০২:১৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬

পলাতক স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের পথ সুগম করবেন না: প্রধানমন্ত্রী

এস. এ টিভি
  • আপডেট সময় : ১২:১৩:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬
  • / ১৫৪৩ বার পড়া হয়েছে
এস. এ টিভি সর্বশেষ নিউজ পেতে অনুসরণ করুন গুগল নিউজ (Google News) ফিডটি

জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দলের নয়; এর প্রকৃত শক্তি দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, অহেতুক ইস্যু তৈরি করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হলে তা পতিত, পরাজিত ও পলাতক স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের পথ সুগম করতে পারে।

বুধবার (৫ আগস্ট) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি পরিদর্শন করেন। সেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, শহীদদের আত্মত্যাগ, তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র ও সংরক্ষিত নিদর্শন ঘুরে দেখেন। পরে তিনি ‘জুলাই ৩৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অংশ নেন। এ সময় জাদুঘর প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থপতি, ইতিহাসবিদ, গবেষক ও শিল্পীদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ৫ আগস্ট বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বহু মানুষ গুম, অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে হাজারো ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এই জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরবে। এটি শুধু ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ করবে না, বরং বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসের ধারক হিসেবে কাজ করবে। আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণঅভ্যুত্থান দমনে গণতন্ত্রকামী মানুষের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল। আন্দোলনের সময় হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালানো হয়।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হতাহতদের প্রতিটি ঘটনার স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য বিচার আইনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। এটি কোনো প্রতিহিংসামূলক বিচার হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হচ্ছে এবং অনেক আহত যোদ্ধাকে নিয়মিত সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে।

দেশ পুনর্গঠনের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, শহীদদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়েছে। ৩১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিও কাজ শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই বাংলাদেশ আর কখনোই তাবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত হবে না”—এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।

এস. এ টিভি সমন্ধে

SATV (South Asian Television) is a privately owned ‘infotainment’ television channel in Bangladesh. It is the first ever station in Bangladesh using both HD and 3G Technology. The channel is owned by SA Group, one of the largest transportation and real estate groups of the country. SATV is the first channel to bring ‘Idol’ franchise in Bangladesh through Bangladeshi Idol.

যোগাযোগ

বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬,
গুলশান-১, ঢাকা-১২১২,
বাংলাদেশ।
ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০
ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪
ই-মেইল: info@satv.tv
ওয়েবসাইট: www.satv.tv

© সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত ২০১৩-২০২৩। বাড়ী ৪৭, রাস্তা ১১৬, গুলশান-১, ঢাকা-১২১২, বাংলাদেশ। ফোন: +৮৮ ০২ ৯৮৯৪৫০০, ফ্যাক্স: +৮৮ ০২ ৯৮৯৫২৩৪

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

পলাতক স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের পথ সুগম করবেন না: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ১২:১৩:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ৫ অগাস্ট ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থান কোনো একক ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা রাজনৈতিক দলের নয়; এর প্রকৃত শক্তি দেশের গণতন্ত্রকামী জনগণ—এমন মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে বলেছেন, অহেতুক ইস্যু তৈরি করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি করা হলে তা পতিত, পরাজিত ও পলাতক স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের পথ সুগম করতে পারে।

বুধবার (৫ আগস্ট) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে দেওয়া লিখিত বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

অনুষ্ঠানে সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধন শেষে প্রধানমন্ত্রী জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি পরিদর্শন করেন। সেখানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি, শহীদদের আত্মত্যাগ, তৎকালীন সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের আলোকচিত্র, ভিডিওচিত্র ও সংরক্ষিত নিদর্শন ঘুরে দেখেন। পরে তিনি ‘জুলাই ৩৬’ শীর্ষক আলোচনা সভায় অংশ নেন। এ সময় জাদুঘর প্রতিষ্ঠার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্থপতি, ইতিহাসবিদ, গবেষক ও শিল্পীদের ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী এবং শহীদ পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী।

উদ্বোধনী বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ৫ আগস্ট বাংলাদেশের গণতন্ত্রের ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী মাইলফলক। দীর্ঘ দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বহু মানুষ গুম, অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে হাজারো ছাত্র-জনতা শহীদ হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এই জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামের ইতিহাস তুলে ধরবে। এটি শুধু ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সংরক্ষণ করবে না, বরং বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসের ধারক হিসেবে কাজ করবে। আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণঅভ্যুত্থান দমনে গণতন্ত্রকামী মানুষের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হয়েছিল। আন্দোলনের সময় হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালানো হয়।

তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হতাহতদের প্রতিটি ঘটনার স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য বিচার আইনের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হবে। এটি কোনো প্রতিহিংসামূলক বিচার হবে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

আহত জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। গুরুতর আহতদের উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হচ্ছে এবং অনেক আহত যোদ্ধাকে নিয়মিত সম্মানী ভাতা দেওয়া হচ্ছে।

দেশ পুনর্গঠনের বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, শহীদদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার কাজ শুরু হয়েছে। ৩১ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কার্যক্রম এগিয়ে চলছে। পাশাপাশি সংবিধান সংশোধন-সংক্রান্ত বিশেষ কমিটিও কাজ শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই বাংলাদেশ আর কখনোই তাবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত হবে না”—এই প্রত্যাশা ব্যক্ত করে তিনি জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘরের শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করেন।