০৫:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফিফা থেকে বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা পেতে পারে বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক
  • আপডেট সময় : ০৩:৩৭:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / ১৫৩৮ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

ফিফার জমা থাকা বিপুল রিজার্ভ থেকে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বড় অঙ্কের অর্থ বিতরণের দাবি উঠেছে। ইউরোপের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা ও উত্তর, মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা কনকাকাফ এই দাবি জানিয়েছে।

প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশসহ ফিফার ২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশন এককালীন বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা পেতে পারে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিটি দেশ পেতে পারে ১ কোটি ডলার

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে পাঠানো এক চিঠিতে উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্ডার সেফেরিন এবং কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্তাগলিয়ানি প্রতিটি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনকে অন্তত ১০ মিলিয়ন বা ১ কোটি মার্কিন ডলার দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন।

বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ১২২ কোটি টাকার বেশি। তাদের হিসাবে, ২০২৩-২৬ অর্থবছর শেষে ফিফার রিজার্ভ প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

তারা মনে করছেন, ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ফিফার প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানোর পরও এই রিজার্ভের একটি বড় অংশ অব্যবহৃত থাকতে পারে। তাই ২০২৭-৩০ চক্রে সদস্য দেশগুলোর ফুটবল উন্নয়নে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

অতিরিক্ত খরচ হবে ২.১১ বিলিয়ন ডলার

২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনকে ১ কোটি ডলার করে দিলে ফিফার মোট ব্যয় হবে প্রায় ২.১১ বিলিয়ন ডলার। উয়েফা ও কনকাকাফের প্রস্তাব অনুযায়ী, এই অর্থ নিয়মিত উন্নয়ন তহবিলের বাইরে অতিরিক্ত অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে।

অর্থটি মূলত ফুটবল অবকাঠামো উন্নয়ন ও দেশগুলোর ফুটবলের মান বাড়ানোর কাজে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।

‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ নিয়ে বিরোধ

এই অর্থ বিতরণের দাবির পেছনে ফিফার ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ বা এফএফই পরিকল্পনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিরোধও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ইনফান্তিনোর পরিকল্পনায় বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন বড় টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক ও টিকিটিং স্বত্ব পরিচালনার জন্য নতুন একটি কোম্পানি গঠনের প্রস্তাব ছিল। ওই কোম্পানির ২১ শতাংশ শেয়ার একটি বহিরাগত বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির পরিকল্পনাও করা হয়েছিল।

তবে জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর বিরোধিতার মুখে পরিকল্পনাটি প্রকাশের চার দিনের মধ্যেই বাতিল করে ফিফা।

এর আগে ইনফান্তিনো সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে জানিয়েছিলেন, পরিকল্পনাটি অনুমোদিত হলে প্রতিটি দেশ সর্বোচ্চ ৪০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পেতে পারে। সমর্থনকারী ফেডারেশনগুলোকে প্রাথমিকভাবে ২০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রস্তাবও ছিল।

স্বাধীন আর্থিক পর্যালোচনার দাবি

উয়েফা ও কনকাকাফের চিঠিতে বলা হয়েছে, ফিফার প্রকাশিত আর্থিক হিসাব ও বাজেট বিশ্লেষণ করেই তারা অতিরিক্ত অর্থ বিতরণের প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের দাবি, সদস্য দেশগুলোকে অর্থ দেওয়ার জন্য বিতর্কিত এফএফই পরিকল্পনার প্রয়োজন নেই।

দুই সংস্থা ফিফার আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্বাধীন পর্যালোচনা বা অডিটের দাবিও জানিয়েছে। এ ক্ষেত্রে ফিফার আর্থিক হিসাব এবং বাজেট তৈরির সময় ব্যবহৃত বিভিন্ন অনুমান ও তথ্য পর্যালোচনার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

তাদের মতে, ফিফার রিজার্ভে থাকা অর্থ বিশ্ব ফুটবল এবং ২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের কল্যাণের জন্য ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।

অন্যান্য কনফেডারেশনের সমর্থন চাওয়া হয়েছে

প্রস্তাবটির পক্ষে সমর্থন আদায়ে এশিয়া, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও ওশেনিয়ার ফুটবল কনফেডারেশনগুলোর সভাপতিদের কাছেও চিঠি পাঠিয়েছে উয়েফা ও কনকাকাফ।

এদিকে ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারপারসন ডেবি হিউইটও ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো ও মহাসচিব ম্যাটিয়াস গ্রাফস্ট্রমকে চিঠি দিয়েছেন। সেখানে এফএফই পরিকল্পনা সংক্রান্ত গোপন নথি প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।

আগামী ১৫ অক্টোবর ফিফা কাউন্সিলের পরবর্তী সভা হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নথি কাউন্সিলের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবিও উঠেছে।

বাংলাদেশের ফুটবলেও প্রভাব পড়তে পারে

ফিফা শেষ পর্যন্ত সদস্য দেশগুলোকে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে বাংলাদেশও এর আওতায় আসতে পারে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এককালীন বড় অঙ্কের অর্থ পেতে পারে।

এই অর্থ পাওয়া গেলে দেশের ফুটবল অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ এবং সামগ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রমে তা ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে ফিফা এখনো সদস্য দেশগুলোকে ১ কোটি ডলার করে দেওয়ার কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

ফিফা থেকে বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা পেতে পারে বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ০৩:৩৭:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ফিফার জমা থাকা বিপুল রিজার্ভ থেকে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে বড় অঙ্কের অর্থ বিতরণের দাবি উঠেছে। ইউরোপের ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা ও উত্তর, মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থা কনকাকাফ এই দাবি জানিয়েছে।

প্রস্তাবটি বাস্তবায়ন হলে বাংলাদেশসহ ফিফার ২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশন এককালীন বড় অঙ্কের আর্থিক সহায়তা পেতে পারে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিটি দেশ পেতে পারে ১ কোটি ডলার

ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে পাঠানো এক চিঠিতে উয়েফা সভাপতি আলেক্সান্ডার সেফেরিন এবং কনকাকাফ সভাপতি ভিক্টর মন্তাগলিয়ানি প্রতিটি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনকে অন্তত ১০ মিলিয়ন বা ১ কোটি মার্কিন ডলার দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন।

বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অর্থের পরিমাণ প্রায় ১২২ কোটি টাকার বেশি। তাদের হিসাবে, ২০২৩-২৬ অর্থবছর শেষে ফিফার রিজার্ভ প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে।

তারা মনে করছেন, ২০৩০ বিশ্বকাপ পর্যন্ত ফিফার প্রয়োজনীয় ব্যয় মেটানোর পরও এই রিজার্ভের একটি বড় অংশ অব্যবহৃত থাকতে পারে। তাই ২০২৭-৩০ চক্রে সদস্য দেশগুলোর ফুটবল উন্নয়নে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

অতিরিক্ত খরচ হবে ২.১১ বিলিয়ন ডলার

২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনকে ১ কোটি ডলার করে দিলে ফিফার মোট ব্যয় হবে প্রায় ২.১১ বিলিয়ন ডলার। উয়েফা ও কনকাকাফের প্রস্তাব অনুযায়ী, এই অর্থ নিয়মিত উন্নয়ন তহবিলের বাইরে অতিরিক্ত অনুদান হিসেবে দেওয়া হবে।

অর্থটি মূলত ফুটবল অবকাঠামো উন্নয়ন ও দেশগুলোর ফুটবলের মান বাড়ানোর কাজে ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।

‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ নিয়ে বিরোধ

এই অর্থ বিতরণের দাবির পেছনে ফিফার ‘ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ’ বা এফএফই পরিকল্পনাকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিরোধও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

ইনফান্তিনোর পরিকল্পনায় বিশ্বকাপসহ ফিফার বিভিন্ন বড় টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক ও টিকিটিং স্বত্ব পরিচালনার জন্য নতুন একটি কোম্পানি গঠনের প্রস্তাব ছিল। ওই কোম্পানির ২১ শতাংশ শেয়ার একটি বহিরাগত বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির পরিকল্পনাও করা হয়েছিল।

তবে জাতীয় ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনগুলোর বিরোধিতার মুখে পরিকল্পনাটি প্রকাশের চার দিনের মধ্যেই বাতিল করে ফিফা।

এর আগে ইনফান্তিনো সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোকে জানিয়েছিলেন, পরিকল্পনাটি অনুমোদিত হলে প্রতিটি দেশ সর্বোচ্চ ৪০ মিলিয়ন ডলার পর্যন্ত পেতে পারে। সমর্থনকারী ফেডারেশনগুলোকে প্রাথমিকভাবে ২০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার প্রস্তাবও ছিল।

স্বাধীন আর্থিক পর্যালোচনার দাবি

উয়েফা ও কনকাকাফের চিঠিতে বলা হয়েছে, ফিফার প্রকাশিত আর্থিক হিসাব ও বাজেট বিশ্লেষণ করেই তারা অতিরিক্ত অর্থ বিতরণের প্রস্তাব দিয়েছে। তাদের দাবি, সদস্য দেশগুলোকে অর্থ দেওয়ার জন্য বিতর্কিত এফএফই পরিকল্পনার প্রয়োজন নেই।

দুই সংস্থা ফিফার আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে স্বাধীন পর্যালোচনা বা অডিটের দাবিও জানিয়েছে। এ ক্ষেত্রে ফিফার আর্থিক হিসাব এবং বাজেট তৈরির সময় ব্যবহৃত বিভিন্ন অনুমান ও তথ্য পর্যালোচনার সুযোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

তাদের মতে, ফিফার রিজার্ভে থাকা অর্থ বিশ্ব ফুটবল এবং ২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের কল্যাণের জন্য ব্যবহারের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।

অন্যান্য কনফেডারেশনের সমর্থন চাওয়া হয়েছে

প্রস্তাবটির পক্ষে সমর্থন আদায়ে এশিয়া, আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও ওশেনিয়ার ফুটবল কনফেডারেশনগুলোর সভাপতিদের কাছেও চিঠি পাঠিয়েছে উয়েফা ও কনকাকাফ।

এদিকে ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের চেয়ারপারসন ডেবি হিউইটও ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো ও মহাসচিব ম্যাটিয়াস গ্রাফস্ট্রমকে চিঠি দিয়েছেন। সেখানে এফএফই পরিকল্পনা সংক্রান্ত গোপন নথি প্রকাশের দাবি জানানো হয়েছে।

আগামী ১৫ অক্টোবর ফিফা কাউন্সিলের পরবর্তী সভা হওয়ার কথা রয়েছে। এর আগে সংশ্লিষ্ট গুরুত্বপূর্ণ নথি কাউন্সিলের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়ার দাবিও উঠেছে।

বাংলাদেশের ফুটবলেও প্রভাব পড়তে পারে

ফিফা শেষ পর্যন্ত সদস্য দেশগুলোকে অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিলে বাংলাদেশও এর আওতায় আসতে পারে। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে) এককালীন বড় অঙ্কের অর্থ পেতে পারে।

এই অর্থ পাওয়া গেলে দেশের ফুটবল অবকাঠামো, প্রশিক্ষণ এবং সামগ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রমে তা ব্যবহারের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে ফিফা এখনো সদস্য দেশগুলোকে ১ কোটি ডলার করে দেওয়ার কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়নি।