০৩:০৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মার্কিন হামলা এড়িয়ে মাটির নিচে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র বানাচ্ছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০১:১৩:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৪৭ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক হামলার পরও নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধরে রেখেছে ইরান। বরং ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলো ব্যবহার করে আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি শুরু করেছে দেশটি। গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে মার্কিন ও মধ্যপ্রাচ্যের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

ভূগর্ভস্থ কেন্দ্রে চলছে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের খোজিরসহ একাধিক ভূগর্ভস্থ কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজনের কাজ চলছে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো এড়াতে নতুন ভূগর্ভস্থ কেন্দ্রও তৈরি করছে ইরান।

দেশটির এসব স্থাপনায় যুদ্ধের আগেই বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও উপকরণ মজুত করা হয়েছিল। ফলে হামলার পরও সেগুলো ব্যবহার করে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সাবেক সিআইএ বিশ্লেষক জিম ল্যামসনের মতে, ভূগর্ভে আগে থেকেই বিপুল পরিমাণ যন্ত্রাংশ রাখা ছিল। এসব উপকরণ দিয়ে ইরান কয়েক শ থেকে কয়েক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম হতে পারে।

তরল ও কঠিন জ্বালানির ক্ষেপণাস্ত্র

ইরানের ভূগর্ভস্থ কারখানাগুলোতে তরল ও কঠিন—দুই ধরনের জ্বালানিচালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজন করা হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে নতুন কাঁচামাল সংগ্রহ এখন আগের তুলনায় কঠিন।

বিশেষ করে কঠিন জ্বালানি তৈরির উপাদান সংগ্রহে বাধার মুখে পড়েছে তেহরান। এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবুও সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানের অস্ত্রাগারে এখনও হাজার হাজার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। ফলে নতুন উৎপাদনের পাশাপাশি পুরোনো মজুত দিয়েও দেশটি দীর্ঘ সময় সামরিক কার্যক্রম চালাতে পারে।

ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের দাবি নিয়ে প্রশ্ন

এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও পেন্টাগন দাবি করেছিল, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শিল্পের প্রায় ৯০ শতাংশ ধ্বংস করা হয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য সেই দাবির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। সামরিক বিশ্লেষক তাল ইনবার মনে করেন, শুধু বিমান হামলা চালিয়ে ইরানের মতো বিশাল ও ছড়িয়ে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস করা কঠিন।

তার মতে, হামলার পরও ইরান প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত উৎপাদন সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে পারে।

হামলার বিরতিতে উৎপাদন পুনরায় শুরু

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের যুদ্ধ শুরুর পর মধ্য জুনে পাওয়া সাময়িক বিরতি ও অনানুষ্ঠানিক আলোচনার সুযোগ কাজে লাগায় ইরান। এ সময় তারা ক্ষেপণাস্ত্র পুনরুৎপাদনের কাজ শুরু করে।

পরবর্তী সময়ে ইরানের হামলাগুলোতেও পুনরুৎপাদনের সক্ষমতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। জর্ডানে মার্কিন সেনাঘাঁটিতে ক্লাস্টার ওয়ারহেডযুক্ত ‘খেইবার শেকান’ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এর অন্যতম উদাহরণ।

এ ছাড়া লোহিত সাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলাও ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

সুড়ঙ্গ মেরামতে ইসরায়েলের উদ্বেগ

ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনার প্রবেশপথগুলো হামলায় ধসে পড়লেও সেগুলো দ্রুত মেরামত করা হচ্ছে বলে ধারণা ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের। এতে তেল আবিবের সামরিক ও গোয়েন্দা মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তাদের আশঙ্কা, ভূগর্ভে সংরক্ষিত অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বড় অংশ হামলা থেকে নিরাপদে থাকতে পারে। ফলে ওপরের স্থাপনা ধ্বংস করলেও ইরানের সামরিক অবকাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ অক্ষত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা দেশটির দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালানোর সামর্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

মার্কিন হামলা এড়িয়ে মাটির নিচে আবারও ক্ষেপণাস্ত্র বানাচ্ছে ইরান

আপডেট সময় : ০১:১৩:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক হামলার পরও নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ধরে রেখেছে ইরান। বরং ভূগর্ভস্থ স্থাপনাগুলো ব্যবহার করে আবারও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি শুরু করেছে দেশটি। গোয়েন্দা তথ্যের বরাতে মার্কিন ও মধ্যপ্রাচ্যের কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

ভূগর্ভস্থ কেন্দ্রে চলছে ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন

দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দক্ষিণ-পূর্ব ইরানের খোজিরসহ একাধিক ভূগর্ভস্থ কেন্দ্রে ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজনের কাজ চলছে। হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো এড়াতে নতুন ভূগর্ভস্থ কেন্দ্রও তৈরি করছে ইরান।

দেশটির এসব স্থাপনায় যুদ্ধের আগেই বিভিন্ন যন্ত্রাংশ ও উপকরণ মজুত করা হয়েছিল। ফলে হামলার পরও সেগুলো ব্যবহার করে নতুন ক্ষেপণাস্ত্র তৈরির সুযোগ তৈরি হয়েছে।

সাবেক সিআইএ বিশ্লেষক জিম ল্যামসনের মতে, ভূগর্ভে আগে থেকেই বিপুল পরিমাণ যন্ত্রাংশ রাখা ছিল। এসব উপকরণ দিয়ে ইরান কয়েক শ থেকে কয়েক হাজার ক্ষেপণাস্ত্র তৈরি করতে সক্ষম হতে পারে।

তরল ও কঠিন জ্বালানির ক্ষেপণাস্ত্র

ইরানের ভূগর্ভস্থ কারখানাগুলোতে তরল ও কঠিন—দুই ধরনের জ্বালানিচালিত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সংযোজন করা হচ্ছে। তবে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে নতুন কাঁচামাল সংগ্রহ এখন আগের তুলনায় কঠিন।

বিশেষ করে কঠিন জ্বালানি তৈরির উপাদান সংগ্রহে বাধার মুখে পড়েছে তেহরান। এর পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ ও আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা বড় কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

তবুও সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা, ইরানের অস্ত্রাগারে এখনও হাজার হাজার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে। ফলে নতুন উৎপাদনের পাশাপাশি পুরোনো মজুত দিয়েও দেশটি দীর্ঘ সময় সামরিক কার্যক্রম চালাতে পারে।

ইরানের সামরিক সক্ষমতা ধ্বংসের দাবি নিয়ে প্রশ্ন

এর আগে চলতি বছরের এপ্রিলে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ও পেন্টাগন দাবি করেছিল, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন শিল্পের প্রায় ৯০ শতাংশ ধ্বংস করা হয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক গোয়েন্দা তথ্য সেই দাবির কার্যকারিতা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। সামরিক বিশ্লেষক তাল ইনবার মনে করেন, শুধু বিমান হামলা চালিয়ে ইরানের মতো বিশাল ও ছড়িয়ে থাকা ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন ব্যবস্থা পুরোপুরি ধ্বংস করা কঠিন।

তার মতে, হামলার পরও ইরান প্রত্যাশার চেয়ে দ্রুত উৎপাদন সক্ষমতা পুনর্গঠন করতে পারে।

হামলার বিরতিতে উৎপাদন পুনরায় শুরু

প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের যুদ্ধ শুরুর পর মধ্য জুনে পাওয়া সাময়িক বিরতি ও অনানুষ্ঠানিক আলোচনার সুযোগ কাজে লাগায় ইরান। এ সময় তারা ক্ষেপণাস্ত্র পুনরুৎপাদনের কাজ শুরু করে।

পরবর্তী সময়ে ইরানের হামলাগুলোতেও পুনরুৎপাদনের সক্ষমতার ইঙ্গিত পাওয়া যায়। জর্ডানে মার্কিন সেনাঘাঁটিতে ক্লাস্টার ওয়ারহেডযুক্ত ‘খেইবার শেকান’ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা এর অন্যতম উদাহরণ।

এ ছাড়া লোহিত সাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলাও ইরানের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।

সুড়ঙ্গ মেরামতে ইসরায়েলের উদ্বেগ

ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনার প্রবেশপথগুলো হামলায় ধসে পড়লেও সেগুলো দ্রুত মেরামত করা হচ্ছে বলে ধারণা ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের। এতে তেল আবিবের সামরিক ও গোয়েন্দা মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

তাদের আশঙ্কা, ভূগর্ভে সংরক্ষিত অস্ত্র ও ক্ষেপণাস্ত্রের একটি বড় অংশ হামলা থেকে নিরাপদে থাকতে পারে। ফলে ওপরের স্থাপনা ধ্বংস করলেও ইরানের সামরিক অবকাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ অক্ষত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

সব মিলিয়ে ইরানের ভূগর্ভস্থ ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন সক্ষমতা দেশটির দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালানোর সামর্থ্যের গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে এটি যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি করতে পারে।