয়া পর্যন্ত সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
শিল্প উদ্যোক্তারা বলছেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট দ্রুত সমাধান না হলে উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি—তিন ক্ষেত্রেই বড় ধরনের ক্ষতি হতে পারে। শিল্পাঞ্চলে নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি টেকসই সমাধানের দাবি জানিয়েছেন তারা।


























