প্রতিবাদ জিয়া পরিষদের
ডেসকোর ক্যাবল চুরির সংবাদ ‘ভিত্তিহীন’
- আপডেট সময় : ০১:৫১:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬
- / ১৫৪০ বার পড়া হয়েছে
ঢাকা ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই পিএলসি (ডেসকো)-এর ডিজিএম (প্রশাসন) সাজেদুল করিমের বিরুদ্ধে ক্যাবল চুরির অভিযোগে প্রচারিত সংবাদকে ‘ভিত্তিহীন, মনগড়া ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছে জিয়া পরিষদ ডেসকো শাখা।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সংগঠনটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক প্রতিবাদলিপিতে প্রচারিত ওই প্রতিবেদনের বিভিন্ন তথ্য নিয়ে আপত্তি জানানো হয়।
প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, গত ২৬ জুন ডেসকোর ডিজিএম (প্রশাসন) সাজেদুল করিমের বিরুদ্ধে ক্যাবল চুরির অভিযোগসংক্রান্ত একটি সংবাদ প্রচার করা হয়। এতে যে ভিডিও ফুটেজ দেখানো হয়েছে, তার একটি ধানমন্ডি ২৭ নম্বর এলাকার। ওই এলাকা ডেসকোর ভৌগোলিক আওতাভুক্ত নয়। সেখানে বিদ্যুৎ বিতরণের দায়িত্ব ঢাকা পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (ডিপিডিসি)।
ভিডিওতে দেখানো ক্যাবল ডেসকোর নয়: প্রতিবাদ
জিয়া পরিষদের দাবি, প্রতিবেদনে একটি ট্রাকে ডেথ ক্যাবল বা পরিত্যক্ত ক্যাবল আনলোড করার দৃশ্য দেখানো হয়েছে। সেটিকেও ডেসকোর ক্যাবল হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। তবে ওই দৃশ্য ডেসকোর এলাকার নয় বলে প্রতিবাদলিপিতে দাবি করা হয়েছে।
প্রতিবাদলিপিতে আরও বলা হয়, ১৯৯৮ সালে ঢাকার উত্তরাঞ্চলে বিদ্যুৎ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করে ডেসকো। আধুনিক বিতরণ ব্যবস্থা গড়ে তোলার সময় ওয়াপদা ও ডেসা আমলের বিভিন্ন ডেথ বা পরিত্যক্ত ক্যাবল মাটির নিচে বিভিন্ন স্থানে থেকে যায়।
এর আগে গত ১৪ মার্চ সাপ্তাহিক ‘দুর্নীতি সমাচার’-এ উত্তরা এলাকায় মাটির নিচে থাকা ডেসার আমলের ডেথ ক্যাবল চুরির অভিযোগে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছিল বলেও প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি
প্রতিবাদলিপি অনুযায়ী, ওই ঘটনার সময় নিরাপত্তা বিভাগের প্রধান সাজেদুল করিমকে অজ্ঞাত নম্বর থেকে জানানো হয়, ডেসকোর কর্মীদের সঙ্গে স্থানীয় লোকজনের ঝামেলা হচ্ছে। পরে তিনি সংশ্লিষ্ট কন্ট্রোলরুমে ফোন করে পরিস্থিতি সম্পর্কে জানতে চান।
কন্ট্রোলরুম থেকে ক্যাবল কেটে নিয়ে যাওয়ার কথা জানানো হলে সেটি ডেসা আমলের ডেথ বা পরিত্যক্ত ক্যাবল হতে পারে বলে ধারণা করা হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিরাপত্তার স্বার্থে আউটসোর্সিং কর্মী ইসমাইলকে ঘটনাস্থল থেকে অফিসে ফিরে আসতে বলা হয়।
পরে সংশ্লিষ্ট নির্বাহী প্রকৌশলীকে বিষয়টি অবহিত করে হেড অফিসে আসতে বলা হয়। ঘটনার পর ডেসকো একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। কমিটির তদন্ত এখনো চলমান রয়েছে বলে প্রতিবাদলিপিতে দাবি করা হয়েছে।
কর্মচারীকে সাময়িক অব্যাহতি নিয়ে ব্যাখ্যা
প্রতিবাদলিপিতে বলা হয়, প্রতিবেদনে অনুসন্ধানের সময় তথ্য দেওয়ার সন্দেহে একজন ডেসকো কর্মচারীকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে জিয়া পরিষদের দাবি, কর্মচারী রফিকুল ইসলাম পূর্বানুমতি ছাড়া ক্যামেরাম্যানসহ সাংবাদিকদের উত্তরা ডেসকোর কেপিআই স্থাপনায় প্রবেশ করিয়ে প্রায় ৩০ মিনিট সাক্ষাৎকার দেন।
এ ছাড়া ডেসকোর গোপনীয় ও দাপ্তরিক স্পর্শকাতর তথ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের বিভিন্ন গ্রুপে শেয়ার করার অভিযোগও আনা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। এসব কারণেই তাকে সাময়িক অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে বলে প্রতিবাদলিপিতে উল্লেখ করা হয়।
রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে আগে দাপ্তরিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তদন্ত কমিটি গঠনের কথাও এতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি অতীতে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
‘সাজেদুল করিমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির রেকর্ড নেই’
প্রতিবাদলিপিতে দাবি করা হয়, সাজেদুল করিম দীর্ঘদিন ধরে ডেসকোতে নিষ্ঠা, সততা ও স্বচ্ছতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। তার দীর্ঘ কর্মজীবনে অনিয়ম বা দুর্নীতির কোনো রেকর্ড নেই বলেও দাবি করা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর ডেসকোর বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা অস্থিতিশীল করার চেষ্টা মোকাবিলায় যোগ্য কর্মকর্তা হিসেবে সাজেদুল করিমকে ডিজিএম (প্রশাসন) পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়।
তার পদোন্নতির বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন থাকায় একটি স্বার্থান্বেষী মহল তাকে সামাজিক ও প্রশাসনিকভাবে হেয় করার চেষ্টা করছে বলেও অভিযোগ করেছে জিয়া পরিষদ ডেসকো শাখা।
প্রতিবাদলিপিতে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমকে যাচাই ছাড়া কোনো সংবাদ প্রচার না করার আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে ওই সংবাদে বিভ্রান্ত না হতে দেশবাসী ও ডেসকো কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।























