জুয়া-মাদক নিয়ন্ত্রণে অপরাধ কমানোর তাগিদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
- আপডেট সময় : ০৩:৫৬:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / ১৫৩৬ বার পড়া হয়েছে
বর্তমানে সংঘটিত অনেক অপরাধের পেছনে জুয়া ও মাদককে অন্যতম মূল কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, অপরাধ সংঘটনের পর শুধু গ্রেফতার, বিচার ও শাস্তি দিলেই অপরাধ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এজন্য অপরাধের মূল কারণ চিহ্নিত করে তা মোকাবিলা করতে হবে।
বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুরে বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ক্র্যাব) ৪৩তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অপরাধের মূল কারণ খুঁজে বের করার আহ্বান
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অপরাধ দমনে শুধু অপরাধ সংঘটনের পর ব্যবস্থা নিলে হবে না। কেন অপরাধ সংঘটিত হচ্ছে, তা বিশ্লেষণ ও গবেষণার মাধ্যমে খুঁজে বের করতে হবে।
তিনি বলেন, অনেক গুরুতর অপরাধের সঙ্গে মাদকাসক্তি ও জুয়ার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়। অপরাধ একটি উপসর্গ। এর মূল কারণ চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে পারলে অপরাধের হার কমানো সম্ভব।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, জুয়া ও মাদকের বিস্তার নিয়ন্ত্রণে আনা গেলে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য অপরাধও কমানো সম্ভব হতে পারে।
ক্রাইম রিপোর্টারদের নিরাপত্তায় সহায়তার উদ্যোগ
ক্রাইম রিপোর্টিং করতে গিয়ে সাংবাদিকরা ঝুঁকির মুখে পড়লে তাদের সহায়তার ব্যবস্থা করার কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সরকারি উদ্যোগ কিংবা করপোরেট সামাজিক দায়বদ্ধতার (সিএসআর) মাধ্যমে এ ধরনের সহায়তা দেওয়া যায় কি না, তা নিয়ে চেষ্টা করা হবে।
তিনি বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কোনো সাংবাদিক আহত বা ক্ষতিগ্রস্ত হলে তাদের সহযোগিতার ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ক্রাইম রিপোর্টিং অনেকাংশে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার অংশ। তাই অপরাধের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে সাংবাদিকদের প্রযুক্তি ও নতুন ধরনের অপরাধ সম্পর্কে দক্ষতা বাড়াতে হবে।
সাইবার অপরাধ মোকাবিলায় আধুনিক ইউনিট
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সময়ের সঙ্গে অপরাধের ধরন দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। ডিজিটাল ও সাইবার স্পেসে অপরাধ বাড়ায় ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষা এবং তথ্য বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে শিগগির আধুনিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি। পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ও বিভাগীয় পর্যায়ে আধুনিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট এবং ল্যাব স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
জেলা পর্যায়েও সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি থানা ও উপজেলা পর্যায়ে এ বিষয়ে দায়িত্বশীল কর্মকর্তা রাখার কথাও জানান মন্ত্রী।
এর আগে মঙ্গলবার পুলিশ স্টাফ কলেজের পরিচালনা বোর্ডের সভায়ও তিনি জানিয়েছিলেন, একজন অতিরিক্ত আইজিপির নেতৃত্বে পূর্ণাঙ্গ ও প্রাতিষ্ঠানিক সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা করছে সরকার।
সময়ের সঙ্গে আইন সংশোধনের প্রয়োজন
অপরাধের ধরন পরিবর্তনের সঙ্গে আইনও পরিবর্তন করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার ভাষ্য, পুরোনো আইন দিয়ে নতুন ধরনের অপরাধ সবসময় মোকাবিলা করা সম্ভব হয় না।
অনলাইন ও সাইবার স্পেসে জুয়ার বিস্তারের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, সময়ের চাহিদা অনুযায়ী নতুন আইন প্রণয়ন এবং বিদ্যমান আইন সংশোধন করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, কোনো অপরাধের ক্ষেত্রে আইন দুর্বল হলে আসামিকে গ্রেফতারের পরও দ্রুত জামিন বা মুক্তির সুযোগ তৈরি হতে পারে। তাই অপরাধের ধরন ও সমাজের চাহিদা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি সংস্কার করতে হবে।
অপরাধ নিয়ন্ত্রণে গণমাধ্যমের ভূমিকা
সাংবাদিকদের দায়িত্বের কথা তুলে ধরে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, আইন প্রয়োগের পাশাপাশি সামাজিক সচেতনতা তৈরিতেও গণমাধ্যমের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
আইন প্রণয়ন, আইন প্রয়োগ, বিচারব্যবস্থা এবং সাংবাদিকদের দায়িত্বশীলতার সমন্বয়ের মাধ্যমে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই সঙ্গে ক্রাইম রিপোর্টারদের সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সরকারি সংস্থাগুলোর সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানে ক্রাইম রিপোর্টারদের জন্য সনদ দেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করার কথা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। ঝুঁকিপূর্ণ রিপোর্টিং ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বা পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে সনদ দেওয়া যায় কি না, তা যাচাই করে দেখার কথা বলেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ, প্রধানমন্ত্রীর সহকারী (রাজনৈতিক) মো. রাশেদ খাঁন, বাংলাদেশ সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামালসহ অন্যরা।





















