১২:৩৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুই যুদ্ধের উত্তাপের মধ্যে ভারতে জড়ো হচ্ছেন বিশ্বনেতারা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ১১:৪০:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৩৩ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান দুই যুদ্ধের উত্তাপের মধ্যেই ভারতে বসছে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন। দুই দিনের এই সম্মেলনে অংশ নিতে নয়াদিল্লিতে জড়ো হচ্ছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা।

রাশিয়া, চীন, ইরানসহ ব্রিকসের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর নেতারা সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। যুদ্ধ নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও অর্থনৈতিক সহযোগিতা, আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হবে।

দিল্লিতে জোরদার নিরাপত্তা

ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে নয়াদিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন সড়কে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিশ্বনেতাদের স্বাগত জানানোর পোস্টার দেখা যাচ্ছে। একইসঙ্গে যান চলাচলেও কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এরই মধ্যে নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার আলাদা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। একই দিনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও মোদির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এসব বৈঠকে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক গুরুত্ব পেতে পারে।

ছয় বছর পর ভারতে শি জিনপিং

ব্রিকস সম্মেলনে বিশেষ নজর থাকছে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সফর ঘিরে। ছয় বছর পর তিনি ভারত সফরে আসছেন।

২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় সীমান্ত সংঘর্ষের পর ভারত-চীন সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। ওই ঘটনায় ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হন। এরপর এবারই প্রথম ভারত সফরে আসছেন শি।

সম্মেলনের ফাঁকে মোদির সঙ্গে শি জিনপিংয়ের বৈঠক হতে পারে। ফলে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়েও এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ব্রিকসের ১১ সদস্য

২০০৯ সালে ব্রিকসের যাত্রা শুরু হয়। উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে শুরু হওয়া এই জোট পরে আরও সম্প্রসারিত হয়েছে।

বর্তমানে ব্রিকসের ১১ সদস্য হলো—ব্রাজিল, চীন, মিশর, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সম্মেলনে ব্রিকসের অভিন্ন অগ্রাধিকার নিয়ে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিষয়েও মতবিনিময় করবেন নেতারা।

অংশ নিচ্ছেন যেসব দেশের নেতারা

পুতিন, শি জিনপিং ও পেজেশকিয়ানের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতা সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।

তালিকায় রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো, মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি, কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ।

এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোয়ো সুবিয়ান্তো, ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলও অংশ নিচ্ছেন।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার পরিবর্তে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাউরো ভিয়েরা প্রতিনিধিত্ব করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের পরিবর্তে অংশ নেবেন আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও সম্মেলনে অংশ নিতে পারেন। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি।

১৫ হাজার পুলিশ মোতায়েন

শনিবার শুরু হতে যাওয়া দুই দিনের ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে দিল্লিতে প্রায় ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি আধাসামরিক বাহিনীর ২০০ কোম্পানি দায়িত্ব পালন করবে।

নিরাপত্তার অংশ হিসেবে ৫০০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে রাজধানীজুড়ে নজরদারি করা হচ্ছে। ভিভিআইপি বহর চলাচলের সময় কিছু সড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ রাখা, পথ পরিবর্তন ও অন্যান্য বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে।

তবে দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, সম্মেলন ঘিরে পুরো শহর বন্ধ করে দেওয়া হবে না।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

দুই যুদ্ধের উত্তাপের মধ্যে ভারতে জড়ো হচ্ছেন বিশ্বনেতারা

আপডেট সময় : ১১:৪০:৫৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইউক্রেন ও মধ্যপ্রাচ্যে চলমান দুই যুদ্ধের উত্তাপের মধ্যেই ভারতে বসছে ব্রিকসের ১৮তম শীর্ষ সম্মেলন। দুই দিনের এই সম্মেলনে অংশ নিতে নয়াদিল্লিতে জড়ো হচ্ছেন বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা।

রাশিয়া, চীন, ইরানসহ ব্রিকসের সদস্য ও অংশীদার দেশগুলোর নেতারা সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন। যুদ্ধ নিয়ে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও অর্থনৈতিক সহযোগিতা, আঞ্চলিক পরিস্থিতি ও বৈশ্বিক বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হবে।

দিল্লিতে জোরদার নিরাপত্তা

ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে নয়াদিল্লিতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন সড়কে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বিশ্বনেতাদের স্বাগত জানানোর পোস্টার দেখা যাচ্ছে। একইসঙ্গে যান চলাচলেও কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এরই মধ্যে নয়াদিল্লিতে পৌঁছেছেন। শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার আলাদা বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। একই দিনে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গেও মোদির বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। এসব বৈঠকে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক গুরুত্ব পেতে পারে।

ছয় বছর পর ভারতে শি জিনপিং

ব্রিকস সম্মেলনে বিশেষ নজর থাকছে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সফর ঘিরে। ছয় বছর পর তিনি ভারত সফরে আসছেন।

২০২০ সালে গালওয়ান উপত্যকায় সীমান্ত সংঘর্ষের পর ভারত-চীন সম্পর্কে টানাপোড়েন তৈরি হয়। ওই ঘটনায় ২০ ভারতীয় সেনা নিহত হন। এরপর এবারই প্রথম ভারত সফরে আসছেন শি।

সম্মেলনের ফাঁকে মোদির সঙ্গে শি জিনপিংয়ের বৈঠক হতে পারে। ফলে দুই দেশের সম্পর্ক নিয়েও এই বৈঠক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

ব্রিকসের ১১ সদস্য

২০০৯ সালে ব্রিকসের যাত্রা শুরু হয়। উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলোর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে শুরু হওয়া এই জোট পরে আরও সম্প্রসারিত হয়েছে।

বর্তমানে ব্রিকসের ১১ সদস্য হলো—ব্রাজিল, চীন, মিশর, ইথিওপিয়া, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, রাশিয়া, সৌদি আরব, দক্ষিণ আফ্রিকা ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।

ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সম্মেলনে ব্রিকসের অভিন্ন অগ্রাধিকার নিয়ে সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হবে। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক বিষয়েও মতবিনিময় করবেন নেতারা।

অংশ নিচ্ছেন যেসব দেশের নেতারা

পুতিন, শি জিনপিং ও পেজেশকিয়ানের পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতা সম্মেলনে অংশ নিচ্ছেন।

তালিকায় রয়েছেন দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা, বেলারুশের প্রেসিডেন্ট আলেক্সান্ডার লুকাশেঙ্কো, মিশরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি, কাজাখস্তানের প্রেসিডেন্ট কাসিম-জোমার্ট তোকায়েভ।

এ ছাড়া ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোয়ো সুবিয়ান্তো, ইথিওপিয়ার প্রধানমন্ত্রী আবি আহমেদ, মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম এবং থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী আনুতিন চার্নভিরাকুলও অংশ নিচ্ছেন।

ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভার পরিবর্তে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাউরো ভিয়েরা প্রতিনিধিত্ব করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের পরিবর্তে অংশ নেবেন আবুধাবির ক্রাউন প্রিন্স শেখ খালেদ বিন মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও সম্মেলনে অংশ নিতে পারেন। তবে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা এখনো আসেনি।

১৫ হাজার পুলিশ মোতায়েন

শনিবার শুরু হতে যাওয়া দুই দিনের ব্রিকস সম্মেলন ঘিরে দিল্লিতে প্রায় ১৫ হাজার পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পাশাপাশি আধাসামরিক বাহিনীর ২০০ কোম্পানি দায়িত্ব পালন করবে।

নিরাপত্তার অংশ হিসেবে ৫০০টির বেশি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে রাজধানীজুড়ে নজরদারি করা হচ্ছে। ভিভিআইপি বহর চলাচলের সময় কিছু সড়কে সাময়িকভাবে যান চলাচল বন্ধ রাখা, পথ পরিবর্তন ও অন্যান্য বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে।

তবে দিল্লি ট্রাফিক পুলিশ জানিয়েছে, সম্মেলন ঘিরে পুরো শহর বন্ধ করে দেওয়া হবে না।