অভিনয় ছেড়ে ধর্মীয় জীবনে যেসব তারকা
- আপডেট সময় : ০১:০৯:৪৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫২৯ বার পড়া হয়েছে
রুপালি পর্দার ঝলমলে জগৎ, খ্যাতি ও জনপ্রিয়তা অনেকের কাছে কাঙ্ক্ষিত। তবে এই জগতের শীর্ষে থেকেও কেউ কেউ অভিনয় ছেড়ে দিয়েছেন। এরপর তারা ধর্মীয় অনুশীলন, পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনে বেশি মনোযোগ দিয়েছেন।
বাংলাদেশ, ভারত ও পাকিস্তানের বিনোদন জগতের বেশ কয়েকজন পরিচিত মুখ এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাদের মধ্যে কারও সিদ্ধান্ত এসেছে আধ্যাত্মিক পরিবর্তনের পর। আবার কেউ ব্যক্তিগত মূল্যবোধ ও জীবনযাপনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শোবিজ থেকে দূরে সরে গেছেন।
সুজানা জাফর
বাংলাদেশের মডেল ও অভিনেত্রী সুজানা জাফর দীর্ঘদিন বিজ্ঞাপন, মিউজিক ভিডিও ও নাটকে কাজ করেছেন। ২০০৩ সালে লাক্স-চ্যানেল আই ফটোসুন্দরী প্রতিযোগিতায় সাফল্যের পর বিনোদন অঙ্গনে পরিচিতি পান তিনি।
২০১৮ সালে ওমরাহ পালনের পর মিডিয়া থেকে নিজেকে গুটিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন সুজানা। এরপর ধর্মীয় অনুশীলনের দিকে তার আগ্রহ বাড়ে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার বিভিন্ন পোস্টেও সেই পরিবর্তনের বিষয়টি উঠে আসে।
এ্যানি খান
মডেল, উপস্থাপক ও অভিনেত্রী এ্যানি খান প্রায় ২৩ বছর বিনোদন অঙ্গনে কাজ করেছেন। করোনাকালীন সময়ে অভিনয় থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন তিনি।
এ্যানি জানিয়েছিলেন, ওই সময়ে ইবাদত-বন্দেগি ও আত্মঅনুসন্ধানে বেশি মনোযোগ দেন তিনি। জীবনে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে বলেও জানিয়েছিলেন এই অভিনেত্রী।
শাবানা
বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় অভিনেত্রী শাবানা ক্যারিয়ারের তুঙ্গে থাকা অবস্থায় অভিনয় থেকে সরে দাঁড়ান। দীর্ঘদিন চলচ্চিত্রে দাপটের সঙ্গে কাজ করেছেন তিনি।
অভিনয় ছাড়ার পর ধর্মীয় জীবনযাপনে মনোযোগ দেন শাবানা। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সাক্ষাৎকার ও প্রতিবেদনে তার অভিনয় ছাড়ার সিদ্ধান্ত এবং ধর্মীয় জীবনে মনোনিবেশের বিষয়টি উঠে আসে।
নাজনীন আক্তার হ্যাপি
মডেল ও অভিনেত্রী নাজনীন আক্তার হ্যাপি চলচ্চিত্র ও বিজ্ঞাপনে কাজ করে পরিচিতি পেয়েছিলেন। ২০১৭ সালে অভিনয় ছাড়ার ঘোষণা দেন তিনি।
এরপর ধর্মীয় জীবনধারায় নিজেকে যুক্ত করেন হ্যাপি। তিনি ‘আমাতুল্লাহ’ নাম গ্রহণ করেন। অতীত জীবন থেকে সরে এসে নতুনভাবে জীবন শুরু করার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।
সানা খান
ভারতের অভিনেত্রী ও মডেল সানা খান চলচ্চিত্র ও রিয়েলিটি শোর মাধ্যমে জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। ২০২০ সালে বিনোদন জগত ছাড়ার ঘোষণা দেন তিনি।
সানা জানান, মানবসেবা ও সৃষ্টিকর্তার নির্দেশিত পথে জীবন কাটাতে চান। পরে মুফতি আনাস সাইদকে বিয়ে করেন তিনি। এরপর ধর্মীয় জীবনধারায় আরও সক্রিয় হয়ে ওঠেন।
জায়রা ওয়াসিম
‘দঙ্গল’ ও ‘সিক্রেট সুপারস্টার’ সিনেমায় অভিনয় করে অল্প বয়সেই ব্যাপক পরিচিতি পান জায়রা ওয়াসিম। তবে কয়েক বছরের ক্যারিয়ারেই অভিনয় ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
২০১৯ সালে অভিনয় ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে জায়রা জানান, অভিনয় তার ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হয়ে উঠছিল। কোরআনের শিক্ষায় তিনি শান্তি খুঁজে পেয়েছেন বলেও জানান। এরপর আর অভিনয়ে ফেরেননি এই অভিনেত্রী।
পাকিস্তানের আনুম ফাইয়াজ ও জারনিশ খান
পাকিস্তানের অভিনেত্রী আনুম ফাইয়াজও অভিনয় থেকে সরে গিয়ে ধর্মীয় জীবনধারায় মনোযোগ দেওয়ার ঘোষণা দেন। একইভাবে জারনিশ খানও শোবিজ থেকে দূরে সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানান।
তারা দুজনই ধর্মীয় অনুশীলনে বেশি মনোযোগ দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। ফলে অভিনয়ের পরিবর্তে ব্যক্তিগত ও ধর্মীয় জীবনই তাদের কাছে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে।
হালিমা অ্যাডেন
পশ্চিমা ফ্যাশন জগতের পরিচিত মুখ হালিমা অ্যাডেন। হিজাব পরা প্রথম দিকের আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত মডেলদের একজন ছিলেন তিনি।
ধর্মীয় বিশ্বাস ও ব্যক্তিগত মূল্যবোধের সঙ্গে ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রির কিছু বিষয়ের অসামঞ্জস্যের কথা উল্লেখ করে মডেলিং থেকে বিরতি নেন হালিমা। এরপর নিজের মূল্যবোধ ও ব্যক্তিগত জীবনে বেশি গুরুত্ব দেন তিনি।
সবার সিদ্ধান্তের কারণ এক নয়
অভিনয় বা মডেলিং ছেড়ে দেওয়া এসব তারকার প্রত্যেকের সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপট আলাদা। কেউ আধ্যাত্মিক পরিবর্তনের পর শোবিজ থেকে দূরে সরে গেছেন। কেউ আবার ধর্মীয় বিশ্বাসের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে জীবনযাপনকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।
আবার কারও ক্ষেত্রে পরিবার ও ব্যক্তিগত জীবনও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তাই তাদের সিদ্ধান্তকে একক কোনো কারণ দিয়ে ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়। বরং সংশ্লিষ্ট তারকার নিজস্ব বক্তব্য এবং পরবর্তী জীবনযাত্রার পরিবর্তনকে গুরুত্ব দেওয়াই বেশি যুক্তিযুক্ত।


























