০১:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিখোঁজের ৩ দিন পর মাটি খুঁড়ে ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার

নিজস্ব প্রতিবেদক
  • আপডেট সময় : ১২:৩৪:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫২৫ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ঢাকার লালবাগে নিখোঁজের তিন দিন পর একটি ভবনের পাশের মাটি খুঁড়ে শেখ ওয়াসিম রনি (৪৩) নামে এক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিন লাখ টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় মো. মাসুম চৌধুরী নামে একজনকে আটক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর ৯ নম্বর বিসি দাস স্ট্রিটের একটি পাঁচতলা ভবনে অভিযান শুরু করে লালবাগ থানা পুলিশ। দীর্ঘ অভিযান শেষে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ভবনের নিচতলার পাশের মাটি খুঁড়ে ওয়াসিম রনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের পাশাপাশি সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ও ডিবি পুলিশের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

তিন লাখ টাকা নিয়ে বিরোধ

পুলিশ জানিয়েছে, গত ৮ সেপ্টেম্বর ওয়াসিম রনি নিখোঁজ হন। পরে তার পরিবারের পক্ষ থেকে লালবাগ থানায় অভিযোগ করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

আটক মাসুম চৌধুরী ইমিটেশন জুয়েলারির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। যে ভবনের পাশ থেকে ওয়াসিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, সেই ভবনের নিচতলায় মাসুমের পাইকারি কারখানা রয়েছে।

মাসুমের দুলাভাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় আট মাস আগে ওয়াসিমের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা নিয়েছিলেন মাসুম। ওই টাকার বিপরীতে প্রতি মাসে ৩৫ হাজার টাকা করে সুদ দেওয়ার কথা ছিল। পরে টাকা পরিশোধের বিষয়টি নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।

ব্যবসায়িক কক্ষে ধস্তাধস্তি

নিহতের স্বজনদের দাবি, গত ৮ সেপ্টেম্বর পাওনা টাকা চাইতে মাসুমের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে যান ওয়াসিম। সেখানে টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এ সময় মাসুম ওয়াসিমের মাথায় ঘুষি মারেন বলে তার দুলাভাই দাবি করেছেন। পরে ওয়াসিম অচেতন হয়ে পড়ে যান।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, এরপর ওয়াসিমকে ভবনের পাশের মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়।

নিখোঁজের পর তদন্তে বেরিয়ে আসে তথ্য

নিহতের স্ত্রীর ভাই মুরাদ হোসেন জানান, ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরের পর থেকে ওয়াসিমের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় তার সন্ধান শুরু করেন।

একপর্যায়ে তারা মাসুমের বাড়িতেও যান। সেখানে মাসুমের স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন স্বজনরা। তিনি ওয়াসিম সম্পর্কে কোনো তথ্য জানেন না বলে জানান। তবে ওয়াসিম ওই বাসায় এসেছিলেন এবং পরে চলে গেছেন বলে তিনি জানান।

কোনো সন্ধান না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা লালবাগ থানায় অভিযোগ করেন। এরপর পুলিশ বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত চালায়।

তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, একটি ভবনের নিচতলার পাশের মাটির নিচে ওয়াসিমের মরদেহ চাপা দেওয়া হয়েছে। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মরদেহ উদ্ধারের পর আটক একজন

মুরাদ হোসেনের অভিযোগ, ওয়াসিমের মরদেহ লুকিয়ে রাখতে আট বস্তা মাটি এনে সেখানে চাপা দেওয়া হয়েছিল। তার আরও দাবি, ওয়াসিমের হাত-পা বেঁধে মাটির নিচে রাখা হয়েছিল।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। মরদেহের শরীরে আঘাতের ধরন, মৃত্যুর কারণ এবং কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে।

লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) তালেবুর রহমান জানান, ৮ সেপ্টেম্বর রনি নিখোঁজ হওয়ার পর তার স্বজনরা থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়।

তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নিচতলার পাশের মাটির নিচ থেকে নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিসি আরও জানান, এ ঘটনায় মাসুম চৌধুরীকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, হত্যার প্রকৃত কারণ কী এবং ঘটনার বিস্তারিত কী—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

নিখোঁজের ৩ দিন পর মাটি খুঁড়ে ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার

আপডেট সময় : ১২:৩৪:৪৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ঢাকার লালবাগে নিখোঁজের তিন দিন পর একটি ভবনের পাশের মাটি খুঁড়ে শেখ ওয়াসিম রনি (৪৩) নামে এক ব্যবসায়ীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিন লাখ টাকা নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে হত্যা করে মাটিচাপা দেওয়া হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। এ ঘটনায় মো. মাসুম চৌধুরী নামে একজনকে আটক করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজধানীর ৯ নম্বর বিসি দাস স্ট্রিটের একটি পাঁচতলা ভবনে অভিযান শুরু করে লালবাগ থানা পুলিশ। দীর্ঘ অভিযান শেষে শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ভবনের নিচতলার পাশের মাটি খুঁড়ে ওয়াসিম রনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

পরে মরদেহটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে পুলিশের পাশাপাশি সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিট ও ডিবি পুলিশের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন।

তিন লাখ টাকা নিয়ে বিরোধ

পুলিশ জানিয়েছে, গত ৮ সেপ্টেম্বর ওয়াসিম রনি নিখোঁজ হন। পরে তার পরিবারের পক্ষ থেকে লালবাগ থানায় অভিযোগ করা হয়। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে পুলিশ।

আটক মাসুম চৌধুরী ইমিটেশন জুয়েলারির ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। যে ভবনের পাশ থেকে ওয়াসিমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে, সেই ভবনের নিচতলায় মাসুমের পাইকারি কারখানা রয়েছে।

মাসুমের দুলাভাইয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় আট মাস আগে ওয়াসিমের কাছ থেকে তিন লাখ টাকা নিয়েছিলেন মাসুম। ওই টাকার বিপরীতে প্রতি মাসে ৩৫ হাজার টাকা করে সুদ দেওয়ার কথা ছিল। পরে টাকা পরিশোধের বিষয়টি নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়।

ব্যবসায়িক কক্ষে ধস্তাধস্তি

নিহতের স্বজনদের দাবি, গত ৮ সেপ্টেম্বর পাওনা টাকা চাইতে মাসুমের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে যান ওয়াসিম। সেখানে টাকা ফেরত দেওয়া নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। এ সময় মাসুম ওয়াসিমের মাথায় ঘুষি মারেন বলে তার দুলাভাই দাবি করেছেন। পরে ওয়াসিম অচেতন হয়ে পড়ে যান।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, এরপর ওয়াসিমকে ভবনের পাশের মাটির নিচে পুঁতে রাখা হয়।

নিখোঁজের পর তদন্তে বেরিয়ে আসে তথ্য

নিহতের স্ত্রীর ভাই মুরাদ হোসেন জানান, ৮ সেপ্টেম্বর দুপুরের পর থেকে ওয়াসিমের মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় তার সন্ধান শুরু করেন।

একপর্যায়ে তারা মাসুমের বাড়িতেও যান। সেখানে মাসুমের স্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেন স্বজনরা। তিনি ওয়াসিম সম্পর্কে কোনো তথ্য জানেন না বলে জানান। তবে ওয়াসিম ওই বাসায় এসেছিলেন এবং পরে চলে গেছেন বলে তিনি জানান।

কোনো সন্ধান না পেয়ে পরিবারের সদস্যরা লালবাগ থানায় অভিযোগ করেন। এরপর পুলিশ বিভিন্ন তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত চালায়।

তদন্তের একপর্যায়ে পুলিশ জানতে পারে, একটি ভবনের নিচতলার পাশের মাটির নিচে ওয়াসিমের মরদেহ চাপা দেওয়া হয়েছে। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মরদেহ উদ্ধারের পর আটক একজন

মুরাদ হোসেনের অভিযোগ, ওয়াসিমের মরদেহ লুকিয়ে রাখতে আট বস্তা মাটি এনে সেখানে চাপা দেওয়া হয়েছিল। তার আরও দাবি, ওয়াসিমের হাত-পা বেঁধে মাটির নিচে রাখা হয়েছিল।

তবে এসব অভিযোগের সত্যতা এখনো নিশ্চিত হয়নি। মরদেহের শরীরে আঘাতের ধরন, মৃত্যুর কারণ এবং কীভাবে তার মৃত্যু হয়েছে, তা ময়নাতদন্তের পর জানা যাবে।

লালবাগ বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) তালেবুর রহমান জানান, ৮ সেপ্টেম্বর রনি নিখোঁজ হওয়ার পর তার স্বজনরা থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়।

তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযুক্তের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের নিচতলার পাশের মাটির নিচ থেকে নিখোঁজ ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিসি আরও জানান, এ ঘটনায় মাসুম চৌধুরীকে আটক করা হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত কি না, হত্যার প্রকৃত কারণ কী এবং ঘটনার বিস্তারিত কী—এসব বিষয় তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।