কপোতাক্ষ নদের পাড়ে ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্ক, ঝুঁকিতে বালিয়ার বেড়িবাঁধ
- আপডেট সময় : ০৫:৩৭:৪৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫২৭ বার পড়া হয়েছে
সাতক্ষীরার তালা উপজেলার বালিয়া গ্রামে কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধে নতুন করে ভয়াবহ ফাটল ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে ভিটেমাটি হারানোর আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া না হলে যেকোনো সময় বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সিএস ম্যাপ অনুযায়ী নদ খনন না করায় কপোতাক্ষের গতিপথ পরিবর্তন হয়ে জনবসতির একেবারে কাছে চলে এসেছে। এর ফলে নদীর স্রোতের চাপ সরাসরি বালিয়া গ্রামের বেড়িবাঁধে পড়ছে। দীর্ঘদিনের ভাঙনে ইতোমধ্যে অনেক ঘরবাড়ি ও জমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।
জোয়ারের চাপে বেড়িবাঁধে ভাঙন
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে বালিয়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, কপোতাক্ষ নদের বেড়িবাঁধের বিভিন্ন অংশ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। স্থানীয়রা বাঁধের পাশে অবস্থান করে পাহারা দিচ্ছেন।
তারা জানান, গত শনিবার রাতে জোয়ারের তীব্র চাপে বালিয়া গ্রামের বেড়িবাঁধের একটি অংশ ভেঙে যায়। পরে মসজিদের মাইকে ঘোষণা দেওয়া হলে গ্রামের নারী-পুরুষ ঝুড়ি ও কোদাল নিয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় তারা সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকাতে সক্ষম হন।
স্থানীয় বাসিন্দা নাজমিন আক্তার বলেন, সময়মতো গ্রামবাসী এগিয়ে না এলে ঘরবাড়ি ও মাছের ঘের লোনা পানিতে তলিয়ে যেত। তিনি অভিযোগ করেন, তিন দিন ধরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করলেও কেউ ঘটনাস্থলে আসেননি।
নদীর গতিপথ পরিবর্তনের অভিযোগ
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ১২-১৩ বছর আগে কপোতাক্ষ নদ খননের সময় সিএস ম্যাপ অনুসরণ করা হয়নি। এতে নদীর গতিপথ পরিবর্তন হয়ে জনবসতির কাছাকাছি চলে আসে।
জামাল উদ্দীন বলেন, নদ খননের পর থেকে বালিয়া গ্রামের বেড়িবাঁধে স্রোতের চাপ বেড়েছে। পাখিমারা বিলে টিআরএম (টাইডাল রিভার ম্যানেজমেন্ট) প্রকল্প চালুর পর নদীর স্রোত আরও বেড়ে যায়। ফলে প্রতিবছরই একই এলাকার বাঁধ ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
বালিয়া গ্রামের হাবিবুর রহমান গাজী বলেন, সম্প্রতি মূল বাঁধের একটি অংশ ভেঙে গেলে স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে সেটি সাময়িকভাবে মেরামত করেন। দ্রুত স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়া না হলে যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হতে পারে।
একাধিক স্থানে বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ
খেশরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কামরুল ইসলাম লাল্টু বলেন, বালিয়া গ্রামের মূল বাঁধের একটি অংশ সম্প্রতি ভেঙে যায়। স্থানীয়রা নিজেদের উদ্যোগে সেটি সাময়িকভাবে মেরামত করেছেন। তবে বাঁধের আরও কয়েকটি অংশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ড ও উপজেলা প্রশাসনকে জানানো হয়েছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
জরুরি কাজ বন্ধ থাকায় মেরামত সম্ভব নয়: পাউবো
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আব্দুর রহমান তাযকিয়া বলেন, বালিয়া এলাকার বেড়িবাঁধের পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন। তিনি আগেই ঝুঁকিপূর্ণ স্থানটি পরিদর্শন করেছেন।
তিনি জানান, মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে বর্তমানে জরুরি কাজ বন্ধ থাকায় আপাতত বাঁধটি মেরামত করা সম্ভব হচ্ছে না। বরাদ্দ পাওয়া মাত্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, কপোতাক্ষ নদের বাকি অংশ সিএস ম্যাপ অনুযায়ী খনন এবং বালিয়া গ্রামের ঝুঁকিপূর্ণ বেড়িবাঁধ দ্রুত রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তাদের আশঙ্কা, সময়মতো ব্যবস্থা না নিলে জোয়ারের পানির চাপে বড় ধরনের ভাঙন ও প্লাবনের ঘটনা ঘটতে পারে।





















