প্রতিটি গুমের ঘটনা তদন্ত করে বিচার শুরু হয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় : ১২:৩৯:৩১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ৩০ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৪৬ বার পড়া হয়েছে
সরকার দেশে সংঘটিত প্রতিটি গুমের ঘটনা তদন্ত করে বিচার কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
শনিবার (২৯ আগস্ট) আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পলাতক ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে তৈরি করা গোপন বন্দিশালাগুলো জনপরিসরে ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিতি পেয়েছিল। দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংস্থাগুলোর হিসাব অনুযায়ী, ওই সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে ব্যবহার করে সাত শতাধিক মানুষকে গুম করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব ঘটনা অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক।
গুম প্রতিরোধে পৃথক আইনি কাঠামো
তারেক রহমান বলেন, ভবিষ্যতে ‘গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্স’ বন্ধে পৃথক আইনি কাঠামো প্রণয়ন করা হয়েছে। গুমকে তিনি বিশ্বের নিকৃষ্টতম ও ভয়ংকর অপরাধগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, গুম একটি বৈশ্বিক সমস্যা এবং মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন। বিশেষ করে স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা ও রাজনৈতিক সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে ভিন্নমত দমন করতে অনেক সময় রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী বা আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ব্যবহার করে এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হয়।
সংসদে গুম প্রতিরোধ বিল
প্রধানমন্ত্রী জানান, জাতীয় সংসদে ইতোমধ্যে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিল, ২০২৬’ উত্থাপন করা হয়েছে। পাশাপাশি ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন বিল, ২০২৬’-ও সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, বিল দুটি যথাযথ প্রক্রিয়ায় আইনে পরিণত হলে ভবিষ্যতে কেউ গুম বা অপহরণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের সাহস পাবে না।
তারেক রহমান বলেন, গুম বা অপহরণ শুধু একজন মানুষের নিখোঁজ হয়ে যাওয়া নয়। এর সঙ্গে একটি পরিবারের স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা ও ভবিষ্যৎ জড়িয়ে থাকে। নিখোঁজ ব্যক্তির স্বজনরা দীর্ঘদিন অনিশ্চয়তার মধ্যে অপেক্ষা করেন এবং স্বাভাবিকভাবে শোক পালনের সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হন।
এখনো নিখোঁজ ইলিয়াস আলীসহ অনেকে
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০২৪ সালে বীর ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পর সৌভাগ্যবান কয়েকজন গুমের শিকার ব্যক্তি ফিরে এসেছেন। তবে ইলিয়াস আলী ও চৌধুরী আলমের মতো অসংখ্য মানুষের এখনো কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।
তিনি উল্লেখ করেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) রোম সংবিধির ৭(২) অনুচ্ছেদে গুমকে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। তাই গুমের সঙ্গে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে তারেক রহমান গুম বা এনফোর্সড ডিজঅ্যাপিয়ারেন্সের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিচার ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে বিশ্বব্যাপী ঐক্য ও সংহতির আহ্বান জানান।
এবার আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবসের প্রতিপাদ্য—‘ভিক্টিমস ফার্স্ট, অ্যাকশন্স নাউ’।
























