হুতিদের লাগাম টানতে ইরানকে পাকিস্তানের কঠোর হুঁশিয়ারি
- আপডেট সময় : ১২:৩৭:৪১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৩৫ বার পড়া হয়েছে
সৌদি আরবে ইয়েমেনের সশস্ত্র গোষ্ঠী হুতিদের হামলা নিয়ে ইরানকে কঠোর বার্তা দিয়েছে পাকিস্তান। হুতিদের হামলা বন্ধে তেহরানকে নিজেদের প্রভাব কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছে ইসলামাবাদ।
একই সঙ্গে সৌদি আরবে হামলা আরও ছড়িয়ে পড়লে পাকিস্তান, সৌদি আরব ও তুরস্কের যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে।
সৌদি আরবে হুতিদের হামলা
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার সৌদি আরবের খামিস মুশাইত শহরের একটি বিমানঘাঁটিতে হামলা চালায় হুতিরা। আশপাশের কয়েকটি শহরের তেল অবকাঠামোও হামলার লক্ষ্য ছিল।
এসব হামলায় ৭৩ জন আহত হন। ফেব্রুয়ারিতে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর পর সৌদিতে এটিকে বড় হামলাগুলোর একটি হিসেবে দেখা হচ্ছে।
এর পরদিন হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেন, ১২ ঘণ্টায় ইয়েমেনের বিভিন্ন প্রদেশে ৫৪টি বিমান হামলা চালিয়েছে সৌদি যুদ্ধবিমান।
তিনি বলেন, এসব হামলার জবাব দেওয়া হবে।
ইরানকে বার্তা দিল পাকিস্তান
হুতিদের হামলা নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় ইরানের কাছে বার্তা পাঠিয়েছে পাকিস্তান। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইরানের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা।
সৌদি আরবে হামলা বন্ধে তেহরানকে হুতিদের ওপর প্রভাব কাজে লাগানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। তবে জবাবে ইরান জানিয়েছে, হুতিদের ওপর তাদের সরাসরি নিয়ন্ত্রণ নেই।
অন্যদিকে, দুই ইরানি সূত্রের দাবি, গত সপ্তাহে তেহরান হুতিদের সৌদি আরবে হামলা চালাতে উৎসাহ দিয়েছে। তাদের দাবি, হুতিদের অতিরিক্ত অর্থ ও অস্ত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে ইরান।
তবে এসব দাবির বিষয়ে ইরান আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
সৌদি-তুরস্ক-পাকিস্তানের যৌথ নিরাপত্তা
পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী খাজা আসিফ জানিয়েছেন, সৌদি আরবে হামলা আরও ছড়িয়ে পড়লে তিন দেশের যৌথ নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর হতে পারে।
পাকিস্তানি টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, সৌদি আরবের ওপর আগ্রাসনকে তিন দেশের ওপর আগ্রাসন হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
তবে ইসলামাবাদ জানিয়েছে, তাদের সম্ভাব্য সামরিক ভূমিকা সৌদি ভূখণ্ডের প্রতিরক্ষায় সীমাবদ্ধ থাকবে।
পাকিস্তানি সূত্রগুলো বলছে, দেশটির সেনারা ইয়েমেনে প্রবেশ করবে না। সৌদি ভূখণ্ড থেকেই প্রয়োজনীয় সামরিক, কারিগরি, স্থল বা বিমান সহায়তা দেওয়া হতে পারে।
যুদ্ধে জড়াতে চায় না পাকিস্তান
এক আঞ্চলিক কূটনীতিক বলেন, পাকিস্তান এখনো কূটনৈতিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। দেশটি এমন পরিস্থিতি চায় না, যেখানে সৌদি আরবের প্রতিরক্ষায় সরাসরি যুদ্ধে নামতে হবে।
এদিকে সৌদি ও পাকিস্তানি কর্মকর্তারা তুরস্কের সঙ্গে নিরাপত্তা সমন্বয় করেছেন বলে কয়েকটি সূত্র জানিয়েছে। তবে পাল্টা হামলায় পাকিস্তানের সরাসরি অংশগ্রহণের বিষয়ে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিদের হামলা মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতকে আরও বিস্তৃত করতে পারে। এতে সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে নিরাপত্তা সহযোগিতা বাড়তে পারে।
অন্যদিকে, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতও উপসাগরীয় অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। এর প্রভাব পড়ছে জাহাজ চলাচল ও জ্বালানি সরবরাহে।
আঞ্চলিক কর্মকর্তাদের মতে, হুতিদের মাধ্যমে চাপ তৈরির ইরানি কৌশল উল্টো ফল দিতে পারে। এতে ওয়াশিংটনের মিত্র দেশগুলো আরও কাছাকাছি আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
তবে কাতার দুই পক্ষকে আবার আলোচনায় ফেরানোর জন্য নতুন কিছু প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।




















